জিদানের রেকর্ডের মুখে ‘সুপারহিরো’ পায়েত
অভীক রায়
ম্যাচ : ২
সুযোগ তৈরি : ১৪
অ্যাসিস্ট : ১
গোল : ২
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : ২
বার্সেলোনার জার্সি গায়ে লিওনেল মেসি বা রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর কোনও ক্লাব ম্যাচের তথ্য নয়। এ হল উনত্রিশ বছরের এক ফরাসি ফুটবলারের অবিশ্বাস্য উত্তরণের কাহিনি।
দিমিত্রি পায়েতের— দিদিয়ের দেশঁর ফ্রান্সকে একাই যিনি ইউরো কাপ জেতানোর স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। রোমানিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে আটকে যেতে টিমকে শেষ মুহূর্তের গোলে জিতিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও তাই। আলবেনিয়াকে উড়িয়ে দিয়ে ৯৬ মিনিটে চোখধাঁধানো ২-০টা যাঁর।
কেউ তাঁকে বাছছেন এই ইউরোর সেরা মুখ। কেউ, ‘জবাব দেওয়া চরিত্র’! ওয়েস্ট হ্যামের অ্যাকাটিং মিডফিল্ডারের প্রতিটা শটে লেগে রয়েছে প্রত্যাবর্তনের অবিস্মরণীয় গল্প। হারিয়ে যেতে যেতে ফিরে এসে যেন ভেঙেচুরে দিতে চাইছেন যাবতীয় দেশজ রেকর্ড। ম্যাচের পর পায়েতকে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমাদের নিয়ে যাদের মনে সংশয় ছিল, তাদের আশা করি ভুল প্রমাণ করতে পেরেছি।’ ফ্রান্স, নাকি নিজেকে নিয়েই সমালোচকদের পাল্টা দিয়েছেন দিমিত্রি পায়েত?
[caption id="attachment_124" align="alignright" width="242"]
আলবেনিয়ার বিরুদ্ধে ৯৬ মিনিটে করা গোলটা ইউরো কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে ‘লেট গোল’ পায়েতের। তাঁর বিধ্বংসী ফুটবলে ভেঙে যেতে চলেছে জিনেদিন জিদানের ১৫টা সুযোগ তৈরির সুযোগ। ২০০৪ সালের ইউরো কাপে যে রেকর্ড করেছিলেন ফরাসি কিংবদন্তি।
রোমানিয়ার সঙ্গে আলবেনিয়া ম্যাচের পায়েতের তফাত কোথায়? আগের ম্যাচের থেকেও অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। আগের ম্যাচে নব্বই মিনিটে ৪৫টা টাচ ছিল পায়েতের। এই ম্যাচে ৫২টা। একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ওয়েস্ট হ্যামের কোচ স্লভেন বিলিচ বলেছেন, ‘ও অসাধারণ, অনবদ্য, অভাবনীয়!’
আর পায়েত, অহং আছে। কিন্তু প্রকাশে বিনয়ী। আগ্রাসন আছে। কিন্তু সময়ে সামলাতে শিখে গিয়েছেন নিজেকে। ব্রাজিল বিশ্বকাপের যোগ্যতা নির্ণায়ক পর্বের সবচেয়ে সফল ফুটবলার ছিলেন ফরাসি টিমের। কিন্তু টিমে জায়গা মেলেনি। সেই আক্ষেপ যেন দেশের মাঠে ইউরো কাপে মিটিয়ে নিচ্ছেন পায়েত। ম্যাচের পর যিনি বলেওছেন, ‘আমরা একটা জিনিস প্রমাণ করলাম, যে কোনও অবস্থায় গোল করতে পারি। গ্রিয়াজম্যানের গোলটার পর আমি কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম।’
ফ্রান্সের নতুন সুপারহিরো একই সঙ্গে বলে দিয়েছেন, ‘আমি আরও এক বার প্রমাণ করলাম, অন্যদের সঙ্গে কতটা ফারাক আমার।’
No comments