সেমিফাইনালে ‘প্রথম’ পৌঁছল মুম্বই
মুম্বই সিটি এফসি ২ চেন্নাইয়িন এফসি ০
(দেফেদেরিকো ৩২, ভাদোজ ৬০)
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2603" align="alignleft" width="300"]
ঘরের মাঠ মুম্বই ফুটবল এরিনায় অবশেষে এল সেই মুহূর্ত। তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে সেমিফাইনালে প্রথম দল হিসাবে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে ফেলল রনবীর কাপুরের মুম্বই সিটি এফসি। গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি-কে দাপটে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে, ১৩ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে। আইএসএল-এ আগের দুবার যা পারেনি মুম্বই।
চেন্নাই এবার শুরু থেকেই পিছিয়ে। যদিও গতবারও এভাবেই শেষ চার ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে সেমিফাইনালের দরজা খুলেছিল, এবার এখনও পর্যন্ত তা অনুপস্থিত। ৯০ মিনিটের ম্যাচে একবারও মুম্বইয়ের গোলে তেমন উল্লেখযোগ্য আক্রমণ নেই মার্কো মাতেরাজ্জির দলের। উল্টে, দ্বিতীয় গোল খাওয়ার পর সবাই মিলে যখন আক্রমণে ব্যস্ত, সুনীল ছেত্রী দুটি সোনার সুযোগ না হারালে আবারও চার গোলের লজ্জা নিয়ে ফিরতে হতেই পারত চেন্নাইকে।
প্রথম গোল ৩২ মিনিটে। ভাদোজ আর সুনীলের ওয়ান-টু, সুনীলের পাস চেন্নাইয়ের সাবিয়ার পায়ে লেগে বক্সে খুঁজে পেয়ে যায় দেফেদেরিকো-কে। ২৭ বছর বয়সী আর্জেন্তিনীয় ফুটবলারের বাঁপায়ের শট করণজিৎকে সহজেই পরাস্ত করে জালে। এবারের আইএসএল-এ তাঁর তৃতীয় গোল। তৃতীয় আইএসএল-এর শততম গোলও, ৪৬ ম্যাচে।
গোলের পরই শেহনাজ সিং ফাউল করেছিলেন রিসে-কে। সেই ফ্রি কিক একেবারেই বিপজ্জনক ছিল না। কিন্তু বল বিপদসীমার বাইরে পাঠাতে গিয়ে লাফিয়ে উঠে যখন হেড করতে গিয়েছিলেন জেরসন, বল কি হাতে লেগেছিল? মাঠে চেন্নাইয়ের ফুটবলাররা এবং মাঠের বাইরে কোচ মাতেরাজ্জি সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন করেছিলেন। রেফারি কান দেননি। সমস্যা হল, সাত মিনিটেই রিসে-কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখে ফেলেছিলেন জেরসন। বক্সে হাতে বল লাগানোর জন্য পেনাল্টি তো বটেই, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরেও বেরিয়ে যেতে হতে পারত। তখন প্রায় ৫৫ মিনিট দশজনে খেলতে হত মুম্বইকে। হয়ত এই কারণেই ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে ‘ভাগ্যের আর একটু সাহায্য’ চেয়েছিলেন মাতেরাজ্জি!
৬০ মিনিটে মুম্বইয়ের সেমিফাইনালে পৌঁছনো নিশ্চিত করে ফেলেন ক্রিস্তিয়ান ভাদোজ। দেফেদেরিকোর লম্বা ক্রস ছিল অন্যপ্রান্তে ফোরলানের পায়ে। দেখেশুনে ভাদোজকে বল পাঠিয়েছিলেন ফোরলান। বুকে করে বল নামিয়ে চলতি বলে জোরালো ড্রপ ভলি হাঙ্গেরীয় ভাদোজের, হাত লাগিয়েও গোলের বাইরে পাঠাতে পারেননি করণজিৎ। শুধু গোলই নয়, গোটা ম্যাচেই ভাল খেলার পুরস্কার পেলেন ভাদোজ, ম্যাচের সেরা হয়ে।
৮০ ও ৮১ মিনিটে পরপর দুবার প্রতি আক্রমণে একা গোলরক্ষক করণজিৎকে সামনে পেয়েও সুনীল বল পাঠিয়েছিলেন গ্যালারিতে। প্রথমবার ডান পায়ে, পরের বার বাঁপায়ে। এবারের আইএসএল-এ এখনও গোল পাননি। ফুটবল হয়ত এমনই যখন সুনীল ছেত্রীকেও গোলমুখে এমন ছন্দহীন দেখায়, দল যখন জিতছে, তখনও! ৯০ মিনিটে আরও একবার ফোরলান সাজিয়ে দিয়েছিলেন সদ্য মাঠে-আসা থিয়াগো কুনহা-কে। শট নিয়েওছিলেন কুনহা, কিন্তু করণজিৎকে পরাস্ত করতে পারেননি।
চেন্নাইয়ের সম্ভাবনা কি শেষ? নর্থইস্ট আর গোয়ার বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ বাকি। ৬ পয়েন্ট পেলে ২০ পয়েন্টে পৌঁছতে পারে, যা হয়ত ছাড়পত্র এনে দিলেও দিতে পারে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের, ১২ ম্যাচে ১৪ পয়েন্ট নিয়ে যারা থেকেই গেল সপ্তম স্থানে।
মু্ম্বইয়ের শেষ ম্যাচ ৩ ডিসেম্বর, দিল্লি ডায়নামোসের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে। হয়ত সেই ম্যাচেই ফয়সালা হবে, কোন দল তালিকার শীর্ষে থেকে পৌঁছবে সেমিফাইনালে!
No comments