Friday, October 9, 2026

কাশীনাথ ভট্টাচার্য / ৪৭ বছর পর কলকাতা ‘‌ডাবল’‌ মোহনবাগানের

 


মোহনবাগান — ১ (‌জেলিকোভিচ ৪৫)‌

ইস্টবেঙ্গল — ০

 

ডার্বির অতি–‌আচার!

২৫ জুলাই, ২৩ অগাস্ট, ৭ সেপ্টেম্বরের পর ৮ অক্টোবর, আবার! এই বছর ধরলে গতবারের আইএসএল ডার্বি হয়েছিল ১৭ মে। অর্থাৎ, গত মে থেকে অক্টোবর — ৬ মাসে ৫ বার। অতি–‌আচার নয়? আইসিসি যেমন যে কোনও টুর্নামেন্টে ভারত–‌পাকিস্তান পারলে দু–‌তিনবার খেলিয়ে দেয়, এখানেও আইএফএ এবং এআইএফএফ জানে, এই ম্যাচটা হলেই চিন্তা নেই। তাই, পারলে প্রতি মাসে একবার খেলা!

এবার অবশ্য ট্রফির লড়াই ছিল, ঠিক যেমন ছিল ২৩ আগস্ট ডুরান্ড ফাইনালে। সেই ম্যাচে এডমান্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিকে ভর করে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। ১২৬তম আইএফএ শিল্ড ফাইনালে গোল মাত্র একটা হলেও মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট উঠে এল ট্রফি হাতে। সাহাল আবদুল সামাদের চিপ বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে ঠাণ্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে সামির জেলিকোভিচ ২২তম শিল্ড এনে দিলেন মোহনবাগানকে, প্রথমার্ধের শেষে গোল পেয়ে।

সময় ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে, দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই। কিন্তু, খেলার শুরুতে যতটা ইতিবাচক মনে হয়েছিল, খেলা যত এগোল, ক্রমশ ছন্দ হারাল লালহলুদ। এডমান্ড ৬ মিনিটে, বিশাল কাইথকে পেয়ে গিয়েছিলেন একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে। কাইথকে এবার পেরতে পারেননি। মিনিট দশেক চাপ রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল তারপরও। মোহনবাগান ফিরে আসে মাঝমাঠের দখল রেখে, রক্ষণ আরও সংগঠিত করে। তেমন বলার মতো সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের পক্ষে মেহতাব সিং কিন্তু ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পেয়েছিলেন যেখান থেকে গোল না–‌করা এমন ম্যাচে প্রায় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের কেউ তাড়া করেননি, মেহতাব তাড়াহুড়োয় বাইরে পাঠান। ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারত ওখানেই।



দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান আরও জমাট। কোচ পানাগিওতিস দিমপেরিস পরিবর্ত হিসাবে মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসোদের নামিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতের বাইরে যেতে দেননি। মাঝমাঠে দেজান দ্রাজিচ, মাঝে মাথা ফেটে যাওয়ার পর ব্যান্ডেজ বেঁধেই খেললেন আর বেঁধে রাখলেন মোহন মাঝমাঠ ও রক্ষণকে, পাশে দীপক টাংরিকে নিয়ে।

ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও লোপেস আবাস বলেছিলেন, এএফসি ম্যাচ তাঁর কাছে অবশ্যই বেশি গুরুত্বের এবং সেই দিকে তাকিয়েই এই ফাইনালে ভারতীয় দল থেকে ফিরে–‌আসা ফুটবলারদের খেলাননি। তাঁর পরিকল্পনায় সফল হয়তো, কিন্তু আইএসএল শুরুর আগে এই হার কি আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেবে না?‌ মোহনবাগানের টেকচাম অভিষেক সিং তো জাতীয় দল থেকে ফিরেও মাঠে থাকলেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিশ্চিত করলেন তাঁর দল মাঠ ছাড়বে ট্রফি নিয়েই। সেমিফাইনালে নর্থইস্টকে সাত গোল দিয়ে যতই ইস্টবেঙ্গল ভয়ের আবহ তৈরি করে থাকুক, বড় ম্যাচ আবারও বুঝিয়ে দিল, ম্যাচের আগে যা–‌ই ঘটে থাকুক, এই ম্যাচের ফলাফলে তার কোনও প্রভাব পড়েনি কখনও, পড়ে না।

