Showing posts with label Dinesh Karthik. Show all posts
Showing posts with label Dinesh Karthik. Show all posts

Sunday, November 4, 2018

কুলদীপের বল, কার্তিকের ব্যাটে ক্যারিবিয়ান-জয় । কাশীনাথ ভট্টাচার্য

 ইডেনে ম্যাচের সেরা কুলদীপ যাদব

টস: ভারত
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১০৯ / ৮, ফ্যাবিয়ান ২৭, কুলদীপ ৩/১৩
ভারত: ১১০/৫ (কার্তিক ৩১*, ক্রুনাল ২১*)

দুলহনিয়া সিমরন (কাজোল) দৌড়ে শেষ পর্যন্ত ধরে ফেলেছিলেন দিলওয়ালে রাজের (শাহরুখ) হাত, চলন্ত ট্রেনে।  শেষ হয়েছিল নয়ের দশকের সবচেয়ে বেশিদিন বক্স অফিস মাতানো ছবি। ইডেনেও ‘সিমরন’ দৌড়লেন, তবে, এই সিমরন হেটমায়ার। তাঁর সঙ্গেই দৌড়লেন সাই হোপ-ও। লক্ষ্য, একই দিকের ক্রিজ। প্রায় ফোটোফিনিশ! সিমরন পৌঁছলেন ‘দিলওয়ালে’-ক্রিজে আগে, জানাল রিভিউ। হোপের আশায় জলাঞ্জলি!
তার আগে ভারতীয় ফিল্ডিংয়েরও দশা প্রকট। দুজনকে একই দিকে দৌড়তে দেখে লোকেশ রাহুল উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিকের দিকে যেভাবে আলতো বলটা ছুড়লেন, কার্তিকের মাথা টপকে পেরিয়ে গেল। পেছনে সতর্ক ছিলেন মনীশ পাণ্ডে। বল ধরে নিশ্চিন্তে বেল ফেলে দিলেন স্ট্রাইকার প্রান্তের উইকেটে। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন হাস্যকর উপাদান কি আর রোজ মেলে!
স্থানীয় ক্রিকেটে যখন সিএবি লিগ চলে, বাংলা কাগজে নিয়ম করা থাকে। পঞ্চাশের কম রান বা চারের কম উইকেট পেলে, সচরাচর কারও নাম দেওয়া হয় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস শেষ হল যখন, সর্বোচ্চ রান আট নম্বরে নামা ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের, ২৭। সবচেয়ে বেশি উইকেট কুলদীপ যাদবের, তিনটি। চার ওভারে তিন উইকেট নিশ্চিতভাবেই বেশ ভাল পর্যায়ে। দুই স্পিনার কুলদীপ আর ক্রুনাল পাণ্ড্য, অভিষেকে যিনি ১৫ রানে পেলেন কিয়েরন পোলার্ডের উইকেট, আট ওভারে দুজনে মিলে দিলেন মাত্র ২৮ রান, তুলে নিলেন ৪ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস, টি টোয়েন্টি ম্যাচেও, স্পিনাতঙ্কে জড়সড়! রোহিত শর্মার ভারত কি সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে তিন স্পিনারে খেলবে?
পরে ফিল্ডিং করলে শিশিরের ভূমিকা অস্বীকার করা যাবে না, এই যুক্তিতে আগে ফিল্ডিং করে নিতে চেয়েছিলেন রোহিত, টস জিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু থেকেই ছন্নছাড়া। তার ওপর ওই একই দিকে দৌড়নোর যুক্তিহীন প্রতিযোগিতা! ফ্যাবিয়ান না খেললে তিন অঙ্কেও পৌঁছয় না। ড্যারেন ব্র্যভো শুরু করেছিলেন টেস্টে ব্রায়ান লারাকে মনে করিয়ে। হাঁটাচলা, ব্যাটিংয়ের ধরন, সবেতেই শেষ প্রজন্মের সেরা বাঁহাতির ছায়া। কিন্তু, ছায়া হয়েই থেকে গেলেন, ছবি আর হল কই!
ভারতীয় ইনিংস শুরুতে খানিকটা বিপথে। ওশানে টমাসের বল আলতো ভারতীয় অধিনায়কের ব্যাটে এমনভাবে ছুয়ে গেল উইকেটরক্ষক রামদিনের হাতে যে, স্নিকোমিটারই পারত সেই ছোঁয়া ধরে রাখতে। একদিনের সিরিজের পর টি টোয়েন্টিতেও শিখর ধাওয়ানের ব্যাট টেস্টের মতোই নিষ্ফলা। লোকেশ রাহুল ফিল্ডিংয়ে যেমন, ব্যাট হাতে তার চেয়ে একটু ভাল। কেকেআর-এর প্রাক্তন মনীশ আর বর্তমান অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক শেষ পর্যন্ত ধরলেন হাল। ঋষভ পন্থের হাত থেকে বড় গ্লাভস নিয়ে নিয়েছিলেন কার্তিক। তরুণ ঋষভের ব্যাট থেকে মাত্র এক রান কি সেই কারণেই?
লক্ষ্য যখন মাত্র ১১০, একটা জুটি হলেই হয়। ৪৫ রানে ৪ উইকেটের পর পরিচিত ইডেনে দুজনে এগোচ্ছিলেন ভালই। কিন্তু মনীশ আউট হলেন দলের ৮৩ ও ব্যক্তিগত ১৯ রানে। ৪৫ বলে ৩৮ রানের জুটি। হাতে তখনও পাঁচ ওভার। কেকেআর অধিনায়কের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত, নায়ক হয়ে ফেরার। ফিরলেনও, অপরাজিত ৩১ রানে। অভিষেকে ক্রুনাল পাণ্ড্য বল হাতে এক উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও সফল (অপরাজিত ২১, মাত্র ৯ বলে)। পাঁচ উইকেটে জয় ১৩ বল বাকি থাকতে।
মহম্মদ আজহারউদ্দিন বলেই ছিলেন, তিনি থাকলে ইডেনে সবসময় ভাল কিছুই হয়। তাঁর হাতে ঘন্টা বাজিয়ে শুরুর পর তাই ভারতের প্রথম টি টোয়েন্টি জয়েও অস্বাভাবিকতা নেই। শুরুর সামান্য ঝক্কি? ওটুকু না থাকলে আর ক্রিকেট কেন!

