যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল!
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
যারা বৃষ্টিতে ভিজেছিল। এবং যারা ভেজেনি!
আইপিএল–এর বৃষ্টিভেজা গল্পে সামিল তারা সবাই।
ক্রিস গেইলের চতুর্থ ছয়ের সঙ্গেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এল। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে তখন দৌড়, চুপচুপে–ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে। গ্যালারির মানুষ, প্রখর রোদ মাথায় নিয়েও যাঁরা এসেছিলেন খেলা দেখতে, পুড়ছিলেন বলাই ঠিক, কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় শীতল হয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজতে রাজি না হয়ে গ্যালারির ছাদের তলায়। মাঠের মধ্যে–থাকা ক্রিকেটাররাও চলে এসেছিলেন প্যাভিলিয়নের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।
তখনই আবির্ভাব তাঁদের। বাউন্ডারি লাইন থেকে তাঁরা নিয়ে এলেন ‘কভার’। পিচ ঢাকা পড়ল, মাঠ ঢাকা পড়ল।
এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। সব ঢাকা পড়ে যাওয়ার পর তাঁরা কিন্তু মাঠ ছাড়লেন না। দাঁড়িয়েই রইলেন। তাঁদের পায়ের চাপেই চাপা পড়ে থাকতে হল বৈশাখী বিশৃঙ্খল হাওয়ায় উড়ে–যেতে–চাওয়া সেই মহার্ঘ্য ‘কভার’গুলোকে। অঝোর বৃষ্টিতে সেই মানুষগুলো কর্তব্যসাধনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ভিজলেন। তাঁদের কাজ। কর্তব্য। নড়লেন না একচুলও। প্রায় স্থাণু। কর্তব্যনিষ্ঠ।
৮.২ ওভারে বিনা উইকেটে ৯৬ রানে বৃষ্টি এসেছিল। থেমে যাওয়ার পর খেলার শুরুতে লক্ষ্য এল ১৩ ওভারে ১২৫। অর্থাৎ, আরও ২৮ বলে ২৯ রান। সিএবি–সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি টুইট করলেন, ‘এক ঘন্টা বৃষ্টির পর ১৫ মিনিটেই খেলা শুরু হল, এখন ইডেনের ব্যবস্থাপনা বিশ্বে অন্যতম সেরা।’ সেনাপতিকে এই মন্তব্য করার অধিকার দিলেন সেই কর্মীরাই, খোলামাঠে বৃষ্টিতে ভিজলেন যাঁরা, অকাতর! সেনাপতির কৃতিত্ব, তিনি ভেবেছিলেন এমনও করা যায়। ইংল্যান্ড থেকে আনিয়েছিলেন সেই ‘কভার’গুলো, মাঠ ঢেকে রাখা যায় যা দিয়ে, বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ঢুকে পড়ে না ভেতরে। পিচ ও আউটফিল্ড থেকে যায় অক্ষত। আর তাঁর ভাবনাকে কাজে পরিণত করতেই ঘাম ও বৃষ্টিতে ভেজা অকাতর!
