Showing posts with label World Football. Show all posts
Showing posts with label World Football. Show all posts

Sunday, June 19, 2016

পাঁচ নম্বর পেনাল্টি মিস সিআর সেভেনের, আবার ড্র পর্তুগালের

কে শুনবে রোনাল্ডোর, ‘আমি কষ্টে আছি’


[caption id="attachment_180" align="alignleft" width="300"]মরসুমের পাঁচ নম্বর পেনাল্টি মিস রোনাল্ডোর মরসুমের পাঁচ নম্বর পেনাল্টি মিস রোনাল্ডোর[/caption]

রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
তারকা হওয়ার এই এক ঝক্কি। কখন যে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়বেন সেই সুপারস্টার, বলা মুশকিল!
যখন ফর্মে আছেন, সারা দুনিয়া তাঁর সঙ্গে। সেই তিনিই যখন চরম ব্যর্থ, বয়ে যাবে শুধু সমালোচনার ঝড়!
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো সেই নিঃসঙ্গ সম্রাট, যিনি ডুবে গিয়ে ঘোর অন্ধকারে! পেনাল্টি মিস করার যন্ত্রণায়!
ব্বিশ্বকাপে পারেননি। ইউরো কাপেও কি পর্তুগালের দশা দু’বছর আগের ব্রাজিলের মতো হতে চলেছে? গ্রুপ লিগ থেকেই কি বিদায় নিতে হবে ৩১ বছরের রোনাল্ডোকে?
আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে আটকে গিয়েছিল পর্তুগাল। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচেও গোলশূন্য ফল। দু’ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট। যা পরিস্থিতি তাতে পরের পর্বে যেতে হলে গ্রুপ লিগের পরের ম্যাচটাতে হাঙ্গেরি বিরুদ্ধে জিততেই হবে পর্তুগালকে।
আইসল্যান্ড ম্যাচে কার্যত কিছুই করতে না পারা রোনাল্ডোকে নিয়ে প্রচুর কথা উঠেছিল। অস্ট্রিয়া ম্যাচে আবার পেনাল্টি মিস করে ভিলেন হয়ে গিয়েছেন সিআর সেভেন। ৭৯ মিনিটে রোনাল্ডোর কিকটা পোস্টে গিয়ে লাগে। না হলে ম্যাচটা জিতেই তৃপ্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতেন পর্তুগাল ক্যাপ্টেন।
জাতীয় দলের হয়ে সবচেয়ে বেশি লুই ফিগোর ১২৭টা ম্যাচ খেলার রেকর্ড ভেঙে দিলেন রোনাল্ডো। উৎসবে ডুবে থাকার কথা ছিল রোনাল্ডোর। কিন্তু পেনাল্টি মিস করে ব্যাপক সমালোচনায় সিআর সেভেন।
চলতি মরসুমে এক-দুটো নয়। পাঁচটা পেনাল্টি মিস করলেন রোনাল্ডো। কেরিয়ারে যা কখনও হয়নি তাঁর। সবচেয়ে বেশি মিস ছিল গত মরসুমে, ৩টে। ম্যাচের পর রোনাল্ডো বলেছেন, ‘দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ ও গোল করা স্ট্রাইকারের এটা গোল করা উচিত ছিল।’
১২৮ ম্যাচ খেলার এই রাত চাননি রোনাল্ডো। বরং চেয়েছিলেন, তুমুল হাততালির মধ্যে দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন। যা না হওয়ায় রোনাল্ডো বলেছেন, ‘দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটা এ ভাবে ভাঙব ভাবিনি। অন্য রকম, সুন্দর ভাবে হতে পারত। আমি কষ্ট আছি।’
অস্ট্রিয়ার কাছে গোলশূন্য ড্র করার পর রোনাল্ডো বলেছেন, ‘গোল করার অনেক সুযোগ পেয়েছি আমরা, ম্যাচটা জিতা উচিত ছিল। আমিও অনেক সুযোগ নষ্ট করেছি। পেনাল্টি থেকে গোলটা করা উচিত ছিল। তবে এখনও সব শেষ হয়নি। হাঙ্গেরিকে হারালে পরের পর্বে যেতে পারব। আমরা প্লেয়াররা সেটাই করে দেখাতে চাইছি।’

Thursday, June 16, 2016

জিদানের রেকর্ডের মুখে ‘সুপারহিরো’ পায়েত

[caption id="attachment_123" align="alignleft" width="300"]২-০ পর পায়েতের উচ্ছ্বাস ২-০ পর পায়েতের উচ্ছ্বাস[/caption]