১৯৭৯ সালের ৪৭ বছর পর কলকাতা লিগ এবং শিল্ডে ‘‌ডাবল’‌ করল মোহনবাগান। সবুজমেরুন সমর্থকরা পেল পুজোর আদর্শ উপহার, গতবারের পর এবারও আইএফএ শিল্ড। দিনচারেক পর আইএসএল শুরুর আগে বাড়তি অক্সিজেন!‌

ছবি - আইএফএ

Wednesday, October 7, 2026

কাশীনাথ ভট্টাচার্য /‌ উরুগুয়ের হাফডজন!‌ মানসকে ছুঁলেন অনিরুধ


উরুগুয়ে — ৬ (‌নুনিয়েজ পে.‌ ১২, ম্যাক্সিমিলিয়ানো ২৯, ৫৯, সালাসার ৫৩, সানাব্রিয়া ৭১, আগির ৮৬)‌

ভারত — ১ (‌অনিরুধ ২২)‌


মানস ভট্টাচার্যকে ছুঁয়ে ফেললেন অনিরুধ থাপা!

বিরাশি সালে নেহরু কাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল পেয়েছিলেন মানস। ভারত অবশ্য হেরেছিল ১–‌৩। কিন্তু, দু’‌বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে গোল করার নজির এত দিন ছিল মানসের একা। ৬ অক্টোবরের পর অনিরুধের নামও জুড়ে গেল সিনিয়র ফুটবলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোলে।

২২ মিনিটে ভারতের ১–‌১ সমতা ফেরানোর মূল কাণ্ডারি অবশ্যই রায়ান উইলিয়ামস। অস্ট্রেলিয়ায় জন্মে ভারতের হয়ে খেলছেন। পানামার বিরুদ্ধে ১–‌১ ড্র ম্যাচে গোল ছিল তাঁর। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে শট নিলেন তিনি, সরাসরি গোলরক্ষক থিয়াগো ব্রুগমানের দিকে। থিয়াগো বলটা থামালেন বটে, বেশি দূর পাঠাতে পারেননি। অনিরুধ সজাগ ছিলেন, বল অনুসরণ করেছিলেন। তাই গোলরক্ষকের ফেরানো বল একেবারে ফাঁকায় পেয়ে বাঁপায়ে জালে রেখে যান।

প্রথমার্ধে ভারত খারাপ খেলেনি বললে ভুল। বেশ ভাল খেলেছিল খালিদ জামিলের ভারত। হার নিয়ে সংশয় ছিল না বলেই হয়তো তেড়েফুঁড়ে খেলতে পেরেছিল। দেখতেও ভাল লাগছিল, ২০ নম্বরে থাকা দেশের বিরুদ্ধে ১৩৮–‌এ থাকা ভারত ক্রমাগত আক্রমণে আসার চেষ্টা করছে। এডমান্ড এই মাঠে কয়েক সপ্তাহ আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। এবার শুরুতে তিনি গোল পেয়ে গেলে ভারত এগিয়ে যেতে পারত। পরে আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন, যদিও শুরুর মতো নয়, কিন্তু, সুযোগ তো বটেই। তবু বিপক্ষ বক্সে ওই ছটফটানিটা জরুরি ছিল, খালিদ তাঁকে তুলে নিয়ে সাহাল আবদুল সামাদকে নামানোর পর ম্যাচ ততক্ষণে হাতের বাইরে তো বটেই, সেই চেষ্টাগুলোও হল না।



৬–‌১ জিতল উরুগুয়ে, ব্রাজিলের চেয়ে দুটো গোল বেশি দিল, আবার একটা গোল খেলও। তবে, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১১৮ এগিয়ে–‌থাকা দলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ভারতীয়দের ওই প্রচেষ্টাগুলো মনে রাখার মতোই। যথারীতি গুরপ্রীত সিং আবারও প্রথম পোস্টে দাঁড়িয়ে প্রথম পোস্টেই গোল খেলেন, ব্রাজিল ম্যাচের মতোই। মঙ্গলবার অবশ্য তাঁকে মাঠে রাখা হল ৭৫ মিনিট পর্যন্ত। বারদুয়েক গোল বাঁচিয়েও ছিলেন। কিন্তু, ভারতের অধিনায়কের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবার সময় বোধহয় এসে গিয়েছে এবার।

