• Breaking News

    কলকাতা সেমিফাইনালে, নিয়ে গেল দিল্লিকেও!

    আতলেতিকো দে কলকাতা ১   কেরালা ব্লাস্টার্স ১


    (পিয়ারসন ১৮)  (বিনীত ৮)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2661" align="alignleft" width="300"]পিয়ারসনের গোল যা সেমিফাইনালে নিয়ে গেল কলকাতাকে। ছবি - আইএসএল পিয়ারসনের গোল যা সেমিফাইনালে নিয়ে গেল কলকাতাকে। ছবি - আইএসএল[/caption]

    এক পয়েন্ট দরকার ছিল আতলেতিকো দে কলকাতার, সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে। প্রয়োজনীয় পয়েন্টটা তুলেই নিল হোসে মোলিনার দল। একই সঙ্গে নিশ্চিত করে দিল, গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি এবং পুনে সিটি এফসি-র বিদায়। এই মুহূর্তে প্রথম চারের বাইরে থাকা নর্থইস্ট ইউনাইটেডই একমাত্র পারে প্রথম চারে উঠে আসতে। যেহেতু কেরলকে এখনও খেলতে হবে সেই নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেই, শচীন তেন্ডুলকারের কেরল নিশ্চিত করে ফেলতে পারেনি প্রথম চারে থাকা।

    সৌরভ গাঙ্গুলির আতলেতিকো দে কলকাতা অবশ্য প্রথম দল হিসাবে নিশ্চিত করল আইএসএল-এ তিনবারই সেমিফাইনালে খেলা। গোয়া এবং চেন্নাইয়ের বিদায়ের পর,  এখন একমাত্র দল। নর্থইস্ট ও কেরল, দুই দলের বিরুদ্ধেই মুখোমুখি লড়াইয়ে যেহেতু এগিয়ে কলকাতা, তাই ১৯ পয়েন্টেই নিশ্চিত করে ফেলল সেরা চারে থাকা। দিল্লি ডায়নামোসও নিশ্চিত হয়ে গেল। এখন দুটি দল দিল্লির ২০ পয়েন্ট পেরিয়ে যেতে পারে। কলকাতা আর কেরল বা নর্থইস্ট। কলকাতা যেহেতু পৌঁছেই গিয়েছে, সেমিফাইনালে নিয়ে চলে গেল দিল্লিকেও! জায়গা ফাঁকা থাকল একটি। হয় নর্থইস্ট অথবা কেরল। ওই দুই দলের শেষ ম্যাচ তাই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল।

    ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ব্রাজিলের চাপেকোয়েনসে ক্লাবের নিহত ফুটবলারদের স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালনের পর শুরু হয়েছিল খেলা। এবং শুরুতে দুদলই ঝাঁপিয়েছিল গোল তুলে নিতে। কেরালা পেয়েছিল প্রথম কর্নার। কিন্তু সেই কর্নার থেকে গোলের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়ার পর কলকাতা প্রতি আক্রমণে এগিয়েছিল আক্রমণে। গোলও করে ফেলেছিল কলকাতা! কিন্তু হাভি লারার পাস থেকে পিয়ারসন গোল করলেও লারা নিজেই অফসাইডে ছিলেন বলে সেই গোল বাতিল হয়।

    কেরল এগিয়ে যায় তারপরই। মেহতাবের উঁচু করে দূরের পোস্টে তোলা বল। দেবজিৎ লাফিয়েও গ্রিপে আনতে পারেননি। ম্যাচে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভুল। সেদরিক এঙ্গেবার্ত পাশেই ছিলেন। ডানপায়ে উঁচু করে ভেতরের দিকে তুলে দেন বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা বিনীতের মাথায়। ফাঁকা গোলে হেড বিনীতের। এবারের আইএসএল-এ তাঁর চতুর্থ গোল, বেঙ্গালুরু এফসি-র হয়ে এএফসি কাপের ফাইনাল খেলে ফেরার পর।

    কলকাতা গোলশোধ করে দশ মিনিট পরই। গোলে অবদান তিন বিদেশির। স্কটিশ হিউম বল দিয়েছিলেন পোস্তিগাকে, পর্তুগিজ স্ট্রাইকার মেপে বল রেখেছিলেন আর এক স্কটিশ স্টিফেন পিয়ারসনের পায়ে। ভুল করেননি পিয়ারসন, সমতা ফেরাতে। সেই কারণেই ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেলেন স্কটিশ ফুটবলার। আগের অ্যাওয়ে ম্যাচেও গুরুত্বপূর্ণ গোল করেছিলেন, যা সাহায্য করল দলকে, আবারও সেমিফাইনালে পৌঁছতে।

    দ্বিতীয়ার্ধে বরঞ্চ খেলা সীমিত থাকল মাঝমাঠেই। দুদলের গোলের সামনেই তেমন কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি। হাতে একটি করে ম্যাচ থাকায় ঝুঁকি নিতে চায়নি কোনও দলই। ফলে যে উচ্চতায় উঠবে বলে মনে হয়েছিল তৃতীয় আর চতুর্থ স্থানে থাকা দুটি দলের ম্যাচ, সেই উচ্চতায় পৌঁছয়নি।

    মেহতাব চতুর্থ হলুদ কার্ড দেখেছিলেন ৫৫ মিনিটে, হতাশায় বলে শট নিয়ে গ্যালারিতে পাঠিয়ে। ফলে, নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। সমীঘ দুতি মাঠে এসেছিলেন মিনিট দুয়েক বাকি থাকতে। বোঝাই যাচ্ছিল, কলকাতার কোচ মোলিনা দুতিকে চোট সারিয়ে মাঠে ফেরার পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছেন, নকআউটে ঠিকঠাক কাজ লাগাতে চেয়ে।

    কলকাতায় শেষ ম্যাচ আন্তোনিও আবাসের পুনের বিরুদ্ধে। অন্য সময় হলে প্রাক্তন কোচের বিরুদ্ধে খেলায় অন্য মাত্রা থাকত। এখন, পুনে ছিটকে গিয়েছে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে আর কলকাতা পৌঁছে গিয়েছে নকআউটে। ফলে, সেই উত্তেজনা কি আর থাকবে? তবে, যেহেতু পুনেতে গিয়ে হেরে এসেছিল, মোলিনা নিশ্চয়ই চাইবেন সমতা ফেরাতে, বাড়তি কোনও ঝুঁকি না নিয়ে!

    No comments