মোহনবাগান — ১ (জেলিকোভিচ ৪৫)
ইস্টবেঙ্গল — ০
ডার্বির অতি–আচার!
২৫ জুলাই, ২৩ অগাস্ট, ৭ সেপ্টেম্বরের পর ৮ অক্টোবর, আবার! এই বছর ধরলে গতবারের আইএসএল ডার্বি হয়েছিল ১৭ মে। অর্থাৎ, গত মে থেকে অক্টোবর — ৬ মাসে ৫ বার। অতি–আচার নয়? আইসিসি যেমন যে কোনও টুর্নামেন্টে ভারত–পাকিস্তান পারলে দু–তিনবার খেলিয়ে দেয়, এখানেও আইএফএ এবং এআইএফএফ জানে, এই ম্যাচটা হলেই চিন্তা নেই। তাই, পারলে প্রতি মাসে একবার খেলা!
এবার অবশ্য ট্রফির লড়াই ছিল, ঠিক যেমন ছিল ২৩ আগস্ট ডুরান্ড ফাইনালে। সেই ম্যাচে এডমান্ড লালরিনডিকার হ্যাটট্রিকে ভর করে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। ১২৬তম আইএফএ শিল্ড ফাইনালে গোল মাত্র একটা হলেও মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট উঠে এল ট্রফি হাতে। সাহাল আবদুল সামাদের চিপ বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে ঠাণ্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে সামির জেলিকোভিচ ২২তম শিল্ড এনে দিলেন মোহনবাগানকে, প্রথমার্ধের শেষে গোল পেয়ে।
সময় ছিল ইস্টবেঙ্গলের হাতে, দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটাই। কিন্তু, খেলার শুরুতে যতটা ইতিবাচক মনে হয়েছিল, খেলা যত এগোল, ক্রমশ ছন্দ হারাল লালহলুদ। এডমান্ড ৬ মিনিটে, বিশাল কাইথকে পেয়ে গিয়েছিলেন একের বিরুদ্ধে এক পরিস্থিতিতে। কাইথকে এবার পেরতে পারেননি। মিনিট দশেক চাপ রেখেছিল ইস্টবেঙ্গল তারপরও। মোহনবাগান ফিরে আসে মাঝমাঠের দখল রেখে, রক্ষণ আরও সংগঠিত করে। তেমন বলার মতো সুযোগ আর তৈরি করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের পক্ষে মেহতাব সিং কিন্তু ফাঁকায় হেড করার সুযোগ পেয়েছিলেন যেখান থেকে গোল না–করা এমন ম্যাচে প্রায় অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের কেউ তাড়া করেননি, মেহতাব তাড়াহুড়োয় বাইরে পাঠান। ম্যাচ শেষ হয়ে যেতে পারত ওখানেই।
দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগান আরও জমাট। কোচ পানাগিওতিস দিমপেরিস পরিবর্ত হিসাবে মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসোদের নামিয়ে ম্যাচের রাশ নিজেদের হাতের বাইরে যেতে দেননি। মাঝমাঠে দেজান দ্রাজিচ, মাঝে মাথা ফেটে যাওয়ার পর ব্যান্ডেজ বেঁধেই খেললেন আর বেঁধে রাখলেন মোহন মাঝমাঠ ও রক্ষণকে, পাশে দীপক টাংরিকে নিয়ে।
ইস্টবেঙ্গলের কোচ আন্তোনিও লোপেস আবাস বলেছিলেন, এএফসি ম্যাচ তাঁর কাছে অবশ্যই বেশি গুরুত্বের এবং সেই দিকে তাকিয়েই এই ফাইনালে ভারতীয় দল থেকে ফিরে–আসা ফুটবলারদের খেলাননি। তাঁর পরিকল্পনায় সফল হয়তো, কিন্তু আইএসএল শুরুর আগে এই হার কি আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দেবে না? মোহনবাগানের টেকচাম অভিষেক সিং তো জাতীয় দল থেকে ফিরেও মাঠে থাকলেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিশ্চিত করলেন তাঁর দল মাঠ ছাড়বে ট্রফি নিয়েই। সেমিফাইনালে নর্থইস্টকে সাত গোল দিয়ে যতই ইস্টবেঙ্গল ভয়ের আবহ তৈরি করে থাকুক, বড় ম্যাচ আবারও বুঝিয়ে দিল, ম্যাচের আগে যা–ই ঘটে থাকুক, এই ম্যাচের ফলাফলে তার কোনও প্রভাব পড়েনি কখনও, পড়ে না।
১৯৭৯ সালের ৪৭ বছর পর কলকাতা লিগ এবং শিল্ডে ‘ডাবল’ করল মোহনবাগান। সবুজমেরুন সমর্থকরা পেল পুজোর আদর্শ উপহার, গতবারের পর এবারও আইএফএ শিল্ড। দিনচারেক পর আইএসএল শুরুর আগে বাড়তি অক্সিজেন!
ছবি - আইএফএ