উরুগুয়ের গোলগুলোর প্রথমটি পেনাল্টি থেকে যখন প্রমবীর বক্সের মধ্যে ট্যাকল করতে গিয়ে পায়ে পা লেগে গিয়েছিল। নুনিয়েজ গুরপ্রীতকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি। পরের গোলগুলো প্র‌্যাকটিস গোল!‌ অর্থাৎ, অনুশীলনে যেমন করা হয়, পাস আসে বা থ্রু, স্ট্রাইকার গোল করে যান, তেমন। ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর জোড়া গোল, সালাসার এবং পরিবর্ত সানাব্রিয়ার গোলের সময় ভারতীয় রক্ষণও প্রথমার্ধের তেজ, ক্ষিপ্রতা এবং জায়গা ধরে রাখতে ব্যর্থ। আরও একটা গোলের সন্ধানে ছুটতে চেয়ে রক্ষণে জায়গা ফাঁকা রাখায় ফোরলানের উরুগুয়ে সেই সুযোগগুলো নিল পাক্কা পেশাদারদের মতো। লা সেলেস্তের হয়ে ষষ্ঠ গোল রোদরিগো আগির সোতোর, বড় বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁপায়ের শটে আলবিনো গোমসকে পরাস্ত করে।

তিনটি প্রীতি ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি পানামর বিরুদ্ধে একটি পয়েন্ট। এর বেশি প্রত্যাশাও ছিল না। যদি কেউ ভেবে থাকেন ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র–‌ও করতে পারে ভারত, নিশ্চিতভাবেই কষ্টকল্পনা। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন দেখল দু’‌ম্যাচে ১০ গোল খেতে, ভারতকে। ব্রাজিল নেহাত গা লাগায়নি, হাফডজনের বেশি হতে পারত সেই দিনও। কতটা এগোল ভারতীয় ফুটবল, পরিষ্কার হবে আগামী ম্যাচগুলোয়!‌‌



Monday, October 5, 2026

কাশীনাথ ভট্টাচার্য / ‘মাত্র’ চার গোলে হারার ‘সন্তুষ্টি’ নিয়েই থাকল ভারত!


 

ব্রাজিল – ৪ (এস্তেবাও ২৯, পেদ্রো ৪২, লিনো ৫৮, ৯০+৫)

ভারত – ০


৩ অক্টোবর, ২০২৬

কতটা পথ পেরলে তবে ফুটবলের অভিজাত শ্রেণিতে উত্তরণ ঘটানো যায়?

প্রশ্নটা সহজ, উত্তরও জানা। দুর্গম গিরি, কান্তার মরু, দুস্তর পারাবার পেরতে হয়, ফুটবল মাঠে। কীভাবে, সেটাই আসল। সে জন্য এমন কিছু ম্যাচ খেলতে হয়। বিপক্ষের সঙ্গে যেখানে র্যা্ঙ্কিং-এ ১৩২ ধাপের দুর্লঙ্ঘ্য ব্যবধান। চার গোলের ব্যবধান আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়। ব্রাজিলের জায়গায় কোনও ইওরোপীয় দল হলে পেশাদারিত্বের চূড়ান্ত নজির দেখিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলত শুরু থেকেই বিনিসিউস, গিমারায়াস এবং মার্তিনেইকে মাঠে রেখে। ব্রাজিল তেমন করেনি।

ভারতের প্রাপ্তি বলতে ব্রাজিলের গোলমুখে পৌঁছনো, সেলেকাওদের গোলকিপারের বার তিনেক ১৮ গজের বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে বল বিপদসীমার বাইরে পাঠাতে বাধ্য হওয়া, গোললাইন সেভ একবার, মনবীর সিং, রায়ান উইলিয়ামসদের তিনকাঠি দেখতে পাওয়া ইত্যাদি। সবই সান্ত্বনাসূচক। একসময় কোচ পিকে ব্যানার্জির কথায় শিরোনাম হত - আমরা হেরেছি কিন্তু খেলেছি দুর্দান্ত! প্রাপ্তি খুঁজে নেওয়ার একমাত্র এবং শেষ পথ।


