Showing posts with label Mexico. Show all posts
Showing posts with label Mexico. Show all posts

Friday, August 4, 2017

মেহিকোর কাছে ১-৫ হারল ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৭ দল

শান্তনু ব্যানার্জি


চারদেশীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মেহিকোর কাছে ১-৫ ব্যবধানে হেরে গেল ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৭ দল। লুইস নর্তন দে মাতোসের প্রশিক্ষণে ভারতীয় যুব দল মেহিকো সিটি-তে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রায় উড়েই গেল। ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল পেয়ে যায় মেহিকো। পিছিয়ে পড়েও ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল ভারত। ৮ মিনিটে কোমল এবং ২৭ মিনিটে সঞ্জীব গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। উল্টে, ২৩ মিনিটে ২-০ এগিয়ে যায় মেহিকো। বিরতির পরে মাতোসের ফুটবলাররা গোলের জন্যে তেড়েফুঁড়ে আক্রমণে উঠে আসে এবং ৫২ মিনিটে ব্যবধান কমিয়ে ফেলে। পেনাল্টি থেকে অমরজিৎ সিং এর করা গোলে। কিন্তু এরপর মেহিকোর যুব দল আর ভারতকে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ দেয়নি। ৫৮ এবং ৮৮ মিনিটে আরও দুটি গোলে ৪-১। ম্যাচ শেষের এক মিনিট আগে ফের গোল। অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে এই চতুর্দেশীয় প্রতিযোগিতায় খেলতে গিয়েছে ভারত। পরের খেলা ৪ অগাস্ট কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। দেশের মাঠে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ভারতের গ্রুপেই আছে কলম্বিয়া। মেহিকো সিটিতেই এই ম্যাচ হবে। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের পর ভারতীয় দল শেষ ম্যাচ খেলবে চিলে-র বিরুদ্ধে, আগামী ৬ অগাস্ট।

Monday, June 20, 2016

শতবার্ষিকী কোপায় ‘সান্তাক্লারাজো’, এবার সাত গোল চিলে-র!

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

eduardo-vargas

মিনেইরাজো নয়, এবার সান্তাক্লারাজো!

সে ছিল বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ব্রাজিলের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে, বেলো ওরিজোন্তে-তে। জার্মানির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ, ১-৭ হার, নেইমার ও থিয়াগো সিলভাহীন ব্রাজিলের। দাভিদ লুইজরা দলে থাকলে যেমনটা প্রত্যাশিত! মেহিকোর (মেক্সিকো) ব্যাপারটা তেমন নয়, একেবারেই। সবাই-ই ছিলেন, ছিল জনসমর্থনও। শুধু, চিলে বোঝাল, তাঁরা এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা দল, নিজেদের দিনে যাঁরা ছিঁড়ে ফেলতে পারেন যে কোনও রক্ষণ।

শতবার্ষিকী কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে সাত গোল খাওয়ার আগে, মেহিকো টানা ২২ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। আর শতবার্ষিকী কোপায় খেলতে আসার আগে, আসার পরেও প্রথম ম্যাচে মেসিহীন আর্জেন্তিনার কাছে ০-২ হারার পর, হোর্খে সাম্পাওলির জায়গায় দায়িত্ব-পাওয়া নতুন কোচ খুয়ান আন্তোনিও পিজ্জির রেকর্ড ছিল পাঁচ ম্যাচে এক জয়। শেষ আট দিনে তিনটি ম্যাচ সরাসরি জিতলেন তিনি। তাঁর দলের কাছেই শেষ পর্যন্ত থামল মেহিকোর দৌড়। এদুয়ার্দো ভার্গাস একাই চার গোল করলেন, এদসন পুকের জোড়া গোলের পাশে আলেক্সি সানচেজের একটি। ভার্গাস উঠে এলেন এই শতবার্ষিকী কোপার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে, মোট ৬ গোল নিয়ে। লিওনেল মেসিও এখন দু-গোলে পিছিয়ে ভার্গাসের কাছে!

