আবাসই কি শেষে পথের কাঁটা হবেন কলকাতার?
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
আবাসের পুনে কিন্তু ঘরের মাঠে হারিয়েছিল কলকাতাকে। ছবি - আইএসএল
হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের গ্রুপ পর্যায়ে আর বাকি ৮ ম্যাচ। সেমিফাইনালে চারের মধ্যে পাওয়া গিয়েছে মাত্র একটি দল – মুম্বই সিটি এফসি। বাকি তিনটি জায়গার জন্য লড়াই আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে? দেখে নেওয়া যাক –
আতলেতিকো দে কলকাতা
ম্যাচ বাকি দুটি। কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ২৯ নভেম্বর আর ২ ডিসেম্বর আন্তোনিও আবাসের পুনে সিটি। সুবিধা, দুটি ম্যাচই রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। ঘরের মাঠে শেষ দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ অবশ্যই এগিয়ে দিতে পারে কলকাতাকে।
১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে আছে কলকাতা। প্রথম চারে থাকা নিশ্চিত করতে ‘ম্যাজিক-পয়েন্ট’ ধরা হচ্ছে ২০। মানে, দুটি ম্যাচ থেকে কলকাতার চাই আর মাত্র ২ পয়েন্ট। সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতে পারে তা হলেই।
দুটি ম্যাচ মিলিয়ে ৬ রকম ফল হতে পারে।
১) দুটি ম্যাচই জিতল কলকাতা। পয়েন্ট হবে ২৪। সেমিফাইনালে নিশ্চিত।
২) একটি ম্যাচ জিতল, একটি ড্র। পয়েন্ট ২২। সেমিফাইনালে নিশ্চিত।
৩) একটি ম্যাচ জিতল, একটি হার। পয়েন্ট ২১। সেমিফাইনালে নিশ্চিত।
৪) দুটি ম্যাচই ড্র। পয়েন্ট ২০। সেমিফাইনালের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে, বিশেষ করে চেন্নাইয়িন এফসি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-র দিকে।
৫) একটি ড্র, একটি হার। পয়েন্ট ১৯। তাকিয়ে-থাকা অন্য দলগুলির পারফরম্যান্সের দিকে।
৬) দুটি ম্যাচেই হার। কঠিন হয়ে যেতে পারে সেমিফাইনালের রাস্তা হঠাৎ!
কেরালা ব্লাস্টার্স
তৃতীয় স্থানে আছে। কলকাতার সমান ম্যাচে, সমসংখ্যক পয়েন্ট নিয়ে। গোল-পার্থক্যে অনেকটা পিছিয়ে। কলকাতার +২, কেরলের -৩। মানে, পাঁচ গোলের ব্যবধান। কেরলের পরের খেলাই কলকাতার বিরুদ্ধে, রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে। এই ম্যাচে স্টিভ কোপেলের দল রক্ষণে জোর দেবে বেশি। শেষ ম্যাচ ঘরের মাঠে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে। চেষ্টা করবে কলকাতা থেকে এক পয়েন্ট তুলে নিয়ে ঘরের মাঠে নর্থইস্টকে হারিয়ে ২২ পয়েন্টে পৌঁছতে। ঘরের মাঠে যা রেকর্ড - ৬ ম্যাচে ৪ জয় – আরও একটি ম্যাচ জেতা অসম্ভব নয়।
দিল্লি ডায়নামোস
চতুর্থ স্থানে। কিন্তু খেলেছে ১১ ম্যাচ, পকেটে পয়েন্ট ১৭। পরের ম্যাচটাই এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে, যাদের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বেঁচে আছে শুধুই অঙ্কের খাতায়। জামব্রোতার দলের ঘরের মাঠে শেষ খেলা। জিকোর দলকে হারালেই ২০ পয়েন্টে দিল্লি। বাকি দুটি ম্যাচ অ্যাওয়ে – নর্থইস্ট ও মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে। বাড়তি আর একটি পয়েন্ট পেলেই কেল্লা ফতে।
