• Breaking News

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য / মুম্বইকে ছুঁয়ে দ্বিমুকুট গোয়েনকার দলের

    জয়ের গোল সেই ম্যাকলারেনের পায়েই

    এমবিএসজি – ২ (কামিংস পে ৭২, ম্যাকলারেন ৯৬)

    বেঙ্গালুরু – ১ (অলড্রেড, আত্মঘাতী ৪৯)

    মুম্বই সিটি এফসি-র ২০২০-২১ মরসুমের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। দ্বিমুকুট জিতল লিগ-শিল্ডের পর আইএসএল কাপও জিতে। ঘরের মাঠে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে ট্রফিজয়ের গোল এনে ইতিহাস লিখলেন জেমি ম্যাকলারেন।

    সেই চিংলেনসানা সিংয়ের দ্বিতীয় ভুলে যাঁর উঁচু হয়ে থাকা হাতে বল লাগায় ৭০ মিনিটে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি সেনথিল নাথান, গোল করে সমতা ফিরিয়েছিলেন জেসন কামিংস। দ্বিতীয় গোলের সময় সানা আবার বক্সের মধ্যে বলে টোকা লাগালেন। বল বেরল পা থেকে, তৎপর ম্যাকলারেন সামনেই ছিলেন, বল ধরে ঘুরলেন হতচকিত সানাকে দাঁড় করিয়ে রেখে। সামনে তখন গুরপ্রীত সিং। তাঁর উচ্চতার সুযোগ নিয়ে দুপায়ের ফাঁক দিয়েই জালে জড়ালেন বল।

    প্রথমার্ধে পুরোটাই বেঙ্গালুরুর দখলে, বল ঘোরাফেরা করছিল এমবিএসজি রক্ষণেই। রায়ান ডেল উইলিয়ামস আর আলবের্তো নোগেরা রিপোল, বারবার আক্রমণে এসেছিলেন, মাঝখানে অপেক্ষায় ছিলেন সুনীল। কিন্তু, বিপক্ষের রক্ষণ হাঁ করে খুলে ফেলার মতো আক্রমণ দেখাই যায়নি প্রায়। দুপ্রান্ত থেকে বল উঁচু হয়ে এসেছিল রক্ষণে, দুই বিদেশি টমাস অলড্রেড আর আলবের্তো রোদরিগেজের রক্ষণ নিশ্চিন্তেই সামলাচ্ছিলেন আক্রমণ। রেফারির তীব্র অনীহা ছিল হলুদ কার্ড দেখানোয়, প্রথমবার হলুদ কার্ড বেরয় ৮৫ মিনিটে, বেঙ্গালুরুর হোরখে দিয়াজের জন্য।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় বেঙ্গালুরু, উইলিয়ামের শট অলড্রেডের হাঁটুতে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যাওয়ায়। যুবভারতীতে হাজির হাজার ৫৯ দর্শককে চুপ করিয়ে। কিন্তু খেরার সারাগোসার দলকে শেষ পর্যন্ত গোল হজম করতেই হয় সানার ভুলে। মাটিতে পড়ে যাচ্ছিলেন, হাত উঁচু হয়ে গিয়েছিল, যা এখনকার নিয়ম অনুসারে স্বাভাবিক অবস্থান নয়।

    সমতা ফেরানোর পরই খেলায় ফিরেছিল সঞ্জীব গোয়েনকার দল। বেঙ্গালুরু তখন গোল বাঁচাতে ব্যস্ত। অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যাওয়ার পর তো যুবভারতীর শব্দব্রহ্ম কাজে লাগিয়ে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি তাঁদের পায়েই।  লিগজুড়ে অসংখ্য রেকর্ড করার পর নকআউটেও অপরাজিত থাকল। গোল খেলেও হোসে মোলিনার দলের বড় সান্ত্বনা, বিপক্ষের কোনও ফুটবলার অবশ্য তাঁদের জালে বল জড়াতে পারেনি।

    তিনবার আইএসএল ফাইনালে হারলেন সুনীল ছেত্রি। হয়ত, শেষবারের মতো। ঘোষিত অবসরের ম্যাচেও জিতে যেতে পারেননি কলকাতার জামাই। ক্লাবের হয়েও যদি শেষবারের মতো যুবভারতীতে খেলে থাকেন, সঙ্গী হল হারই।

    সুনীল ছেত্রি কি শেষবার খেলে ফেললেন যুবভারতীতে?


    লখনউ-এর খেলা ছেড়ে কলকাতাতেই পড়েছিলেন গোয়েনকা। ফুটবলে তাঁদের মালিককে অসন্তুষ্ট হওয়ার কোনও সুযোগ দেয়নি কলকাতার সুপার জায়েন্টরা। এবার ম্যাকলারেন-কামিংসদের লক্ষ্য সুপার কাপে কলিঙ্গবিজয়।

    এমবিএসজি বিশাল কাইথ; শুভাশিস বোস (দীপক টাংরি ৯০), আলবের্তো রোদরিগেজ, টমাস অলড্রেড, আশিস রাই; লিস্টন কোলাসো (আশিক কুরুনিয়ান ৬২), লালেংমাউইয়া রালতে (আপুইয়া), অনিরুধ থাপা (সাহাল আবদুল সামাদ ৬২), মনবীর সিং; জেসন কামিংস (গ্রেগ স্টুয়ার্ট ৮১), জেমি ম্যাকলারেন (দিমিত্রি পেত্রাতোস ১০২)

    বেঙ্গালুরু এফসি – গুরপ্রীত সিং; রাহুল ভেকে, চিংলেনসানা সিং, নামগিয়াল ভুটিয়া, নাওরেম রোশন সিং; সুরেশ সিং ওয়াংজাম (মোহামেদ সালাহ ৯০), আলবের্তো নোগেরা রিপোল (ফানাই লালরেমতুলুঙ্গা ৬০), পেদ্রো লুইস কাপো পায়েরাস; সুনীল ছেত্রি, এদগার আন্তোনিও মেনদেজ (হোরখে রোলানদো দিয়াজ ৬৮)।

    রেফারি – সেনথিল নাথান এস


    আইএসএল-এর লিগ-শিল্ড এবং কাপজয়ীরা

    মরসুম              লিগ-শিল্ডজয়ী  কাপজয়ী

    ২০১৯-২০        এফসি গোয়া    এটিকে

    ২০২০-২১        মুম্বই সিটি        মুম্বই সিটি

    ২০২১-২২        জামশেদপুর     হায়দরাবাদ

    ২০২২-২৩       মুম্বই সিটি         এটিকে মোহনবাগান

    ২০২৩-২৪       এমবিএসজি     মুম্বই সিটি

    ২০২৪-২৫       এমবিএসজি        এমবিএসজি


    ছবি - আইএসএল

    No comments