Sunday, April 22, 2018

যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল!‌

কাশীনাথ ভট্টাচার্য


‌যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল। এবং যারা ভেজেনি!‌

আইপিএল–‌এর বৃষ্টিভেজা গল্পে সামিল তারা সবাই।
ক্রিস গেইলের চতুর্থ ছয়ের সঙ্গেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এল। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে তখন দৌড়, চুপচুপে–‌ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে। গ্যালারির মানুষ, প্রখর রোদ মাথায় নিয়েও যাঁরা এসেছিলেন খেলা দেখতে, পুড়ছিলেন বলাই ঠিক, কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় শীতল হয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজতে রাজি না হয়ে গ্যালারির ছাদের তলায়। মাঠের মধ্যে–‌থাকা ক্রিকেটাররাও চলে এসেছিলেন প্যাভিলিয়নের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।
তখনই আবির্ভাব তাঁদের। বাউন্ডারি লাইন থেকে তাঁরা নিয়ে এলেন ‘‌কভার’‌। পিচ ঢাকা পড়ল, মাঠ ঢাকা পড়ল।
এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। সব ঢাকা পড়ে যাওয়ার পর তাঁরা কিন্তু মাঠ ছাড়লেন না। দাঁড়িয়েই রইলেন। তাঁদের পায়ের চাপেই চাপা পড়ে থাকতে হল বৈশাখী বিশৃঙ্খল হাওয়ায় উড়ে–‌যেতে–‌চাওয়া সেই মহার্ঘ্য ‘‌কভার’‌গুলোকে। অঝোর বৃষ্টিতে সেই মানুষগুলো কর্তব্যসাধনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ভিজলেন। তাঁদের কাজ। কর্তব্য। নড়লেন না একচুলও। প্রায় স্থাণু। কর্তব্যনিষ্ঠ।
৮.‌২ ওভারে বিনা উইকেটে ৯৬ রানে বৃষ্টি এসেছিল। থেমে যাওয়ার পর খেলার শুরুতে লক্ষ্য এল ১৩ ওভারে ১২৫। অর্থাৎ, আরও ২৮ বলে ২৯ রান। সিএবি–‌সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি টুইট করলেন, ‘‌এক ঘন্টা বৃষ্টির পর ১৫ মিনিটেই খেলা শুরু হল, এখন ইডেনের ব্যবস্থাপনা বিশ্বে অন্যতম সেরা।’‌ সেনাপতিকে এই মন্তব্য করার অধিকার দিলেন সেই কর্মীরাই, খোলামাঠে বৃষ্টিতে ভিজলেন যাঁরা, অকাতর!‌ সেনাপতির কৃতিত্ব, তিনি ভেবেছিলেন এমনও করা যায়। ইংল্যান্ড থেকে আনিয়েছিলেন সেই ‘‌কভার’‌গুলো, মাঠ ঢেকে রাখা যায় যা দিয়ে, বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ঢুকে পড়ে না ভেতরে। পিচ ও আউটফিল্ড থেকে যায় অক্ষত। আর তাঁর ভাবনাকে কাজে পরিণত করতেই ঘাম ও বৃষ্টিতে ভেজা অকাতর!‌