আসলে, অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে পার্থক্যটা মিটিয়ে ফেলার যদি কোনও রাস্তা থাকে ফুটবলে, যতবার সম্ভব এমন এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলে যাওয়াই একমাত্র। এই যে ইওরোপে মাঝেমাঝে ছোট ছোট দেশগুলো হারিয়ে দেয় তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকা দেশগুলোকে, প্রধান কারণ নিয়মিত খেলা। বিশ্বকাপ, ইওরোর বাছাইপর্ব এবং এখন নেশনস লিগ, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপে, লামিন ইয়ামালদের বিরুদ্ধে খেলে ফেলে লাটভিয়া-লিথুয়ানিয়া-আর্মেনিয়া। এক-দু’বারের পর নামভীতিটা কেটে যায়, সাত-আটবারে পৌঁছে মনে হয়, আমরাও কিছু করতেই পারি। তখন আর র্যা ঙ্কিংয়ের ব্যবধান দুস্তর হয় না।

গত শতাব্দীর আটের দশকে নেহরু কাপ খেলা হত কলকাতায়। উরুগুয়ে এবং আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে খেলেছিল ভারত। খারাপ তো নয়ই মনে রাখার মতোই খেলেছিলেন ভাস্কর গাঙ্গুলি, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যরা। কিন্তু প্রসেস বা প্রক্রিয়াটা থেমে যায়। গত চল্লিশ বছরে বারকয়েক কাতার-কুয়েত বা জাপানের বিরুদ্ধে খেলা ছাড়া সেই অর্থে বড় দলের বিরুদ্ধে খেলা হয়ইনি। যুবভারতীতে তো সেই ২০০৪ সালে জিকোর জাপানের বিরুদ্ধে খেলার ২২ বছর পর খেলল ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। সেই জাপানের তুলনায়ও পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা অভিজাত, নিঃসন্দেহে! তাঁরা তাই প্রচুর পরিবর্তন করল দ্বিতীয়ার্ধের দলে, দেখাদেখি ভারতও। কিন্তু, বিশেষ গা ঘামায়নি ব্রাজিল, মাথা তো নয়ই! এই ম্যাচগুলো তাদের কাছে এমনই, হঠাৎ কখনও গতি বাড়িয়ে বা টানা পনেরটা পাস খেলে গোলমুখ খুলে ফেলার চিরাচরিত রীতি মেনে ঝলক দেখানো - ব্যস!


দুই অর্ধে দু’টো করে, মোট চার গোল খেল ভারত, যার মধ্যে প্রথম তিনটি গোলই উপহার দেওয়া। অধিনায়ক গুরপ্রীত সিং প্রথম দুই গোলের ক্ষেত্রে আরও ভাল কিছু করতে পারতেন হয়তো। শুক্রবারই মারকিনিওস আলাদা করে বলেছিলেন বিপক্ষের অধিনায়কের কথা যিনি ৯০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেন বিবেকানন্দ যুবভারতী স্টেডিয়ামে শনিবার। তাঁর ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা আন্তর্জাতিক স্তরের গোলকিপার হিসাবে ঠিকঠাক। কিন্তু গোলকিপারের উচ্চতা বেশি হলে নীচের দিকে বলে শরীর নামানোর সমস্যা থেকেই যায়। প্রথম পোস্টে গোল খেলেন এস্তেবাওয়ের শটে, পেদ্রোর শটটা সামনে থেকে পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলে। বেশি কিছু করার ছিল না, সত্যি। কিন্তু আত্মবিশ্বাস টলে গেল বলে খালিদ জামিল দ্বিতীয়ার্ধে তুলেই নিলেন, সুযোগ দিলেন প্রভসুখন গিলকে। ব্রাজিলও কাউকেই বেশি ব্যথা দিল না, পরে গিলকেও জোড়া গোল দিয়ে।

সুতরাং, সরকারি মতে যুবভারতীতে হাজির ৫১ হাজার ৪০২ জন দর্শক পাঁচবারের বিশ্বজয়ীদের কাছে মাত্র চার গোল খাওয়ার ‘আনন্দ’ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন, আসলে দুরু দুরু বুকে। তিন দিন পর এই মাঠেই সামনে দিয়েগো ফোরলানের কোচিংয়ে উরুগুয়ে যাদের শরীরে ব্রাজিলের মতো দয়ামায়া আছে এমন অভিযোগ কস্মিনকালেও ছিল না!

