মেসি গোল না পেলেও ছন্দে আর্জেন্তিনা
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
আর্জেন্তিনা ৩ (লামেলা ১৩, লাভেজি ১৫, কুয়েস্তা ৩২)
বলিভিয়া ০
গোলরক্ষককেও কাটিয়ে নিলেন। দুপায়ের ফাঁক দিয়ে বলটা বের করে নিয়ে গোলের দিকে। ততক্ষণে সহকারী রেফারি পতাকা তুলে ধরেছেন। রেফারির বাঁশি। লিওনেল মেসির ৫৪তম গোল এল না আর্জেন্তিনা জার্সিতে। কিন্তু, ছন্দে আছেন বিলক্ষণ বোঝাতে, ওই ‘নাটমেগ’ আবারও সোশ্যাল নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ল, সঙ্গে সঙ্গেই!
অঘটন কিছু ঘটেনি। গ্রুপ ডি-র শীর্ষে থেকে নকআউটে যাওয়া প্রত্যাশিত ছিল আর্জেন্তিনার কাছে। গেলও আলবিসেলেস্তে। গ্রুপ সি-র শীর্ষে-থাকা মেহিকোর বিরুদ্ধে আপাতত খেলতে হচ্ছে না। কোয়ার্টার ফাইনালে সামনে ভেনেজুয়েলা। মেসিকে ৪৫ মিনিট খেলিয়ে তৈরি রাখলেন কোচ তাতা মার্তিনো। দিমারিয়া, মাসচেরানো, রোখো – কাউকেই খেলালেন না। তাঁদের ছাড়াই প্রথমার্ধে তিন গোল। দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান বাড়েনি। ততটা চেষ্টাও করেননি আর্জেন্তিনীয়রা। আরও একটি গোল পেতে চেয়েছিলেন মেসি। তা অবশ্য হল না!
পানামা-কে ৪-২ ব্যবধানে চিলে হারানোর পরই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল, বলিভিয়ার বিরুদ্ধে তেমন বড় ব্যবধানে না হারলেই গ্রুপের শীর্ষে থাকবে আর্জেন্তিনা। তাই কোচকে আর কোনও ঝুঁকিই নিতে হয়নি। বলিভিয়া আগের দুটি ম্যাচ হেরে প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে গিয়েছিল। তা ছাড়া, মাটিতে নেমে এলে বলিভিয়ার পারফরম্যান্স কখনও সেই উচ্চতায় পৌঁছয় না, ঘরের মাঠে উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে যেখানে যেতে পারে। গোটা ম্যাচে বলিভিয়ার পারফরম্যান্স বলতে যা মনে পড়বে, কাম্পোস আর মেসির মাথায় মাথা লাগিয়ে যুদ্ধং দেহি মনোভাব। চোট সারিয়ে সবে মাঠে ফেরা মেসিকে আটকাতে অবৈধ উপায় এর সাহায্য নিয়েছিলেন কাম্পোস। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পর উঠে রাগে গরগর করতে করতেই এগিয়ে আসেন মেসি। দুজনের মাথা তখন একই জায়গায়। দুহাত দিয়ে মেসিকে ঠেলে সরিয়েও দিলেন কাম্পোস। কী কী বলেছিলেন দুজনে দুজনকে, বলা অসম্ভব। কিন্তু, খুব একটা ভাল ভাল কথা যে বলেননি, শরীরী ভাষায় পরিষ্কার!
অপ্রীতিকর মুহূর্ত বলতে ওইটুকুই। আর্জেন্তিনা অনেক আগেই ম্যাচ শেষ করে ফেলেছিল। ১৩ মিনিটে এরিক লামেলা গোল করলেন ফ্রি কিক থেকে। আগের ম্যাচে মেসি করেছিলেন। ফলে, কোপায় এবার দুটি গোল হল আর্জেন্তিনার, ফ্রি কিক থেকে। ঠিক দুমিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোল। লাভেজি, যিনি আগের দুটি ম্যাচে শুরু থেকে খেলার সুযোগ পাননি, মেসি না-থাকায় তাঁকেও প্রথম এগারোয় সুযোগ দিয়েছিলেন কোচ। সম্মান রাখলেন লাভেজি, দলের দ্বিতীয় গোল করে। আর তৃতীয় গোলের পাস ভিকতর কুয়েস্তাকে বাড়িয়ে ম্যাচের সেরা।
চিন্তা বলতে একটাই। ইগাইন-আগেরোর গোল না-পাওয়া। নকআউটে ছন্দ পেলেই চলবে আর্জেন্তিনার, ২৩ বছর পর বড় ট্রফি পেতে হলে। বেঞ্চে বসে থাকা একেবারেই পছন্দ নয় মেসির। তাই-ই হয়ত দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে-নামানো। একেবারেই না-নামালেই বা কী ক্ষতি হত আর্জেন্তিনার? তাঁকে পুরোপুরি ছন্দে তো দরকার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে, তাই না?
কোপার কোয়ার্টার ফাইনাল
১৭ জুন – আমেরিকা-ইকুয়েদর, সকাল ৭-০০
১৮ জুন – পেরু-কলম্বিয়া, সকাল ৫-৩০
১৯ জুন – আর্জেন্তিনা-ভেনেজুয়েলা, ভোর ৪-০০
১৯ জুন – মেহিকো-চিলে, সকাল ৭-৩০
No comments