অভীক রায়
ম্যাচ ‌: ২
সুযোগ তৈরি ‌: ১৪
অ্যাসিস্ট ‌: ১
গোল ‌: ২
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ ‌: ২
বার্সেলোনার জার্সি গায়ে লিওনেল মেসি বা রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কোনও ক্লাব ম্যাচের তথ্য নয়। এ হল উনত্রিশ বছরের এক ফরাসি ফুটবলারের অবিশ্বাস্য উত্তরণের কাহিনি।
দিমিত্রি পায়েতের— দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্সকে একাই যিনি ইউরো কাপ জেতানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। রোমানিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে আটকে যেতে টিমকে শেষ মুহূর্তের গোলে জিতিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও তাই। আলবেনিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ৯৬ মিনিটে চোখধাঁধানো ২-০টা যাঁর।
কেউ তাঁকে বাছছেন এই ইউরোর সেরা মুখ। কেউ, ‘জবাব দেওয়া চরিত্র’! ওয়েস্ট হ্যামের অ্যাকাটিং মিডফিল্ডারের প্রতিটা শটে লেগে রয়েছে প্রত্যাবর্তনের অবিস্মরণীয় গল্প। হারিয়ে যেতে যেতে ফিরে এসে যেন ভেঙেচুরে দিতে চাইছেন যাবতীয় দেশজ রেকর্ড। ম্যাচের পর পায়েতকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমাদের নিয়ে যাদের মনে সংশয় ছিল, তাদের আশা করি ভুল প্রমাণ করতে পেরেছি।’ ফ্রান্স, নাকি নিজেকে নিয়েই সমালোচকদের পাল্টা দিয়েছেন দিমিত্রি পায়েত?




[caption id="attachment_124" align="alignright" width="242"]গ্যালারিতে পায়েতের স্ত্রী ও ছেলে গ্যালারিতে পায়েতের স্ত্রী ও ছেলে[/caption]

আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে ৯৬ মিনিটে করা গোলটা ইউরো কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘লেট গোল’ পায়েতের। তাঁর বিধ্বংসী ফুটবলে ভেঙে যেতে চলেছে জিনেদিন জিদানের ১৫টা সুযোগ তৈরির সুযোগ। ২০০৪ সালের ইউরো কাপে যে রেকর্ড করেছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি।
রোমানিয়ার সঙ্গে আলবেনিয়া ম্যাচের পায়েতের তফাত কোথায়? আগের ম্যাচের থেকেও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। আগের ম্যাচে নব্বই মিনিটে ৪৫টা টাচ ছিল পায়েতের। এই ম্যাচে ৫২টা। একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ওয়েস্ট হ্যামের কোচ স্লভেন বিলিচ বলেছেন, ‘ও অসাধারণ, অনবদ‌্য, অভাবনীয়!’
আর পায়েত, অহং আছে। কিন্তু প্রকাশে বিনয়ী। আগ্রাসন আছে। কিন্তু সময়ে সামলাতে শিখে গিয়েছেন নিজেকে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বের সবচেয়ে সফল ফুটবলার ছিলেন ফরাসি টিমের। কিন্তু টিমে জায়গা মেলেনি। সেই আক্ষেপ যেন দেশের মাঠে ইউরো কাপে মিটিয়ে নিচ্ছেন পায়েত। ম্যাচের পর যিনি বলেওছেন, ‘আমরা একটা জিনিস প্রমাণ করলাম, যে কোনও অবস্থায় গোল করতে পারি। গ্রিয়াজম্যানের গোলটার পর আমি কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম।’
ফ্রান্সের নতুন সুপারহিরো একই সঙ্গে বলে দিয়েছেন, ‘আমি আরও এক বার প্রমাণ করলাম, অন্যদের সঙ্গে কতটা ফারাক আমার।’

Monday, June 13, 2016

৯০ মিনিটে কোপায় জ্বললেন বাগানের সোনি | অভীক রায়

[caption id="attachment_61" align="alignleft" width="268"]হাইতির জার্সি গায়ে সোনি নর্দে হাইতির জার্সি গায়ে সোনি নর্দে[/caption]

অবশেষে গাঢ় নীল জার্সি গায়ে কোপায় খেলতে দেখা গেল সোনি নর্ডিকে!
শুধু কি মাঠেই নামলেন? ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে হাইতির একমাত্র উজ্জ্বল মুখ মোহনবাগানের সোনিই!
কোপা সেন্টেনারির প্রথম দুটো ম্যাচে বেঞ্চেই বসে ছিলেন বাগানের এসএন সিক্সটিন। বিশেষ করে ব্রাজিলের কাছে ১-৭ হারা হাইতির ম্যাচে আশা করা হয়েছিল, তৃতীয় পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নামবেন সোনি। সে আশা পূরণ হয়নি। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচে তাই প্রবল আশা ছিল, তাঁকে হয়তো খেলাবেন কোচ নেভেউ। তাই হল। টিম ঘোষণার সময়ই দেখা গেল মাঠের জায়েন্ট স্ক্রিনে ফুটে উঠেছে সোনির নাম। এতে গ্যালারি যত না উত্তাল, তার থেকে অনেক বেশি উন্মাদনা কলকাতায়।
ইকুয়েডরের কাছে ম্যাচটা ৪-০ হারল হাইতি। গ্রুপ লিগের তিন ম্যাচ হেরেই কোপা থেকে বিদায়। কিন্তু এই ম্যাচ যেন হাইতির নয়, সোনি নর্ডি। সারা ম্যাচ ছটফট করেছেন লেফট উইঙ্গার। প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে ফেলেছেন। নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বাড়তি সুযোগ।
সোনির ঝলক অধিকাংশটাই দেখা গেল বিরতির পর। ০-৩ পিছিয়ে থাকা অবস্থায় সোনি বেশ কয়েকবার ইকুয়েডর বক্সে ঢুকে পড়েন। অফসাইডের জালে আটকে পড়তেও দেখা যায় ১৫ নম্বর জার্সি পরে নামা সোনিকে। তবে কোচ যে তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন, তা বোঝা গেল পুরো নব্বই মিনিট খেলানোয়। হাইতি টিমে এক মাত্র চোখে পড়ার মতো খেলেছেন সোনি নর্ডিই।
সোনিকে দেখার জন্যই ভোর রাতে উঠে পড়েছিলেন বাগান সমর্থকরা। কলকাতার ভক্তদেরও নিরাশ করেননি সোনি। ম্যাচটা হারলেও এই সবুজ-মেরুন সাপোর্টাররা দেখতে চেয়েছিলেন, কোপাতে খেলছেন তাঁদের সোনি!




