Showing posts with label Chicharito. Show all posts
Showing posts with label Chicharito. Show all posts

Monday, June 20, 2016

শতবার্ষিকী কোপায় ‘সান্তাক্লারাজো’, এবার সাত গোল চিলে-র!

কাশীনাথ ভট্টাচার্য

eduardo-vargas

মিনেইরাজো নয়, এবার সান্তাক্লারাজো!

সে ছিল বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ব্রাজিলের মিনেইরাও স্টেডিয়ামে, বেলো ওরিজোন্তে-তে। জার্মানির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ, ১-৭ হার, নেইমার ও থিয়াগো সিলভাহীন ব্রাজিলের। দাভিদ লুইজরা দলে থাকলে যেমনটা প্রত্যাশিত! মেহিকোর (মেক্সিকো) ব্যাপারটা তেমন নয়, একেবারেই। সবাই-ই ছিলেন, ছিল জনসমর্থনও। শুধু, চিলে বোঝাল, তাঁরা এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা দল, নিজেদের দিনে যাঁরা ছিঁড়ে ফেলতে পারেন যে কোনও রক্ষণ।

শতবার্ষিকী কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে সাত গোল খাওয়ার আগে, মেহিকো টানা ২২ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। আর শতবার্ষিকী কোপায় খেলতে আসার আগে, আসার পরেও প্রথম ম্যাচে মেসিহীন আর্জেন্তিনার কাছে ০-২ হারার পর, হোর্খে সাম্পাওলির জায়গায় দায়িত্ব-পাওয়া নতুন কোচ খুয়ান আন্তোনিও পিজ্জির রেকর্ড ছিল পাঁচ ম্যাচে এক জয়। শেষ আট দিনে তিনটি ম্যাচ সরাসরি জিতলেন তিনি। তাঁর দলের কাছেই শেষ পর্যন্ত থামল মেহিকোর দৌড়। এদুয়ার্দো ভার্গাস একাই চার গোল করলেন, এদসন পুকের জোড়া গোলের পাশে আলেক্সি সানচেজের একটি। ভার্গাস উঠে এলেন এই শতবার্ষিকী কোপার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে, মোট ৬ গোল নিয়ে। লিওনেল মেসিও এখন দু-গোলে পিছিয়ে ভার্গাসের কাছে!

গত বছর নিজেদের দেশে কোপা জিতেছিল এই চিলে-ই। ফাইনালে আর্জেন্তিনাকে হারিয়ে, টাইব্রেকারে। আর্তুরো ভিদাল খেলেন বায়ার্ন মিউনিখে, সানচেজ বার্সেলোনা ছেড়ে এখন আর্সেনালে, গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো বার্সেলোনার গোল সামলান লা লিগায়। প্রধানত তিন বিভাগে এই তিন নেতাকে ধরেই সাম্পাওলি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন চিলে-কে। দেশের প্রথম ট্রফি জেতার আনন্দে হোক বা আত্মতুষ্টিতে, সাময়িক ছন্দহীন ছিলেন ভিদালরা। যার প্রভাব পড়েছিল নতুন ম্যানেজারের শুরুর দিকে। প্রতিযোগিতায় এসে কিন্তু সেই জড়তা কেটে গিয়ে আবার খেতাব ধরে রাখার লড়াইতে আপাতত উজ্জ্বল চিলে।

মেহিকোর ফুটবলের সবচেয়ে কালো রাত। খুয়ান কার্লোস ওসোরিওর খ্যাতি কার্যকারিতায় নজর দেন বলে। অভিজ্ঞ রাফায়েল মার্কেজ এই সপ্তাহে ছুটি নিয়েছিলেন সদ্যোজাত পুত্রসন্তানকে দেখতে গিয়ে। সেই কারণে তাঁকে এই ম্যাচে খেলানো হয়নি। ৩৭ বছরের মার্কেজ এক সময় বার্সেলোনায় খেলেছিলেন, ফ্র্যাঙ্ক রাইকার্ডের আমলে। তাঁর উপস্থিতি কি আটকাতে পারত চিলের ফরোয়ার্ডদের এই আক্রমণের ঢেউ? মিনেইরাজো ম্যাচে থিয়াগো সিলভার অনুপস্থিতির মতো এই প্রশ্নটাও বোধহয় থেকেই গেল ফুটবল ইতিহাসে! আর সেই দিনের ব্রাজিলের মতো মেহিকোর সব ফুটবলারই ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন এমন লজ্জাজনক পারফরম্যান্সের পর। চিচরিতো মনে করছেন, এ লজ্জা মেহিকোর ফুটবলের। তবে, এমন সিদ্ধান্তের পরও কোচ ওসোরিও-কে দোষ না দিয়ে তাঁর পাশে থাকার বার্তাই দিয়েছেন মার্কেজ, নিশ্চিতভাবেই যা ভুলতে পারবেন না কোচ ওসোরিও।

সেমিফাইনালে একটাই সমস্যা চিলের। ভিদাল আনাবশ্যক হলুদ কার্ড দেখে নিজেকে সরিয়ে নিলেন যেন! ঠিক এমনটাই করেছিলেন ব্রাজিলের অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা, কোয়ার্টার ফাইনালে, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে। হাত দিয়ে বল আটকে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন থিয়াগো, বাদ পড়ে গিয়েছিলেন সেমিফাইনাল থেকে। বিপক্ষে কিন্তু হামেস রদরিগেজের কলম্বিয়া, দুর্দান্ত খেলার পাশাপাশি শারীরিক শক্তির লড়াইতে যারা একেবারেই পিছিয়ে থাকে না!