বাকি দল
এই মুহূর্তে পুনে যদিও পঞ্চম স্থানে আছে, প্রথম চারের বাইরে থেকে অঙ্কের হিসাবে সেমিফাইনালে পৌঁছনর সবচেয়ে বেশি সুযোগ আছে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের। ১১ ম্যাচ খেলেছে তারা, ১৪ পয়েন্ট হাতে। তিনটি ম্যাচ বাকি – চেন্নাইয়িন (অ্যাওয়ে), দিল্লি (হোম) ও কেরল (অ্যাওয়ে)।
খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তাই শনিবারের চেন্নাই বনাম নর্থইস্ট ম্যাচ। এই ম্যাচ যদি ড্র হয়, চেন্নাইয়ের সম্ভাবনা প্রায়-শেষ। নর্থইস্টের হাতে যেহেতু আরও দুটি ম্যাচ থাকবে, এগিয়ে যাবে নর্থইস্ট। চেন্নাই জিতলে শেষ ম্যাচে গোয়াকে হারিয়ে ২০ পয়েন্টে পৌঁছতেও পারবে তখন। আর মাতেরাজ্জির দল যদি হেরে যায় নর্থইস্টের কাছে, বিদায় নিতে হবে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের।
গোয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য শতাংশ এখন, কারণ, দিল্লি বাকি তিনটি ম্যাচই হারলে এবং গোয়া বাকি দুটি ম্যাচ জিতলে দিল্লির সমান পয়েন্টে পৌঁছন সম্ভব। তখনও গোল-পার্থক্য দেখা হবে এবং জিকোর দল যেহেতু এখন গোল-পার্থক্যে নেতিবাচক ‘-৭’, আর দিল্লির ‘+৭’, এই ব্যবধান মুছে ফেলা কঠিন।
পুনের হাতে একটিই ম্যাচ। ১৫ থেকে ১৮ পয়েন্টে পৌঁছতেই পারে, কলকাতায় কলকাতাকে হারিয়ে। এখন গোল-পার্থক্য ‘-৩’, জিতলে সেই পার্থক্য কমবে, যেমন, হারলে কলকাতার গোল-পার্থক্যও ‘+২’ থেকে কমবে। শুধু তাই-ই নয়, দিল্লিকেও বাকি তিন ম্যাচেই হারতে হবে, পুনেকে চতুর্থ স্থানে তুলে আনতে। কিন্তু, দিল্লিকে যদি হারতেই হয় বাকি তিনটি ম্যাচ, নর্থইস্ট তখন দিল্লি ম্যাচ জেতার সুবাদে পৌঁছেই যাচ্ছে ১৭ পয়েন্টে। সুতরাং, পুনের সম্ভাবনাও ক্ষীণ।
অর্থাৎ, এফসি গোয়া আর পুনে সিটি এফসি-র বিদায় ঘন্টা প্রায় বেজেই গিয়েছে, এই মুহূর্তে ধরে নেওয়া যুক্তিসঙ্গত। সে ক্ষেত্রে তালিকায় এখনকার প্রথম চার দলের সঙ্গে দৌড়ে থাকছে চেন্নাইয়িন এফসি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডই।
তাই, আইএসএল-এ আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হতে চলেছে শনিবার - চেন্নাই বনাম নর্থইস্ট। এই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে অনেক সমীকরণ।
সতর্ক থাকতেই হবে কলকাতাকে। শেষ ম্যাচে সামনে আবাস। ২ ডিসেম্বর ম্যাচের আগে ছবিটা আরও অনেক পরিষ্কার হয়ে যাবে। হয়ত নিশ্চিত হয়ে যাবে, আবাসের পুনের আর কোনও সম্ভাবনাই নেই প্রথম চারে থাকার। কিন্তু, শেষ ম্যাচে হারিয়ে যাত্রা ভঙ্গ করে দিতেই পারেন কলকাতার প্রাক্তন কোচ আবাস, সন্দেহ নেই!
No comments