ছবি - এআইএফএফ

Saturday, October 3, 2026

কাশীনাথ ভট্টাচার্য / ভারতের শেষ ৬ ম্যাচই নাকি দেখেছেন আনচেলোত্তিরা!‌

 




কাশীনাথ ভট্টাচার্য ●‌ কলকাতা

২ অক্টোবর ২০২৬


‘‌ব্রাজিলকে আমরা হাল্কাভাবে নিচ্ছি না’!‌

বলে ফেললেন ভারতের কোচ খালিদ জামিল।‌ কলকাতার জেডব্লু ম্যারিয়টের হোটেলের গঙ্গা ব্যাঙ্কোয়েট হলের সেই মুহূর্তে তৈরি হওয়া ফিসফাস শেষ পর্যন্ত কানে কানে পল্লবিত হতে হতে ছড়িয়ে পড়ল বাইপাস ধরে আরও অনেকটা এসে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের প্রেস সেন্টারেও।‌ অবাক হলেও কেউই অবশ্য খালিদকে দোষারোপ করেননি। ‘‌বলেছেন, তবে না–‌বুঝে’, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দরাজ শংসাপত্র খালিদের জন্য। সহানুভূতির সঙ্গে থাকল অবশ্য সতর্কতাও, ভবিষ্যতে এমন আর না বললেই ভাল!‌

বিপক্ষকে হাল্কাভাবে নেওয়ার প্রশ্ন থাকে দুটি ক্ষেত্রে। এক, বিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে। দুই, বারবার দেখায় বিপক্ষকে বারবার হারানোর পর। শ্রেয়স আয়ারের ভারত যেমন টি২০–‌তে পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে বলতেই পারে, আগে সাতাশবার হারানোর পরও ‘‌হাল্কাভাবে’‌ না–‌নেওয়ার কথা। কিংবা, ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পঞ্চম ব্রাজিল বলতে পারে ১৩৮ নম্বরে–‌থাকা ভারত সম্পর্কে। কিন্তু, এমন তো ব্রাজিলের ইতালীয় কোচ কার্লো ‘‌ডন’‌ আনচেলোত্তিও বলেননি! উল্টে, বিশ্বকাপে আর্লিং হাল্যান্ডকে থামানোর চিন্তা করছিলেন, ভারতের কোনও ফুটবলারকে নিয়ে চিন্তা করছেন কিনা প্রশ্নে তো রায়ান উইলিয়ামসের নামও বললেন আনচেলোত্তি। এমনকি জানালেনও, ভারতের শেষ ছয়টি ম্যাচ নাকি তিনি ও তাঁরা অর্থাৎ ব্রাজিলের সঙ্গে থাকা বিশেষজ্ঞের দল দেখেছেন, কাটাছেঁড়াও করেছেন। দেশ হিসাবে ভারতের তুমুল প্রশংসাও করলেন আনচেলোত্তি এবং তাঁর অধিনায়ক মারকিনিওস‌।

খালিদের অবশ্য অত ভাবনার ব্যাপার নেই। ফুটবলার জীবন থেকেই কম কথার মানুষ। সহজ কথা সহজে বলেন। বিতর্ক থেকে হাজার মাইল দূরে তাঁর ঠিকানা। ‘‌ইতিবাচক থাকতে হবে, যতটা সম্ভব কম ভুল করতে হবে, মাঠে নেমে ১০০ শতাংশ দিতে হবে, ব্রাজিল দুর্ধর্ষ দল, আক্রমণ ও রক্ষণে দুর্দান্ত ভারসাম্য’‌ গোছের কথাগুলো একেবারেই খালিদসুলভ। শুধু, এই হাল্কাভাবে না–‌নেওয়ার প্রসঙ্গেই যেটুকু অফস্টাম্পের অনেক বাইরের বলে ব্যাট চালানো!‌ অপ্রয়োজনীয়। দেশের কোচ হলে কী বলতে হবে না, জানাও দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে, হয়তো এই মন্তব্যের পর তাঁকে বুঝিয়ে দেবেন উচ্চপদস্থ কর্তারা। অবশ্যই যদি তাঁরাও বুঝতে পারেন!‌

