কুলদীপের বল, কার্তিকের ব্যাটে ক্যারিবিয়ান-জয় । কাশীনাথ ভট্টাচার্য
![]() |
| ইডেনে ম্যাচের সেরা কুলদীপ যাদব |
টস: ভারত
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১০৯ / ৮, ফ্যাবিয়ান
২৭, কুলদীপ ৩/১৩
ভারত: ১১০/৫ (কার্তিক ৩১*, ক্রুনাল
২১*)
দুলহনিয়া সিমরন (কাজোল) দৌড়ে শেষ
পর্যন্ত ধরে ফেলেছিলেন দিলওয়ালে রাজের (শাহরুখ) হাত, চলন্ত ট্রেনে। শেষ হয়েছিল নয়ের দশকের সবচেয়ে বেশিদিন বক্স
অফিস মাতানো ছবি। ইডেনেও ‘সিমরন’ দৌড়লেন, তবে, এই সিমরন হেটমায়ার। তাঁর সঙ্গেই দৌড়লেন
সাই হোপ-ও। লক্ষ্য, একই দিকের ক্রিজ। প্রায় ফোটোফিনিশ! সিমরন পৌঁছলেন
‘দিলওয়ালে’-ক্রিজে আগে, জানাল রিভিউ। হোপের আশায় জলাঞ্জলি!
তার আগে ভারতীয় ফিল্ডিংয়েরও দশা
প্রকট। দুজনকে একই দিকে দৌড়তে দেখে লোকেশ রাহুল উইকেটরক্ষক দীনেশ কার্তিকের দিকে
যেভাবে আলতো বলটা ছুড়লেন, কার্তিকের মাথা টপকে পেরিয়ে গেল। পেছনে সতর্ক ছিলেন মনীশ
পাণ্ডে। বল ধরে নিশ্চিন্তে বেল ফেলে দিলেন স্ট্রাইকার প্রান্তের উইকেটে। ম্যাচের
টার্নিং পয়েন্ট নয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন হাস্যকর উপাদান কি আর রোজ মেলে!
স্থানীয় ক্রিকেটে যখন সিএবি লিগ চলে,
বাংলা কাগজে নিয়ম করা থাকে। পঞ্চাশের কম রান বা চারের কম উইকেট পেলে, সচরাচর কারও
নাম দেওয়া হয় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস শেষ হল যখন, সর্বোচ্চ রান আট নম্বরে নামা
ফ্যাবিয়ান অ্যালেনের, ২৭। সবচেয়ে বেশি উইকেট কুলদীপ যাদবের, তিনটি। চার ওভারে তিন
উইকেট নিশ্চিতভাবেই বেশ ভাল পর্যায়ে। দুই স্পিনার কুলদীপ আর ক্রুনাল পাণ্ড্য,
অভিষেকে যিনি ১৫ রানে পেলেন কিয়েরন পোলার্ডের উইকেট, আট ওভারে দুজনে মিলে দিলেন
মাত্র ২৮ রান, তুলে নিলেন ৪ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংস, টি টোয়েন্টি ম্যাচেও,
স্পিনাতঙ্কে জড়সড়! রোহিত শর্মার ভারত কি সিরিজের বাকি দুটি ম্যাচে তিন স্পিনারে
খেলবে?
পরে ফিল্ডিং করলে শিশিরের ভূমিকা
অস্বীকার করা যাবে না, এই যুক্তিতে আগে ফিল্ডিং করে নিতে চেয়েছিলেন রোহিত, টস
জিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস শুরু থেকেই ছন্নছাড়া। তার ওপর ওই একই দিকে দৌড়নোর
যুক্তিহীন প্রতিযোগিতা! ফ্যাবিয়ান না খেললে তিন অঙ্কেও পৌঁছয় না। ড্যারেন ব্র্যভো
শুরু করেছিলেন টেস্টে ব্রায়ান লারাকে মনে করিয়ে। হাঁটাচলা, ব্যাটিংয়ের ধরন, সবেতেই
শেষ প্রজন্মের সেরা বাঁহাতির ছায়া। কিন্তু, ছায়া হয়েই থেকে গেলেন, ছবি আর হল কই!
ভারতীয় ইনিংস শুরুতে খানিকটা বিপথে।
ওশানে টমাসের বল আলতো ভারতীয় অধিনায়কের ব্যাটে এমনভাবে ছুয়ে গেল উইকেটরক্ষক
রামদিনের হাতে যে, স্নিকোমিটারই পারত সেই ছোঁয়া ধরে রাখতে। একদিনের সিরিজের পর টি
টোয়েন্টিতেও শিখর ধাওয়ানের ব্যাট টেস্টের মতোই নিষ্ফলা। লোকেশ রাহুল ফিল্ডিংয়ে
যেমন, ব্যাট হাতে তার চেয়ে একটু ভাল। কেকেআর-এর প্রাক্তন মনীশ আর বর্তমান অধিনায়ক দীনেশ
কার্তিক শেষ পর্যন্ত ধরলেন হাল। ঋষভ পন্থের হাত থেকে বড় গ্লাভস নিয়ে নিয়েছিলেন
কার্তিক। তরুণ ঋষভের ব্যাট থেকে মাত্র এক রান কি সেই কারণেই?
লক্ষ্য যখন মাত্র ১১০, একটা জুটি
হলেই হয়। ৪৫ রানে ৪ উইকেটের পর পরিচিত ইডেনে দুজনে এগোচ্ছিলেন ভালই। কিন্তু মনীশ
আউট হলেন দলের ৮৩ ও ব্যক্তিগত ১৯ রানে। ৪৫ বলে ৩৮ রানের জুটি। হাতে তখনও পাঁচ
ওভার। কেকেআর অধিনায়কের জন্য মঞ্চ প্রস্তুত, নায়ক হয়ে ফেরার। ফিরলেনও, অপরাজিত ৩১
রানে। অভিষেকে ক্রুনাল পাণ্ড্য বল হাতে এক উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতেও সফল
(অপরাজিত ২১, মাত্র ৯ বলে)। পাঁচ উইকেটে জয় ১৩ বল বাকি থাকতে।
মহম্মদ আজহারউদ্দিন বলেই ছিলেন, তিনি থাকলে ইডেনে
সবসময় ভাল কিছুই হয়। তাঁর হাতে ঘন্টা বাজিয়ে শুরুর পর তাই ভারতের প্রথম টি টোয়েন্টি
জয়েও অস্বাভাবিকতা নেই। শুরুর সামান্য ঝক্কি? ওটুকু না থাকলে আর ক্রিকেট কেন!

No comments