গত বছর নিজেদের দেশে কোপা জিতেছিল এই চিলে-ই। ফাইনালে আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে, টাইব্রেকারে। আর্তুরো ভিদাল খেলেন বায়ার্ন মিউনিখে, সানচেজ বার্সেলোনা ছেড়ে এখন আর্সেনালে, গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো বার্সেলোনার গোল সামলান লা লিগায়। প্রধানত তিন বিভাগে এই তিন নেতাকে ধরেই সাম্পাওলি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন চিলে-কে। দেশের প্রথম ট্রফি জেতার আনন্দে হোক বা আত্মতুষ্টিতে, সাময়িক ছন্দহীন ছিলেন ভিদালরা। যার প্রভাব পড়েছিল নতুন ম্যানেজারের শুরুর দিকে। প্রতিযোগিতায় এসে কিন্তু সেই জড়তা কেটে গিয়ে আবার খেতাব ধরে রাখার লড়াইতে আপাতত উজ্জ্বল চিলে।

মেহিকোর ফুটবলের সবচেয়ে কালো রাত। খুয়ান কার্লোস ওসোরিওর খ্যাতি কার্যকারিতায় নজর দেন বলে। অভিজ্ঞ রাফায়েল মার্কেজ এই সপ্তাহে ছুটি নিয়েছিলেন সদ্যোজাত পুত্রসন্তানকে দেখতে গিয়ে। সেই কারণে তাঁকে এই ম্যাচে খেলানো হয়নি। ৩৭ বছরের মার্কেজ এক সময় বার্সেলোনায় খেলেছিলেন, ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের আমলে। তাঁর উপস্থিতি কি আটকাতে পারত চিলের ফরোয়ার্ডদের এই আক্রমণের ঢেউ? মিনেইরাজো ম্যাচে থিয়াগো সিলভার অনুপস্থিতির মতো এই প্রশ্নটাও বোধহয় থেকেই গেল ফুটবল ইতিহাসে! আর সেই দিনের ব্রাজিলের মতো মেহিকোর সব ফুটবলারই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন এমন লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের পর। চিচরিতো মনে করছেন, এ লজ্জা মেহিকোর ফুটবলের। তবে, এমন সিদ্ধান্তের পরও কোচ ওসোরিও-কে দোষ না দিয়ে তাঁর পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছেন মার্কেজ, নিশ্চিতভাবেই যা ভুলতে পারবেন না কোচ ওসোরিও।

সেমিফাইনালে একটাই সমস্যা চিলের। ভিদাল আনাবশ্যক হলুদ কার্ড দেখে নিজেকে সরিয়ে নিলেন যেন! ঠিক এমনটাই করেছিলেন ব্রাজিলের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা, কোয়ার্টার ফাইনালে, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। হাত দিয়ে বল আটকে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন থিয়াগো, বাদ পড়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনাল থেকে। বিপক্ষে কিন্তু হামেস রদরিগেজের কলম্বিয়া, দুর্দান্ত খেলার পাশাপাশি শারীরিক শক্তির লড়াইতে যারা একেবারেই পিছিয়ে থাকে না!

Wednesday, June 15, 2016

মেসি গোল না পেলেও ছন্দে আর্জেন্তিনা

 

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

messi hedbutta

আর্জেন্তিনা ৩ (লামেলা ১৩, লাভেজি ১৫, কুয়েস্তা ৩২)

বলিভিয়া ০

গোলরক্ষককেও কাটিয়ে নিলেন। দুপায়ের ফাঁক দিয়ে বলটা বের করে নিয়ে গোলের দিকে। ততক্ষণে সহকারী রেফারি পতাকা তুলে ধরেছেন। রেফারির বাঁশি। লিওনেল মেসির ৫৪তম গোল এল না আর্জেন্তিনা জার্সিতে। কিন্তু, ছন্দে আছেন বিলক্ষণ বোঝাতে, ওই ‘নাটমেগ’ আবারও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ল, সঙ্গে সঙ্গেই!

