কোমলের গোল সত্ত্বেও হারে ফিরল এটিকে । কাশীনাথ ভট্টাচার্য
| আইএসএল-এ প্রথম গোলের পর কোমল থাটাল। ছবি - আইএসএল |
এটিকে – ১ বেঙ্গালুরু – ২
(কোমল, ১৫) (মিকু ৪৫, পার্টালু ৪৭)
অনূর্ধ্ব১৭ বিশ্বকাপের ক্রীড়াসূচির লটারি হয়েছিল মুম্বইতে,
বছর খানেক আগে। সিকিমের বাইচুং ভুটিয়া বারবার করে বলেছিলেন, আলাদা নজরে রাখতে। তাঁর
সিকিমের এক অনূর্ধ্ব১৭ উঠে আসছেন ভবিষ্যতের তারকা হিসাবে। নাম কোমল থাটাল।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে খেলেছিলেন কোমল। পায়ে কাজ
আছে, বল ধরে খেলতে ভালবাসেন। পছন্দ হয়নি লুইস নর্তনের। পরের ম্যাচে বসিয়ে দিয়েছিলেন।
সময়ে বল না-ছাড়ার কারণে। পরে, ইন্ডিয়ান অ্যরোজ দলেও সুযোগ পাননি কোমল।
তাঁকে নিয়েছিল এটিকে। এবারের আইএসএল-এ ঘরের মাঠে নিজেদের
চতুর্থ ম্যাচে এটিকে-কে এগিয়ে দিয়েছিলেন সেই প্রতিভাবান কোমলই। কিন্তু, স্টিভ কোপেলের
দলের গোল খাওয়ার রোগ সারেনি। ষষ্ঠ ম্যাচেও নিয়ম করেই গোল খেল, বিরতির আগে ও পরে। ফলে
তৃতীয় হার নিয়ে আপাতত ছয় ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে পিছিয়ে পড়ল আরও খানিকটা, প্রথম চারের
দৌড় থেকে। আর, চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় জয়, মোট ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানেই
থেকে গেল বেঙ্গালুরু, যদিও ধরে ফেলল দ্বিতীয় স্থানে থাকা এফসি গোয়াকে।
নিজের অর্ধ থেকে এবেরতোন সানতোসের
বাড়ানো পাস ধরেছিলেন বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডারদের পেছনে গিয়ে, অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে।
নিশুকুমার বুঝতেই পারেননি কখন তাঁকে পেরিয়ে গিয়েছিলেন কোমল। প্রথম টাচে বেরিয়েছিল
বল খানিকটা, কিন্তু একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। ততক্ষণে গুরপ্রীত ভেবে
ফেলেছিলেন, বাঁপায়ে শট নিলে তাঁর ডানদিকেই নেবেন তরুণ তারকা। কিন্তু আঠেরর কোমল বক্সের
বাইরে থেকে শট নিলেন গুরপ্রীতের বাঁদিকে। জাতীয় দলের গোলরক্ষকের কিছু করার ছিল না।
দুর্দান্ত প্রথম গোল সিকিমের তারকার, আইএসএল-এ। ঘরের মাঠে আবার এগিয়ে যাওয়া এটিকে-র,
১৫ মিনিটেই।
নিশুকুমার প্রায়শ্চিত্ত করে
ফেলেছিলেন পাঁচ মিনিট পরই। বাঁদিক থেকে তাঁর পাঠানো ক্রস একেবারে মাথায় পেয়ে
গিয়েছিলেন মিকু, গোলের ঠিক সোজাসুজি। জোরালো হেডও রেখেছিলেন। কিন্তু, নিশানায় ঠিক
থাকতে পারেননি। বল সরাসরি অরিন্দমের কাছে।
বেঙ্গালুরুর হয়ে সমতা ফেরান মিকু,
দুর্দান্ত শটে। বক্সের ঠিক বাইরে জেরসন ফাউল করেছিলেন মিকুকে, অন্তত রেফারি
বেঙ্কটেশের তেমনই মনে হয়েছিল, যদিও টিভি রিপ্লে-তে মনে হয়নি। ফ্রি কিকে দিমাস