যাই হোক, রাত পোহালেই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দলের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দেশের নেইমার অবসর নিয়েছেন, কাসেমিরোকে জাতীয় দলের হয়ে আর খেলাবেন না জানিয়ে দিয়েছেন আনচেলোত্তি, চোট পেয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বার্সেলোনায় ফিরে গিয়েছেন রাফিনিয়া। ২০২৬ বিশ্বকাপে যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে এগারজন আছেন কলকাতায় এসে পৌঁছনো ব্রাজিল দলে যাঁদের আটজনের নাম রীতিমতো ভয়ধরানো — মারকিনিওস, মার্গালায়েস, দোগলাস সানতোস, ব্রুনো গিমারায়েস, দানিলো সানতোস, বিনিসিউস জুনিয়র, এনদ্রিক, গাব্রিয়েল মার্তিনেই। আনচেলোত্তি অবশ্য কোনও প্ররোচনাতেই কান দেননি এবং শনিবারের প্রথম একাদশ সম্পর্কে বারদুয়েক প্রশ্নে এক–‌শব্দে উত্তর দিয়েছেন — ‘‌নো’‌!


ভদ্রতার প্রতিমূর্তি আনচেলোত্তি তো চির–‌অচেনা খালিদকে জড়িয়ে ধরে ‘‌বেস্ট অফ লাক’‌ বলেই মঞ্চ থেকে নেমেছিলেন। ২০০২–‌এর পর কেন ব্রাজিল আর বিশ্বকাপ জেতেনি প্রসঙ্গে আনচেলোত্তি যদিও বললেন তাঁর পক্ষে সব কারণ বোঝা সম্ভব নয়, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের মন জিতে নিলেন ব্রাজিল–‌ফুটবলের কোন জিনিসটা পাল্টাতে চান না প্রশ্নের উত্তরে — ‘‌চাই, ফুটবল খেলার খুশিটা চিরকাল জুড়ে থাকুক ব্রাজিলের ফুটবলের সঙ্গে।’‌

জোগো বোনিতো বা সুন্দর ফুটবলের দেশে এখনও ফল্গুর মতোই অন্তঃসলিলা, বয়ে চলে সেই পায়ে–‌বলের আনন্দধারা, যা, হয়তো, ভারতকে সেই ১৯৫২ অলিম্পিকে যুগোস্লাভিয়ার বিরুদ্ধে ১–‌১০ হারানোর গ্লানি মনে করাবে না শনিবার যুবভারতীতে!

Thursday, October 1, 2026

কাশীনাথ ভট্টাচার্য /‌ মনীষা–‌কোমল হবেন কেউ, আগামী ৩ অক্টোবর?

মনীষা কল্যাণ, সিনিয়র ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম গোল করেছিলেন

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারত ফুটবল বিশ্বকাপেও খেলেছে‍‌!‌

না, কোনও ভুল নেই এই বাক্যে। সত্যিই খেলেছিল ভারত, ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। সিনিয়র বিশ্বকাপ নয়, পুরুষদের বা ছেলেদেরও নয় — অনূর্ধ্ব ১৭ মেয়েদের বিশ্বকাপে। সেই খেলা হয়েছিল ভুবনেশ্বরে, ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর। সুইডিশ কোচ টমাস ডেনারবি ছিলেন ভারতের কিশোরীদের দায়িত্বে। গ্রুপ লিগে শেষ ম্যাচে ০–‌৫ হেরেছিল ভারত।

ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার ব্রাজিলের বিরুদ্ধে খেলছে ভারত, সেই ম্যাচে হাজির থাকার সুযোগ হাতছাড়া করতেমন চায়নি। তাই পৌঁছে গিয়েছিলাম ভুবনেশ্বরে। তখন লিখতাম শিলচরের দৈনিক প্রান্তজ্যোতি কাগজে। থাকল সেই ম্যাচ–‌রিপোর্ট, প্রমাণ হিসাবে।

সেই ম্যাচ–‌রিপোর্ট

২০১৭ অনূর্ধ্ব ১৭ ছেলেদের ফিফা বিশ্বকাপেও ভারত ও ব্রাজিল ছিল। কিন্তু আয়োজক ভারত ছিল এ গ্রুপে, ব্রাজিল গ্রুপ ডি–‌তে। একই গ্রুপে না–‌থাকায় মুখোমুখি হয়নি।

