এমবিএসজি — ২ (আরউইন ১৮, দ্রাজিচ ৪২)
পাঞ্জাব এফসি — ১ (আলফ্রেদ ৩)
ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচও জিতে আপাতত আইএসএল–এর শীর্ষে উঠে এল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। চার ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পাঠাল নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে।
চেন্নাইয়িন এফসি–র বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম এগারয় দু’জন পাল্টেছিলেন পানাজিওতিস দিলমপেরিস। মেহতাব সিং আর লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের জায়গায় শুভাশিস বসু আর সাহাল আবদুল সামাদ। আবারও অনিরুধ থাপা শুরুতে ছিলেন না। অসুস্থ আপুইয়ার অভাব ঢাকতে যে পরীক্ষাগুলো নিয়মিতই করতে হচ্ছে এমবিএসজি কোচ পানোসকে। কিন্তু, দুর্ভাগ্য তাঁর এবং সাহালের, ৮ মিনিটেই চোট পেলেন মিডফিল্ডার। চিকিৎসার জন্য মাঠের বাইরে আনতে হল, আর পারলেন না। বাধ্য হয়েই অনিরুধকে আনতে হল মাঝমাঠকে নির্ভরতা দিতে।
কিন্তু, বিপদ তার আগেই এসে গিয়েছিল এমন জায়গা থেকে যা নিয়ে কখনও ভাবেননি কেউই! নিজেদের মাঠে তৃতীয় মিনিটেই বিশাল কাইথের ভুলে এগিয়ে যায় পাঞ্জাব এফসি। স্পেনীয় আলফ্রেদ প্লানাস মোয়ার শট অন্য যে কোনও দিন সহজেই থামাতেন। শনিবার পারলেন না, পিছিয়ে পড়ল সুপার জায়েন্ট।
সমতা ফেরাতে মিনিট ১৫ নিয়েছিলেন লি আরউইন। মোটামুটি নির্বিষ বল, যেখান থেকে গোলের কথা সবসময় ভাবাও হয় না, দূরের পোস্টে রেখেছিলেন বাঁপায়ে। বল পোস্টে লেগে জালে। স্বস্তি ফিরেছিল হাজার আঠেরর গ্যালারির।
প্রথমার্ধের শেষ দিকেই এগিয়ে যায় সুপার জায়েন্ট, আরও এক বিদেশি দেইয়ান দ্রাজিচের একক প্রচেষ্টায়। বড় বক্সের বাইরে, আনুমানিক ২৭ গজ দূর থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে পরাস্ত করেন পাঞ্জাবের গোলরক্ষক অর্শদীপ সিংকে। ফলে, পিছিয়ে শুরু করলেও বিরতির আগেই এগিয়ে যায় এমবিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকে তেড়েফুঁড়ে খেললেও পাঞ্জাব পারেনি সমতা ফেরাতে। বরঞ্চ, সেই ঝড় ঠিকঠাক সামলে দিয়ে এবং ৭৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসোকে নামিয়ে আক্রমণে ঝড় তুলেছিল মোহনবাগানই। মনবীর সিং, আরউইনরা বার দুই–তিন ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিলেন যা কাজে আসেনি।
চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে খেলার দিন বাগান কোচ বেশ কয়েকবার খেলা চলাকালীনই ফর্মেশন বদলে দিচ্ছিলেন যার প্রভাব পড়েছিল খেলায়। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সেই রাস্তায় হাঁটার ইচ্ছে যদি থেকেও থাকে, সাহালের চোট আর শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে যাওয়ায়, তেমন চেষ্টা আর করেননি। তাতে সুবিধা হয়, মাঝমাঠ বেশি সংঘবদ্ধ দেখায়। দীপক টাংরি রক্ষণাত্মক ভূমিকায় সফল এবং অন্যান্য দিন এই কাজ করতে গিয়ে যতটা মারকুটে দেখায় তাঁকে, শনিবার তেমন একেবারেই নয়। সুতরাং, পাঞ্জাবের বন্ধু–কোচ পাবলোস দেরমিতজাকিসের দিক থেকে বন্ধুত্বের হাতই বাড়ানো থাকল পানোসের জন্য!
পঞ্চম থেকে শীর্ষে উঠে এবার ঘরের মাঠে তৃতীয় ম্যাচে ওডিশার বিরুদ্ধে খেলবে সুপার জায়েন্ট, আগামী ৫ নভেম্বর।
এমবিএসজি: বিশাল কাইথ; রাহুল ভেকে, শুভাশিস বসু, আলবের্তো রোদরিগেজ, টেকচ্যাম অভিষেক সিং; সামির জেলিকোভিচ, মনবীর সিং, সাহাল আবদুল সামাদ (অনিরুধ থাপা ১২), দীপক টাংরি, দেইয়ান দ্রাজিচ (লিস্টন কোলাসো ৭৩); লি এরউইন
রেফারি — ক্রিস্টাল জন