[caption id="attachment_62" align="aligncenter" width="300"]মাঠে জায়েন্ট স্ক্রিনে সোনির মুখ মাঠে জায়েন্ট স্ক্রিনে সোনির মুখ[/caption]

Sunday, June 12, 2016

রাশিয়ান কিপার আর ইনজুরি টাইমের গোলে থমকাল ইংল্যান্ড | অভীক রায়

ইংল‌্যান্ড-১ ‌: রাশিয়া-১
(দিয়ের ৭২) (বেরেজুৎস্কি ৯২)


রাশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোলে স্বপ্নভঙ্গ ইংল্যান্ডের

বড় টুর্নামেন্টে আরও এক বার ভালো হল না ইংল্যান্ডের শুরুটা। সারা ম্যাচ দাপিয়ে খেলেও ইনজুরি টাইমের গোলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ করল রয় হজসনের টিম।
নতুন প্রজন্মের এই ইংল্যান্ড অনেক পাল্টে যাওয়ার একটা টিম। গড় বয়স পঁচিশের সামান্য বেশি। রহিম স্টার্লিং, অ্যাডাম লালানা, এরিক দিয়েরদের টিম তীব্র গতিতে ফুটবল খেলল। প্রতিপক্ষ বক্সে ঝড়ও তুলল। যা সাম্প্রতিক কালে ব্রিটিশ ফুটবলে দেখাই যায়নি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমে গোল খেয়ে আটকে গেলেন ওয়েন রুনিরা।
প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। কিন্তু ওই সময় বারবার রাশিয়া বক্সে হানা দিয়েছে ইংল্যান্ড। যে কোনও সময় গোল হয়ে যেতে পারত। রাশিয়াকে ওই সময় বাঁচিয়ে দেন কিপার ইগর আকিনফিভ। বিরতির পরও বেশ কিছু শট সেভ করেন ইগর।
বিরতির কিছু পর ১-০ করে ফেলে ইংল্যান্ড। দিয়েরের ফ্রি কিক থেকে। ঘটনা হল, ২০০৬ সালে বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের পর এই প্রথম ইংল্যান্ডের কোনও ফুটবলার মূল টুর্নামেন্টে ফ্রি কিক থেকে গোল করলেন। ম্যাচের পর দিয়ের বলেছেন, ‘বেকহ্যামের ফ্রি কিক দেখে বড় হয়েছি। এটা মারতে ভালো লাগে। আমি গোল পেলাম, কিন্তু টিম জিতল না, এটাই খারাপ লাগছে। এক পয়েন্টেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে আমাদের।’
৭২ মিনিটের ওই গোলটার পর মনে হয়েছিল ইংল্যান্ড বোধহয় জয় দিয়েই শুরু করতে চলেছে এ বারের ইউরো কাপ। কিন্তু সেটা হল না। ইনজুরি টাইমে বেরেজুৎস্কির গোলে এক পয়েন্ট ছিনিয়ে নিয়ে গেল রাশিয়া।


দিয়েরের দুরন্ত ফ্রি কিক

সারা ম্যাচে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ টিম সে অর্থে খেলেইনি। মাঝে মাঝে কাউন্টার অ্যাটাকে আসা ছাড়া আর কিছু ছিল না রাশিয়ার খেলায়। নিজেদের বক্সেই বেশির ভাগ সময় আটকে থাকল ইগরের টিম। একে বারে শেষ মুহূর্তে গোলটা শুধু তুলে নিয়ে গেল তারা। ওয়েন রুনি বলেছেন, ‘আমরা যে ভাবে খেলেছি, তাতে ম্যাচটা আমাদের জেতা উচিত ছিল। সব ভুলে আমাদের সামনে তাকাতে হবে। এখনও টুর্নামেন্টের অনেক বাকি।’
সবচেয়ে হতাশ ইংল্যান্ড কোচ। রয হজসন তো বলেই দিয়েছেন, ‘এই ফল আমাদের কাছে হারের মতো। শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচ ড্র হয়ে গেলে ভীষণ খারাপ লাগে।’