দেলগাদোকে ছোট পাস, দেলগাদো ফিরিয়ে দিতেই ডানপায়ের জোরালো শট, এটিকে-দেওয়ালের
বাইরে দিয়ে। বল বারের নিচে চুমু খেয়ে জালে! অরিন্দমের তাকিয়ে দেখা ছাড়া উপায় ছিল
না। ৪ মিনিটের ইনজুরি টাইম দেওয়া হয়েছিল প্রথমার্ধে, তার তৃতীয় মিনিটে গোল।
বেঙ্গালুরু এগিয়েও যেতে পারত বিরতির
আগেই। মিকু এবার বল ধরে ঢুকে পড়েছিলেন এটিকে বক্সে। ডানদিকে প্রায় বাইলাইনে পৌঁছে
ভেতরে বল রেখে গিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রীর জন্য। দেশের অধিনায়ক ফাঁকায় পেয়েছিলেন বল,
বক্সের ভেতর। ওখান থেকে সুনীলের শট মানে গোলই। কিন্তু সুনীলের এবার পায়ে-বলে হয়নি।
হয়ত তাড়াহুড়োয়, অথবা ভাবতেই পারেননি ওভাবে বক্সের ভেতর তাঁকে বিনা বাধায় বল ধরতে
দেওয়া হবে!
গতবারের ফাইনালিস্ট বেঙ্গালুরু এগিয়ে
যায় বিরতির ঠিক পরেই। এবারও ফাউল, ফ্রি কিক, তবে মাঝমাঠ পেরিয়েই। দেলগাদো এবার
ওয়ান-টু’র পর চিপ করে দেন এটিকে বক্সে। সেখানে জেরসন হেড করে কোনও রকমে বল বের করে
দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। বেশি দূর পাঠাতে পারেননি, বল থেকে গিয়েছিল বক্সের মধ্যেই।
সেরান চেষ্টা করেছিলেন জোরালো ভলি নেওয়ার, পেছন থেকে বলবন্তের ছোট টোকায় পায়ে-বলে
করতে পারেননি। সেই বল যখন মাটিতে পড়ছে, জোরালো সাইড ভলি এবার অস্ট্রেলীয় পার্টালুর।
অরিন্দম নড়ার সময় পাননি!
৮১ মিনিটে সমতা ফেরাতে পারতেন জেরসন। অধিনায়ক লানজারোতের
কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে। কর্নার পাওয়ার আগে দুদিক থেকে গোটা চারেক বল উড়ে এসেছিল বেঙ্গালুরু
বক্সে। কোনওবারই গোলের কাছাকাছি যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু কর্নারে জোরালো হেড করেছিলেন
ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার যা পোস্টের বাইরের দিকে লেগে বাইরে যায়। আর নিশ্চিত হয়ে যায়, টানা
তিন ম্যাচে না-হারার পর আবারও শূন্যহাতেই ফিরছে এটিকে।
কার্লেস
কুয়াদ্রাতের বেঙ্গালুরুর ফুটবল চিত্তাকর্ষক। স্পেনীয় কোচকে সরিয়ে বেঙ্গালুরু হঠাৎ
করে ইংরেজ কোচকে এনে বসিয়ে দেয়নি মাথার ওপর। ফুটবল খেলার প্রাথমিক যে ধরন ছিল
বেঙ্গালুরুর, আলবের্ত রোকার প্রশিক্ষণে, কুয়াদ্রাতের প্রশিক্ষণে তা আরও বলিষ্ঠ।
পজেশন রেখে আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা। মাঝমাঠে নিরন্তর ছোট পাসে বিপক্ষকে বলভ্রষ্ট
করে দেওয়া, বিপক্ষ রক্ষণে ফাঁক খুঁজে বের করতে কৌণিক পাস। যদিও দুটি গোলই পেল সেট
পিস থেকেই, কিন্তু খেলার ধরনে স্পষ্ট, ইতিবাচক ফুটবলের রাস্তায় আছেন
সুনীল-মিকু-দেলগাদোরা। ঘরের মাঠে মাত্র ১৭৬৫৬ লোকের সামনে এটিকে-র খেলায় যার চিহ্নমাত্রও নেই!
No comments