ক্রিস গেইলের চতুর্থ ছয়ের সঙ্গেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এল। মাঠের ভেতরে এবং বাইরে তখন দৌড়, চুপচুপে–ভিজে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে। গ্যালারির মানুষ, প্রখর রোদ মাথায় নিয়েও যাঁরা এসেছিলেন খেলা দেখতে, পুড়ছিলেন বলাই ঠিক, কালবৈশাখীর দমকা হাওয়ায় শীতল হয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজতে রাজি না হয়ে গ্যালারির ছাদের তলায়। মাঠের মধ্যে–থাকা ক্রিকেটাররাও চলে এসেছিলেন প্যাভিলিয়নের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।
তখনই আবির্ভাব তাঁদের। বাউন্ডারি লাইন থেকে তাঁরা নিয়ে এলেন ‘কভার’। পিচ ঢাকা পড়ল, মাঠ ঢাকা পড়ল।
এই পর্যন্ত ঠিকই ছিল। সব ঢাকা পড়ে যাওয়ার পর তাঁরা কিন্তু মাঠ ছাড়লেন না। দাঁড়িয়েই রইলেন। তাঁদের পায়ের চাপেই চাপা পড়ে থাকতে হল বৈশাখী বিশৃঙ্খল হাওয়ায় উড়ে–যেতে–চাওয়া সেই মহার্ঘ্য ‘কভার’গুলোকে। অঝোর বৃষ্টিতে সেই মানুষগুলো কর্তব্যসাধনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ভিজলেন। তাঁদের কাজ। কর্তব্য। নড়লেন না একচুলও। প্রায় স্থাণু। কর্তব্যনিষ্ঠ।
৮.২ ওভারে বিনা উইকেটে ৯৬ রানে বৃষ্টি এসেছিল। থেমে যাওয়ার পর খেলার শুরুতে লক্ষ্য এল ১৩ ওভারে ১২৫। অর্থাৎ, আরও ২৮ বলে ২৯ রান। সিএবি–সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি টুইট করলেন, ‘এক ঘন্টা বৃষ্টির পর ১৫ মিনিটেই খেলা শুরু হল, এখন ইডেনের ব্যবস্থাপনা বিশ্বে অন্যতম সেরা।’ সেনাপতিকে এই মন্তব্য করার অধিকার দিলেন সেই কর্মীরাই, খোলামাঠে বৃষ্টিতে ভিজলেন যাঁরা, অকাতর! সেনাপতির কৃতিত্ব, তিনি ভেবেছিলেন এমনও করা যায়। ইংল্যান্ড থেকে আনিয়েছিলেন সেই ‘কভার’গুলো, মাঠ ঢেকে রাখা যায় যা দিয়ে, বৃষ্টির জল চুঁইয়ে ঢুকে পড়ে না ভেতরে। পিচ ও আউটফিল্ড থেকে যায় অক্ষত। আর তাঁর ভাবনাকে কাজে পরিণত করতেই ঘাম ও বৃষ্টিতে ভেজা অকাতর!
[caption id="attachment_4180" align="alignleft" width="2000"]
লোকেশ রাহুল, ম্যাচের নায়ক। ছবি - বিসিসিআই[/caption]কাজটা নেহাতই সহজ ছিল তারপর। গেইল আর লোকেশ রাহুল ঝড়ে তার আগেই ডাকওয়ার্থ লুইসকেও হারিয়ে দিয়েছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। সেই ৮.২ ওভারে জরুরি ছিল ৬৫ রান, বিনা উইকেটে। তা হলেই জয়। সেখানে ৩১ রান বেশি নিয়ে বৃষ্টিমাথায় ফিরেছিলেন দুজনে। আরও ৮ বল পরে জয় থেকে ৯ রান দূরত্বে আউট লোকেশ, যাঁর নামের সঙ্গে জুড়ে আছে ‘রাহুল’, কিন্তু কী অদ্ভুত বৈপরীত্য! এই লোকেশ রাহুল ২৭ বলে ৬০ করে গেলেন, ৯ বাউন্ডারি ও দুই ওভার বাউন্ডারিতে, নিয়ে গেলেন ম্যাচের সেরার পুরস্কারও। অন্যপ্রান্তে গেইল যাঁর নাম পাল্টে কলকাতা ‘কালবৈশাখী’ রাখতেই পারে, ৫টি চার ও ছয় ছক্কায় সাজালেন তাঁর অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস, ৩৮ বলে। অরেঞ্জ ক্যাপের মালিকও হয়ে গেলেন গেইল, তিন ম্যাচ খেলেই! কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব জিতল ৯ উইকেটে, ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে ১.৫ ওভার বাকি থাকতেই। উঠে এল আইপিএল শীর্ষে।
তার আগে কলকাতার ইনিংস ১৯১ পর্যন্ত টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ক্রিস লিন (৭৪, ৪১ বল, ৬x৪, ৪x৬) এবং অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক (২৮ বলে ৪৩)। শেষ দু–ওভারে রানই উঠল না প্রায়। দুশোর গণ্ডি পেরন উচিত ছিল, পেরয়নি। দুশোর বেশি রানের লক্ষ্য না থাকলে আর গেইল–রাহুল জুটি এভাবে শুরু থেকেই ছক্কাবৃষ্টিতে মেতে উঠলে, ‘ডিকে’–র ব্যাটে ‘ডিজে’ সেভাবে বেজে ওঠার সুযোগ আর পাবেই বা কী করে!
No comments