সিনিয়র ব্রাজিলের বিরুদ্ধেও খেলে ইতিহাস লিখেছিলেন মনীষা কল্যাণ। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ব্রাজিলের মানাউসে। চারদেশীয় আন্তর্জাতিক মহিলাদের প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে আরেনা দো আমাজোনিয়ায় ব্রাজিলের সিনিয়র মহিলা দল সে দিন ৬–‌১ উড়িয়ে দিয়েছিল ভারতকে। কিন্তু ইতিহাসে নাম লিখে ফেলেছিলেন পঞ্জাবের মেয়ে মনীষা, ৮ মিনিটে গোল করে ১–‌১ সমতা ফিরিয়ে। এখনও সেই গোলের ভিডিও পাওয়া যায়। বাঁদিক দিয়ে ঢুকে এসে দুরন্ত শটে গোল। তখন তিনি ১৯, এখন ২৪। দেশের সীমানা পেরিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলেছেন, গ্রিস দেশে এইকে আথেন্স ক্লাবের হয়ে এখন খেলেন মনীষা। সিনিয়র ফুটবলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের একমাত্র গোলের নজির যাঁর পায়ে।

মনীষার সেই গোলের ভিডিও দেখতে পারেন এই লিঙ্কে —


যে কোনও স্তরের ফুটবলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম দেখা অবশ্য ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর। অনূর্ধ্ব ১৭ ব্রিকস প্রতিযোগিতায়, গোয়ার বাম্বোলিমে অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে। ভারতীয় অনূর্ধ্ব ১৭ ছেলের দল সেই দিনও হেরেছিল যথারীতি। কিন্তু ইতিহাস হয়ে গিয়েছিলেন কোমল থাটাল, ১–‌১ করে। বাইচুং ভুটিয়ার সিকিমের কোমলও বাঁদিক দিয়ে ঢুকে এসেই দুরন্ত শটে হার মানিয়েছিলেন ব্রাজিলের গোলরক্ষককে। শেষে হার ১–‌৩ এবং মনে রাখার মতো তথ্য, ব্রাজিলের তিন নম্বর গোল পেনাল্টি থেকে যা করেছিলেন বিনিসিউস জুনিয়র। অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে সেই ম্যাচ রিপোর্ট পড়ে নিতে পারেন এখানে ক্লিক করে — 

https://www.the-aiff.com/article/spirited-india-taste-defeat-against-brazil

২০১৬-এর অক্টোবরে সেই প্রথম দেখার দশ বছর হতে চলেছে। আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার যুবভারতীতে আবার ভারত ‌বনাম ব্রাজিল। এবার সিনিয়র স্তরে এবং প্রীতি ম্যাচে। তবুও কলকাতার ব্রাজিলপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। ১৯৭৭ সালে পেলে কলকাতায় এসেছিলেন কসমসের হয়ে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে খেলতে। মনে করিয়ে দিয়ে ব্রাজিলের ফুটবল ফেডারেশন ফেসবুকে পোস্ট করেছে চারটি ছবি দিয়ে, দেখে নিতে পারেন এখানে - 

https://www.facebook.com/story.php?story_fbid=1668407624635947&id=100044001765106&mibextid=wwXIfr&rdid=3isCYbYdpWVEgaRV&checkpoint_src=any#

শুধু, দশ বছরে ‘‌ভারতের নেইমার’‌ কোমল থাটালকে এখন আর ভারতেরই কোনও ক্লাব সই করায় না, আর বিনিসিউস সিনিয়র বিশ্বকাপে খেলেন ব্রাজিলের হয়ে, নাম লিখে ফেলেছেন বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের তালিকায়, রেয়াল মাদ্রিদে নিয়মিত খেলতে খেলতে‌!

‌

‘‌ভারতের নেইমার’‌ কোমল থাটাল

Tuesday, September 29, 2026

Nandini, Sibani eye senior debut against Russia



AIFF Media Team

KOLKATA: At 19, goalkeeper Nandini and forward Sibani Devi Nongmeikapam are aspiring to experience senior national team football for the first time. With the Blue Tigresses set to face 27th-ranked Russia at the Kishore Bharati Krirangan in Kolkata on October 8 and 11, the two youngsters are currently part of the training camp that started at the AIFF National Centre of Excellence on September 18.

While the possibility of a debut adds to their excitement, both are currently focused on making the most of their time in camp and learning as much as they can from the seniors.

For goalkeeper Nandini, the call-up was a particularly special moment after having previously debuted for India at U17 level in 2023. She was also part of the AFC U20 Women's Asian Cup squad earlier this year.