অঘটন কিছু ঘটেনি। গ্রুপ ডি-র শীর্ষে থেকে নকআউটে যাওয়া প্রত্যাশিত ছিল আর্জেন্তিনার কাছে। গেলও আলবিসেলেস্তে। গ্রুপ সি-র শীর্ষে-থাকা মেহিকোর বিরুদ্ধে আপাতত খেলতে হচ্ছে না। কোয়ার্টার ফাইনালে সামনে ভেনেজুয়েলা। মেসিকে ৪৫ মিনিট খেলিয়ে তৈরি রাখলেন কোচ তাতা মার্তিনো। দিমারিয়া, মাসচেরানো, রোখো – কাউকেই খেলালেন না। তাঁদের ছাড়াই প্রথমার্ধে তিন গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়েনি। ততটা চেষ্টাও করেননি আর্জেন্তিনীয়রা। আরও একটি গোল পেতে চেয়েছিলেন মেসি। তা অবশ্য হল না!

পানামা-কে ৪-২ ব্যবধানে চিলে হারানোর পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, বলিভিয়ার বিরুদ্ধে তেমন বড় ব্যবধানে না হারলেই গ্রুপের শীর্ষে থাকবে আর্জেন্তিনা। তাই কোচকে আর কোনও ঝুঁকিই নিতে হয়নি। বলিভিয়া আগের দুটি ম্যাচ হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছিল। তা ছাড়া, মাটিতে নেমে এলে বলিভিয়ার পারফরম্যান্স কখনও সেই উচ্চতায় পৌঁছয় না, ঘরের মাঠে উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে যেখানে যেতে পারে। গোটা ম্যাচে বলিভিয়ার পারফরম্যান্স বলতে যা মনে পড়বে, কাম্পোস আর মেসির মাথায় মাথা লাগিয়ে যুদ্ধং দেহি মনোভাব। চোট সারিয়ে সবে মাঠে ফেরা মেসিকে আটকাতে অবৈধ উপায় এর সাহায্য নিয়েছিলেন কাম্পোস। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর উঠে রাগে গরগর করতে করতেই এগিয়ে আসেন মেসি। দুজনের মাথা তখন একই জায়গায়। দুহাত দিয়ে মেসিকে ঠেলে সরিয়েও দিলেন কাম্পোস। কী কী বলেছিলেন দুজনে দুজনকে, বলা অসম্ভব। কিন্তু, খুব একটা ভাল ভাল কথা যে বলেননি, শরীরী ভাষায় পরিষ্কার!

অপ্রীতিকর মুহূর্ত বলতে ওইটুকুই। আর্জেন্তিনা অনেক আগেই ম্যাচ শেষ করে ফেলেছিল। ১৩ মিনিটে এরিক লামেলা গোল করলেন ফ্রি কিক থেকে। আগের ম্যাচে মেসি করেছিলেন। ফলে, কোপায় এবার দুটি গোল হল আর্জেন্তিনার, ফ্রি কিক থেকে। ঠিক দুমিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোল। লাভেজি, যিনি আগের দুটি ম্যাচে শুরু থেকে খেলার সুযোগ পাননি, মেসি না-থাকায় তাঁকেও প্রথম এগারোয় সুযোগ দিয়েছিলেন কোচ। সম্মান রাখলেন লাভেজি, দলের দ্বিতীয় গোল করে। আর তৃতীয় গোলের পাস ভিকতর কুয়েস্তাকে বাড়িয়ে ম্যাচের সেরা।

চিন্তা বলতে একটাই। ইগাইন-আগেরোর গোল না-পাওয়া। নকআউটে ছন্দ পেলেই চলবে আর্জেন্তিনার, ২৩ বছর পর বড় ট্রফি পেতে হলে। বেঞ্চে বসে থাকা একেবারেই পছন্দ নয় মেসির। তাই-ই হয়ত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে-নামানো। একেবারেই না-নামালেই বা কী ক্ষতি হত আর্জেন্তিনার? তাঁকে পুরোপুরি ছন্দে তো দরকার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে, তাই না?

কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল

১৭ জুন – আমেরিকা-ইকুয়েদর, সকাল ৭-০০

১৮ জুন – পেরু-কলম্বিয়া, সকাল ৫-৩০

১৯ জুন – আর্জেন্তিনা-ভেনেজুয়েলা, ভোর ৪-০০

১৯ জুন – মেহিকো-চিলে, সকাল ৭-৩০