Wednesday, October 7, 2026

কাশীনাথ ভট্টাচার্য /‌ উরুগুয়ের হাফডজন!‌ মানসকে ছুঁলেন অনিরুধ


উরুগুয়ে — ৬ (‌নুনিয়েজ পে.‌ ১২, ম্যাক্সিমিলিয়ানো ২৯, ৫৯, সালাসার ৫৩, সানাব্রিয়া ৭১, আগির ৮৬)‌

ভারত — ১ (‌অনিরুধ ২২)‌


মানস ভট্টাচার্যকে ছুঁয়ে ফেললেন অনিরুধ থাপা!

বিরাশি সালে নেহরু কাপে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোল পেয়েছিলেন মানস। ভারত অবশ্য হেরেছিল ১–‌৩। কিন্তু, দু’‌বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে গোল করার নজির এত দিন ছিল মানসের একা। ৬ অক্টোবরের পর অনিরুধের নামও জুড়ে গেল সিনিয়র ফুটবলে উরুগুয়ের বিরুদ্ধে গোলে।

২২ মিনিটে ভারতের ১–‌১ সমতা ফেরানোর মূল কাণ্ডারি অবশ্যই রায়ান উইলিয়ামস। অস্ট্রেলিয়ায় জন্মে ভারতের হয়ে খেলছেন। পানামার বিরুদ্ধে ১–‌১ ড্র ম্যাচে গোল ছিল তাঁর। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে শট নিলেন তিনি, সরাসরি গোলরক্ষক থিয়াগো ব্রুগমানের দিকে। থিয়াগো বলটা থামালেন বটে, বেশি দূর পাঠাতে পারেননি। অনিরুধ সজাগ ছিলেন, বল অনুসরণ করেছিলেন। তাই গোলরক্ষকের ফেরানো বল একেবারে ফাঁকায় পেয়ে বাঁপায়ে জালে রেখে যান।

প্রথমার্ধে ভারত খারাপ খেলেনি বললে ভুল। বেশ ভাল খেলেছিল খালিদ জামিলের ভারত। হার নিয়ে সংশয় ছিল না বলেই হয়তো তেড়েফুঁড়ে খেলতে পেরেছিল। দেখতেও ভাল লাগছিল, ২০ নম্বরে থাকা দেশের বিরুদ্ধে ১৩৮–‌এ থাকা ভারত ক্রমাগত আক্রমণে আসার চেষ্টা করছে। এডমান্ড এই মাঠে কয়েক সপ্তাহ আগে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে। এবার শুরুতে তিনি গোল পেয়ে গেলে ভারত এগিয়ে যেতে পারত। পরে আরও একবার সুযোগ পেয়েছিলেন, যদিও শুরুর মতো নয়, কিন্তু, সুযোগ তো বটেই। তবু বিপক্ষ বক্সে ওই ছটফটানিটা জরুরি ছিল, খালিদ তাঁকে তুলে নিয়ে সাহাল আবদুল সামাদকে নামানোর পর ম্যাচ ততক্ষণে হাতের বাইরে তো বটেই, সেই চেষ্টাগুলোও হল না।



৬–‌১ জিতল উরুগুয়ে, ব্রাজিলের চেয়ে দুটো গোল বেশি দিল, আবার একটা গোল খেলও। তবে, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে র‌্যাঙ্কিংয়ে ১১৮ এগিয়ে–‌থাকা দলের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ভারতীয়দের ওই প্রচেষ্টাগুলো মনে রাখার মতোই। যথারীতি গুরপ্রীত সিং আবারও প্রথম পোস্টে দাঁড়িয়ে প্রথম পোস্টেই গোল খেলেন, ব্রাজিল ম্যাচের মতোই। মঙ্গলবার অবশ্য তাঁকে মাঠে রাখা হল ৭৫ মিনিট পর্যন্ত। বারদুয়েক গোল বাঁচিয়েও ছিলেন। কিন্তু, ভারতের অধিনায়কের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবার সময় বোধহয় এসে গিয়েছে এবার।

উরুগুয়ের গোলগুলোর প্রথমটি পেনাল্টি থেকে যখন প্রমবীর বক্সের মধ্যে ট্যাকল করতে গিয়ে পায়ে পা লেগে গিয়েছিল। নুনিয়েজ গুরপ্রীতকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি। পরের গোলগুলো প্র‌্যাকটিস গোল!‌ অর্থাৎ, অনুশীলনে যেমন করা হয়, পাস আসে বা থ্রু, স্ট্রাইকার গোল করে যান, তেমন। ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর জোড়া গোল, সালাসার এবং পরিবর্ত সানাব্রিয়ার গোলের সময় ভারতীয় রক্ষণও প্রথমার্ধের তেজ, ক্ষিপ্রতা এবং জায়গা ধরে রাখতে ব্যর্থ। আরও একটা গোলের সন্ধানে ছুটতে চেয়ে রক্ষণে জায়গা ফাঁকা রাখায় ফোরলানের উরুগুয়ে সেই সুযোগগুলো নিল পাক্কা পেশাদারদের মতো। লা সেলেস্তের হয়ে ষষ্ঠ গোল রোদরিগো আগির সোতোর, বড় বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁপায়ের শটে আলবিনো গোমসকে পরাস্ত করে।

তিনটি প্রীতি ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি পানামর বিরুদ্ধে একটি পয়েন্ট। এর বেশি প্রত্যাশাও ছিল না। যদি কেউ ভেবে থাকেন ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ড্র–‌ও করতে পারে ভারত, নিশ্চিতভাবেই কষ্টকল্পনা। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন দেখল দু’‌ম্যাচে ১০ গোল খেতে, ভারতকে। ব্রাজিল নেহাত গা লাগায়নি, হাফডজনের বেশি হতে পারত সেই দিনও। কতটা এগোল ভারতীয় ফুটবল, পরিষ্কার হবে আগামী ম্যাচগুলোয়!‌‌



No comments:

Post a Comment