“When I received the call-up to the senior national team, I was extremely happy. The first people I told were my coach and my parents, and they were very happy too,” Nandini told the-aiff.com.

The Chandigarh custodian looks up to the India men’s team goalkeeper Gurpreet Singh Sandhu and hopes to continue learning from him.

“Everything in the camp is going well, and I’m getting to learn a lot from the senior players. I also personally look up to Gurpreet bhaiya as an inspiration. I have learned so much from him, and I want to continue learning from him,” she said.

The camp has given Nandini a closer look at the togetherness within the senior setup.

“At this camp, I’m also learning how the senior and junior players move forward together and help one another. It is a very good opportunity for me to learn and hopefully represent the country at the senior level,” she added.

Sibani, meanwhile, has followed a similar route through the youth national teams. The Manipur winger was first called up to the U17 team in 2023, before progressing to the U19 setup in 2024 and the U20 team in 2025. She scored a brace in the U20 Asian Cup match against Chinese Taipei in April, helping the Young Tigresses end their 22-year wait to bag a win in the competition.

Although she did feature in an international friendly against Maldives in 2025, with India featuring a mix of U20 and senior players, this current call-up felt like a more memorable moment. “When I got the news, I told my parents, and they were so happy and proud,” said Sibani.

Having heard about India's all-time top-scorer Bala Devi Ngangom during her school days, she has always drawn inspiration from her.



“Bala Devi is my inspiration. When I was in school, I heard her name and read about her in the newspaper. That inspired me to play football,” she said.

The winger also found the players to be warm and welcoming since joining the camp.

“When I joined the camp, the seniors were very caring towards us, and that made me feel included. They are also very disciplined, and that is one of the things I have learned from them,” said Sibani.

As India prepare to face Russia twice, both players are now hoping to don the India colours in Kolkata.

“We are all looking forward to the matches against Russia. It will be a great opportunity for us all, and I’m excited about the possibility of making my senior debut and playing in the India colours. Everyone is so nice, and I really like the football culture in Kolkata. So, I hope people come and cheer for us,” Sibani said.

“We hope everyone will come and support us during the matches,” added Nandini.

PC - AIFF

Monday, September 28, 2026

Blue Tigresses to make historic Kolkata debut against Russia



AIFF Media Team

KOLKATA: The Indian women's national team will play their first-ever international matches in Kolkata, taking on Russia in two friendlies at the Kishore Bharati Krirangan on October 8 and 11, 2026, during the FIFA Women's International Match Window.

The fixtures will be India's first international matches since they were crowned champions of the SAFF Women's Championship for a record-extending sixth time in June 2026. The October window will provide 69th-ranked India with an opportunity to test themselves against a strong European opposition. Russia are ranked 27th in the world.

It will also mark India's first appearance in West Bengal since the 2016 SAFF Women's Championship, which was held in Siliguri and saw the Blue Tigresses lift the title. That remains the only previous occasion on which the Indian women's national team has played in the state.

The Russian women's national team last travelled to India in 1994 for the eight-nation Jayalalitha Cup in Chennai. India were eliminated in the group stage, while Russia, who were placed in a different group, went on to finish runners-up.

The October fixtures will be the third and fourth meetings between India and Russia. Their previous two encounters both came in international friendly tournaments in neutral venues. India suffered a 0-8 defeat to Russia at the Turkish Women's Cup in 2021, before losing 0-2 at the Pink Ladies Cup 2025 in the UAE.

Indian women's national team head coach Crispin Chettri said, “Playing against quality opposition is always valuable for the development of the team. We have already faced Russia at the Pink Ladies Cup in Dubai, where we lost 2-0, so these matches will give us another opportunity to test ourselves against a strong side.

“While results are important, we also have to look at these games with a long-term vision. It is important to give opportunities to upcoming players, expose them to high-level opposition and continue developing a squad that can perform at the international level in the future.

The Blue Tigresses have been training in Kolkata since September 18. Chettri will finalise and name the squad closer to the matches.

“Having Kolkata host these matches will also be a huge opportunity for the players. They will not only get to play against a quality team like Russia, but, hopefully, in front of a good crowd as well. Experiencing the expectations and atmosphere that come with playing in front of fans is also part of their development. These are the habits and experiences we need to build if we want to compete at a higher international level.”

PC - AIFF