[caption id="attachment_4180" align="alignleft" width="2000"] লোকেশ রাহুল, ম্যাচের নায়ক। ছবি - বিসিসিআই[/caption]

কাজটা নেহাতই সহজ ছিল তারপর। গেইল আর লোকেশ রাহুল ঝড়ে তার আগেই ডাকওয়ার্থ লুইসকেও হারিয়ে দিয়েছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। সেই ৮.‌২ ওভারে জরুরি ছিল ৬৫ রান, বিনা উইকেটে। তা হলেই জয়। সেখানে ৩১ রান বেশি নিয়ে বৃষ্টিমাথায় ফিরেছিলেন দুজনে। আরও ৮ বল পরে জয় থেকে ৯ রান দূরত্বে আউট লোকেশ, যাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে আছে ‘‌রাহুল‌’‌, কিন্তু কী অদ্ভুত বৈপরীত্য!‌ এই লোকেশ রাহুল ২৭ বলে ৬০ করে গেলেন, ৯ বাউন্ডারি ও দুই ওভার বাউন্ডারিতে, নিয়ে গেলেন ম্যাচের সেরার পুরস্কারও। অন্যপ্রান্তে গেইল যাঁর নাম পাল্টে কলকাতা ‘‌কালবৈশাখী’‌ রাখতেই পারে, ৫টি চার ও ছয় ছক্কায় সাজালেন তাঁর অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস, ৩৮ বলে। অরেঞ্জ ক্যাপের মালিকও হয়ে গেলেন গেইল, তিন ম্যাচ খেলেই!‌ কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব জিতল ৯ উইকেটে, ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ১.‌৫ ওভার বাকি থাকতেই। উঠে এল আইপিএল শীর্ষে।
তার আগে কলকাতার ইনিংস ১৯১ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস লিন (‌৭৪, ৪১ বল, ৬x‌৪, ৪x‌৬)‌ এবং অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক (‌২৮ বলে ৪৩)‌। শেষ দু–‌ওভারে রানই উঠল না প্রায়। দুশোর গণ্ডি পেরন উচিত ছিল, পেরয়নি। দুশোর বেশি রানের লক্ষ্য না থাকলে আর গেইল–‌রাহুল জুটি এভাবে শুরু থেকেই ছক্কাবৃষ্টিতে মেতে উঠলে, ‘‌ডিকে’‌–‌র ব্যাটে ‘‌ডিজে’‌ সেভাবে বেজে ওঠার সুযোগ আর পাবেই বা কী করে!‌

Monday, April 9, 2018

‘ভিকে’ পরাস্ত, ‘ডিকে’ জয়ী, ‘এনআর’-এর ওভারে!

কাশীনাথ ভট্টাচার্য


‘এনআর’ ক্রিকেটে প্রচলিত শব্দসংক্ষেপ। ক্রিকেট সংক্রান্ত যে কোনও পরিসংখ্যানে ‘এনআর’ থাকে, ‘নো রেজাল্ট’ বোঝাতে। অর্থ, যে ম্যাচ খেলা হয়েছিল কিন্তু ফলহীন। একাদশ আইপিএল-এ কলকাতার ইডেন গার্ডেনস-এ প্রথম খেলায় সেই ‘এনআর’-ই ঘুরিয়ে দিল খেলার ফল। ডিকে বনাম ভিকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হয়ে উঠলেন নীতিশ রানা, ইংরেজিতে যাঁর নামের আদ্যক্ষর ‘এনআর’। দিল্লির এই ২৪ বছর বয়সী ডানহাতি অফব্রেক বোলার কেকেআর-এর হয়ে অভিষেকে প্রথমে ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন ম্যাচের চাকা। এক ওভারে পরপর দু’বলে এবি ডিভিলিয়ার্স ও বিরাট কোহলিকে ফিরিয়ে। পরে, বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসাবে চার নম্বরে নেমে দিল্লির নীতিশ খেলে গেলেন ২৫ বলে ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসও। অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তাঁর জুটিতে উঠেছিল ৫৫ রান, ৪২ বলে।

