কাশীনাথ ভট্টাচার্য / পেনাল্টিতে বাঁধ ভেঙে দ্বিমুকুটের সামনে এমবিএসজি
এমবিএসজি – ২ (কামিংস পে ৫১, আপুইয়া ৯৪)
জামশেদপুর – ০
প্রথম পর্ব জামশেদপুর ২-১
দু-পর্ব মিলিয়ে এমবিএসজি ৩-২ জয়ী
টাটা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সেদিন রেফারি ছিলেন অশ্বিন কুমার।
প্রথম লেগের ৬ মিনিটে আশিস রাইয়ের হাতে পেনাল্টি বক্সে বল লাগলেও পেনাল্টি দেননি। বিবেকানন্দ
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে দ্বিতীয়ার্ধের ৫ মিনিটে যখন হাতে বল লাগল
প্রণয় হালদারের রেফারি তেজস নাগভেনকার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁশি বাজিয়ে দেন পেনাল্টির। না,
হাতে বল লাগলেও হলুদ কার্ড দেখাতে পারেননি রেফারি!
২-২ করে ফেলার পর ফাইনালে ওঠার গোলের জন্য ছিল শুধুই সময়ের
অপেক্ষা। শেষে সেই গোল এল ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে। খলনায়ক এবার সত্যিই প্রণয়!
বল নিজের দখলে নিয়ে নিলেন বক্সে বিপজ্জনক অবস্থান থেকে। এগোলেন বল নিয়ে, জমা দিলেন অনিরুধ থাপার পায়ে।
থাপা থেকে আপুইয়া যিনি বক্সের ঠিক ওপর থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে বল জড়িয়ে
দিলেন গোলকিপার আলবিনো গোমসের দূরের পোস্টের ওপর দিয়ে জালে। ফলে, ফাইনাল এবার ১২
এপ্রিল, যুবভারতীতে। সুনীল ছেত্রির বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে খেলবে মোহনবাগান সুপার
জায়ান্ট।
খালিদ জামিলের কৌশল ছিল সহজ। এগিয়ে থাকার কারণে গোল খেতে রাজি নন, জিততে তো ননই। আবার জিততে চাইবেনই বা কেন? তার ওপর আগের ম্যাচে স্টিফেন এজে এবং আশুতোষ মেহতাকে হলুদ কার্ড দেখানোয় ফিরতিম্যাচে ছিলেন না তাঁরা। মুশকিল হল, এমন বক্সে সারাক্ষণ বসে খেললে গোল হজম করতেই হয়, ফুটবল সাক্ষী। হয়ত, যে গোলটা হল, পেনাল্টি থেকে। কিন্তু দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে ক্লান্ত প্রণয়ের ভুল অস্ত্র তুলে দিয়েছিল সঞ্জীব গোয়েনকার দলের কাছে। মালিক ও লখনউ সুপার জায়ান্টের কয়েকজন ক্রিকেটারের উপস্থিতি এবং ৫৮ হাজারের জনসমর্থন সঙ্গে নিয়ে ফাইনালে সুপার জায়ান্ট।
খেলায় মোটামুটি নয়, পুরোপুরিই প্রাধান্য ছিল কলকাতার দলের।
কারণ, বিপক্ষ খেলতে চায়নি, গোল আটকাতে চেয়েছিল। বেশিরভাগ সময়ই বল ঘোরাফেরা করেছে
জামশেদপুরের বক্সের ওপরে বা আশেপাশে। কামিংস ফ্রি কিক থেকে দুরন্ত গোল করেছিলেন
জামশেদপুরের মাঠে। এবার প্রথমার্ধেই তিনি বার দুয়েক সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বল
রাখতে পারেননি লক্ষ্যে। প্রথম ম্যাচে জামশেদপুরের বল পজেশন ছিল ২৬.৭ শতাংশ। ফিরতি ম্যাচে
এবার ২৬.৪ শতাংশ। ভারতীয় কোচ হিসাবে আইএসএল-এর ফাইনালে দলকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে
এমন মোরিনিও-সদৃশ শৃঙ্খলিত ফুটবলও কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজে এল না!
আইএসএল-এ মুম্বই সিটি এফসি প্রথম এবং একমাত্র এখনও,
লিগ-শিল্ডের পাশাপাশি কাপও জিতেছে। ঘরের মাঠ বিবেকানন্দ যুবভারতীতে যেখানে এবার এখনও
অপরাজিত, মুম্বইকে ছুঁয়ে ফেলার সুযোগ গোয়েনকার দলের সামনে!
এমবিএসজি – বিশাল কাইথ; শুভাশিস বোস,
আলবের্তো রোদরিগেজ, টমাস অলড্রেড, আশিস
রাই; লিস্টন কোলাসো, লালেংমাউইয়া রালতে
(আপুইয়া), অনিরুধ থাপা, আশিক কুরুনিয়ান (মনবীর সিং ৭০); জেমি
ম্যাকলারেন, জেসন কামিংস (ডিমিট্রি পেট্রাটোস ৮১)।
জামশেদপুর এফসি – আলবিনো গোমস; লাজার সিরকোভিচ, মুহম্মদ উবাইস, প্রণয় হালদার,;
রেই তাচিকাওয়া (হাবিয়ের সিবেরিও ৫৭), খাবিয়ের এরনানদেজ, সৌরভ দাস, সানান মহম্মদ (ঋত্বিক
দাস ৫৭); সেইমিনলেন দৌনগেল (শ্রীকুট্টান ৫৭), ডেভিড মারে, নিখিল বারলা (প্রতীক চৌধুরি
৬২)।
রেফারি – তেজস নাগভেনকার
ছবি - আইএসএল


No comments