• Breaking News

    পরিবর্তরাই জিতিয়ে গ্রুপ শীর্ষে নিয়ে গেল ইংল্যান্ডকে

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    ইংল্যান্ড ২ (ভার্ডি ৫৬ মি, স্টারিজ ৯২ মি)

    ওয়েলস ১ (বেল, ৪২ মি)

    [caption id="attachment_129" align="alignleft" width="300"]daniel sturridge জয় এল তাঁর গোলেই, স্টারিজের উল্লাস![/caption]

    গর্ডন ব্যাঙ্কস তো অনেক দূরের ব্যাপার, পিটার শিলটন বা ডেভিড সিম্যানও টিভি-তে ম্যাচ দেখে থাকলে চোখ কচলে তাকিয়েছিলেন বোধহয়!

    ৩৫ গজ দূর থেকে শট। গ্যারেথ বেল নিচ্ছেন, ভাল কথা।

    বুলেট গতি ছিল? - না।

    দুর্দান্ত বাঁক? - না।

    তেকাঠির কোণ দিয়ে বল গিয়েছিল, যেখান থেকে গেলে গোলরক্ষকের কিছুই করার থাকে না? – না।

    তবুও গোল খেলেন জো হার্ট! বেলের শটটা জায়গায় ছিল, এই পর্যন্তই। হার্ট অবশ্য এভাবে মাঝেমাঝে অপ্রত্যাশিত গোল খেয়ে ফেলেন। তাতে দলের সমস্যা বাড়ে। যেমন বেড়েছিল ইংল্যান্ডের। পড়শি ওয়েলসের বিরুদ্ধে। ওয়েলসের কাছে বেল তখন পড়শির ঈর্ষা!

    কিন্তু, ম্যাচের শেষ পর্যন্ত তা থাকল না। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ইংল্যান্ড তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। যেগুলো পেরেছিল, একটি ছাড়া গোলে রাখতে ব্যর্থ। ডিফেন্সও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে যাওয়ায় ফিরতে হয় এক পয়েন্ট নিয়ে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম একাদশ ওয়েলসের বিরুদ্ধেও পাল্টাননি ম্যানেজার। জেমি ভার্ডি ও ড্যানিয়েল স্টারিজকে বাইরে রেখেই দল নামান লেঁস-তে।

    ইংল্যান্ডের জন্য খুশির খবর, ওয়েলসের বিরুদ্ধে ম্যাচে ম্যানেজার রয় হজসনের বুদ্ধি ফিরে এসেছিল তাড়াতাড়িই! প্রিমিয়ার লিগ এবার জিতেছে লেস্টার সিটি। জেতার অন্যতম প্রধান কারণ ভার্ডির পারফরম্যান্স। ৩৬ ম্যাচে ২৪ গোল। আর স্টারিজ খেলেন লিভারপুলে। ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালে গোলের পর ফাইনালেও শুরুতে গোল করে ফেলেছিলেন স্টারিজ। শেষে অবশ্য সেভিয়া ৩-১ হারায়। কিন্তু, ডিফেন্ডারদের দোষ কী করেই বা ঠিক করতে পারতেন স্টারিজ।

    হজসন এমন দুজনকে বাইরে রেখে খেলাচ্ছিলেন হ্যারি কেন ও রহিম স্টার্লিংকে। প্রতিভাবান হতেই পারেন, কিন্তু ভার্ডি-স্টারিজ ছন্দে। বিপক্ষ রক্ষণ পিছিয়ে খেলবে, রক্ষণের পেছনে গিয়ে ভার্ডির খেলার যে ধরন তা সফল হবে না, ইংরেজ বিশেষজ্ঞরা এমন লিখে যাচ্ছিলেন রোজ। মাঠে নামার ১১ মিনিটের মধ্যে ভার্ডি গোলটা পেলেন অবিকল ওইভাবে, ডিফেন্ডারদেরও পেছনে গিয়েই! হ্যাঁ, সুবিধা হয়ে গিয়েছিল, বলটা তাঁর কাছে আসার আগে ওয়েলসের উইলিয়ামের মাথায় লেগে যাওয়ায়। পরিষ্কার অফসাইড থেকে ওই ছোট্ট টোকায় তিনি অনসাইড। আর ওখানে বল পেলে ভার্ডিকে রুখবে কে? সুতরাং, ১-১।

    আর ফার্গি-টাইমে ইংল্যান্ডের জয়সূচক গোল এল, ৯২ মিনিটে। স্টারিজকে এবার রোখা যায়নি। বলটা নিয়ে উঠে এসে আক্রমণ শুরু করেছিলেন তিনিই। দিয়েছিলেন ভার্ডিকে। সঙ্গে সঙ্গেই ভার্ডি দিতে চেয়েছিলেন আলিকে। কিন্তু বিপক্ষ বক্সের জটলায় যা হয়, এ-পা ও-পায়ে লেগে বল আবার স্টারিজের কাছেই। টোকায় ওয়েলসের গোলরক্ষক ওয়েন হেনেসিকে পরাস্ত করলেন প্রথম পোস্টে। ওই গোল শোধ করার আর সময় ছিল না বেলদের। দুই পরিবর্তর পায়েই এল তিন পয়েন্ট!

    ফলে, দু-ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ওয়েলস ও স্লোভাকিয়ার পয়েন্ট ৩। রাশিয়ার আছে এক পয়েন্ট। কিন্তু, শেষ দিন ওয়েলসকে হারিয়ে ৪ পয়েন্টে পৌঁছে নকআউটের যোগ্যতা অর্জন করে ফেলতে পারে! ইংল্যান্ড কি নকআউটে নিশ্চিত? আর একটা পয়েন্ট হলে, অবশ্যই। কিন্তু, শেষ ম্যাচে ওয়েলস আর স্লোভাকিয়া দুটি দলই জিতলে, বাকি গ্রুপগুলির দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে, যদি যাওয়া যায় তৃতীয় হয়েও!

    No comments