ওয়াশিংটন সুন্দরের যে-বলে আউট হলেন নীতিশ, আগের বলেই ছয় মেরেছিলেন। পরের বলেও চালাতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লু। কিন্তু, তাঁর ধারণা হয়েছিল, বল তাঁর ব্যাট ছুঁয়ে গিয়েছিল। সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন অধিনায়ককে। টিভি রিপ্লে দেখিয়ে দেয়, ব্যাট ছুঁয়ে যায়নি বল। কিন্তু, বেঙ্গালুরু ইনিংস যখন ২০০-র লক্ষ্যে দৌড়চ্ছিল, নীতিশ কোনও ভুল করেননি। অধিনায়ক হিসাবে কার্তিকের আইপিএল-এ প্রথম ম্যাচে ইনিংসের ১৫তম ওভারে নীতিশকে বল করতে ডাকা ফাটকা। শুরুতেই বিনয় কুমারের প্রথম ওভারে ১৪ রানের পর বাকি তিন ওভার কাকে দিয়ে করাবেন ভাবনা থেকেই নীতিশকে আনা। প্রথম বলে ডিভিলিয়ার্সের ছয়। গুঞ্জন শুরু, কার্তিকের সিদ্ধান্ত যথাযথ কিনা। ক্রিকেট কেন এক বলের খেলা, পরের বলেই বোঝালেন নীতিশ। ডিভিলিয়ার্স আবারও ছয় মারতে গিয়ে জনসনের হাতে বন্দি হলেন। পরের বলটা ম্যাচের সেরা। অফব্রেক বোলারের হাত থেকে ইয়র্কারে দেশের অধিনায়ক বোল্ড! ১২৭ রানে পরপর দুটি উইকেট হারিয়ে ছন্দহারা আরসিবি শেষ পর্যন্ত ১৭৬ রানে পৌঁছেছিল মনদীপ সিংয়ের ১৮ বলে ৩৭-এর সৌজন্যে। বিনয় কুমার শেষ ওভারে ১৬ রান দিয়ে সুবিধাও করে দেন, বলা বাহুল্য।

[caption id="attachment_4170" align="alignleft" width="2000"] ব্যাটহাতে বিধ্বংসী নারিন, রবিবার ইডেনে। ছবি - আইপিএল[/caption]

কলকাতার ব্যাটিংয়ে প্রথম নায়ক অবশ্যই সুনীল নারিন। গত বছর যিনি বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেই ১৫ বলে ৫০ রানে পৌঁছে আইপিএল-এ দ্রুততম অর্ধশতরানের রেকর্ড করেছিলেন এবং এই ম্যাচ খেলতে নামার আগেই জেনে গিয়েছিলেন যে, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের লোকেশ রাহুল তাঁর সেই রেকর্ড ভেঙে ১৪ বলে পঞ্চাশে পৌঁছে লিখে ফেলেছেন নতুন রেকর্ড। ক্যারিবিয়ান নারিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। খেলতে পারবেন কিনা, ছিল সংশয়ও। চার ওভারে ৩০ রানে এক উইকেট নারিনসুলভ দাপটে নয়। কিন্তু, ব্যাট হাতে বাঁহাতির ঝড় কলকাতাকে দিয়ে গিয়েছিল ১৭৭ তাড়া করার প্রয়োজনীয় রসদ।

চার বাউন্ডারি ও পাঁচ ওভারবাউন্ডারির সৌজন্যে ১৭ বলে পঞ্চাশে পৌঁছেছিলেন নারিন। স্কোরবোর্ডে ৬৫, ওভার সবে পাঁচ। ওয়াশিংটন সুন্দর, বোলিংয়ে যাঁর কৃপণ স্বভাব টি টোয়েন্টির এই আইপিএল জগতে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সেই ওয়াশিংটনেরই ৬ বলে ১৯ রান নিয়েছিলেন নারিন, নিজের পঞ্চাশে পৌঁছতে। তার দু’বল পরই আউট। কিন্তু পাওয়ার প্লে-র পাঁচ ওভারে ৬৫, ওভার-প্রতি ১৩ রানের যে ভিত তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিলেন নারিন তার ওপর দাঁড়িয়েই কার্তিক এবং নীতিশ এগিয়ে নিয়ে যান দলকে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে, নিশ্চিন্তে।

কার্তিক বলেছিলেন, কখন ব্যাট করতে আসবেন তিনি, ঠিক করাটাই আসল। দেখা গেল, রবিন উথাপ্পা আউট হওয়ার পর মাঠে এলেন তিনি। কেকেআর-এর অন্যতম ধারাবাহিক এবং অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর মাঠে এসে শেষ পর্যন্ত থেকে গেলেন ২৯ বলে ৩৫ করে, নির্ভরতার প্রতিমূর্তি হয়ে। বলহাতে যে বিনয় কুমার প্রথম এবং শেষ ওভারে দিয়েছিলেন ১৪ ও ১৬ রান, জয়ের বাউন্ডারি তাঁর ব্যাট থেকেই।

সাত বল বাকি থাকতে চার উইকেটে জিতে শুরু হল কেকেআর-এর নতুন অধিনায়কের ইনিংস!