আবাসের পুনেকে হারিয়ে সেমিফাইনালের দিকে কেরল
কেরালা ব্লাস্টার্স ২ এফসি পুনে সিটি ১
(নাজোন ৭, হিউজ ৫৭) (আনিবাল ৯০)
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2627" align="alignleft" width="300"]
ঘরের মাঠে দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছেন স্টিভ কোপেল। টানা চতুর্থ ম্যাচ জিতল কেরালা ব্লাস্টার্স, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে, নিজেদের দর্শকদের সামনে। ৬ ম্যাচে চার জয়, এক ড্র। ১৩ পয়েন্টই এসেছে নিজেদের মাঠে। ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল কেরল। মুম্বই আর কলকাতার ঠিক পেছনে, কলকাতার সমান পয়েন্ট নিয়ে। সেমিফাইনালে তাদের পৌঁছনর সম্ভাবনা এখন ৮৫.১৯ শতাংশ।
আন্তোনিও আবাস কি প্রথমবার সেমিফাইনালের বাইরে থাকবেন? তিন মরশুমেই কোচ থেকেছেন হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে। আতলেতিকো দে কলকাতার হয়ে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন, দ্বিতীয়বার হেরেছিলেন সেমিফাইনালে। এবার শিবির বদলে পুনে সিটি এফসি-তে। কিন্তু, ১৩ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তাঁর দলের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় নেই-ই। শেষ ম্যাচে কলকাতায় গিয়ে তাঁর প্রাক্তন দলকে হারাতে পারলেও ১৮ পয়েন্টই হবে, যা যথেষ্ট হওয়া কঠিন, প্রথম চারে থাকতে।
কেরল শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পুনের ডিফেন্ডার গৌরমাঙ্গি সিংয়ের ভুলে। বলটা বিপদসীমার বাইরে পাঠানো উচিত ছিল গৌরমাঙ্গির। ধরতেই পারেননি! ডাকেন্স নাজোন বল ধরে আর সুযোগ দেননি পেছন থেকে ছুটে-আসা রাবণনকে। গতিতে পেছনে ফেলে দ্রুত শট নিয়েছিলেন, এদেল বেতের কিছু করার ছিল না। হাইতির ফুটবলার ডাকেন্স মু্ম্বই সিটি এফসি-র তারকা সোনি নর্দের সতীর্থ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরুতেই পেছনের পায়ে ঠেলে দিয়েছিলেন পুনে-কে।
তৃতীয় আইএসএল-এ পুনের সমস্যা গোলমুখে ব্যর্থতা। আবাস কোনও সমাধান খুঁজে পেলেন না সেই সমস্যার। প্রথমার্ধেই আরাতা ইজুমি একবার গোলের সামনে থেকে হেড করলেন বাইরে। পরের বার তো বল গোলেই যাচ্ছিল। আরাতার হাঁটুতে লেগে কীভাবে বল তিনকাঠির বাইরে চলে আসে, কেউ বুঝে উঠতেই পারেননি!
দ্বিতীয়ার্ধে দ্বিতীয় গোলও কেরল পেয়ে গিয়েছিল তাড়াতাড়িই। কর্নার থেকে বল বাইরে পাঠানোর চেষ্টায় বল চলে গিয়েছিল সিকে বিনীতের কাছে। উঁচু করে দূরের পোস্টে বল রেখেছিলেন বিনীত। পুনের কেউ বল তাড়াই করেননি! বেতেরও বুঝতে ভুল হয়েছিল। কেরলের মার্কি ফুটবলার অ্যারন হিউজ একেবারে ফাঁকায়, বিনা বাধায়, হেডে গোল করে যান। আইএসএল-এ তাঁর প্রথম গোল আবারও ম্যাচের নায়কের পুরস্কার এনে দিল। আর, পুনের রক্ষণভাগ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিল হিউজের গোল!
এই ম্যাচ যে না-জিতলে চলবে না, বিপক্ষের গোলের সামনে পুনের খেলায় সেই তাগিদ তারপরও দেখা যায়নি। ১-২ অবশ্যই করেছিলেন আনিবাল। ৬ মিনিটের ইনজুরি টাইমের চতুর্থ মিনিটে। সন্দেশ ঝিঙ্গন ফাউল করেছিলেন ত্রাওরে-কে। যে কারণে ফ্রি কিক পেয়েছিল পুনে। আনিবালের জোরালো শটে সন্দীপ নন্দী হাত লাগিয়েও গোলের বাইরে পাঠাতে পারেননি। কিন্তু, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। ৮৫ মিনিটেও যখন সঞ্জুর পাস থেকে বল পেয়েছিলেন ত্রাওরে, সামনে সন্দীপ একা। দেখেশুনে জোরালো শট নেন সন্দীপের দিকেই। সেই সময়ও যদি ত্রাওরে গোলটা পেতেন, হয়ত আরও একটু লড়তে পারত পুনে।
শেষ ম্যাচে মুম্বইয়ের কাছে ০-৫ হেরেছিল কেরল। কোপেল অবশ্য নিশ্চিত ছিলেন, সেই ফলের কোনও প্রভাব পড়বে না। মাঠে তাঁর ফুটবলাররা দেখিয়েও দিলেন। ১০ নভেম্বর এই পুনেই হারিয়ে দিয়েছিল মুম্বই সিটি এফসি-কে, মুম্বই এরিনায়। সেই মুম্বই সিটি এখন শীর্ষে। আর পরের তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচে যথাক্রমে চেন্নাইয়িন, নর্থইস্ট ও কেরলের কাছে হেরে, পুনের সেমিফাইনালে যাওয়া নিয়ে বিরাট প্রশ্নচিহ্ন!
No comments