শৌভিকের গোলে স্বপ্ন শেষ চেন্নাইয়ের!
চেন্নাইয়িন এফসি ৩ নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি ৩
(ডুডু ৩৪, ৪৫, ৮১) (ভেলেজ ৩৮, ৫১, শৌভিক ৯০)
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2633" align="alignleft" width="300"]
ঘরের মাঠ জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে, নিজেদের দর্শকদের সামনেই হয়ত তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগে অভিযান শেষ হয়ে গেল গতবারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইয়িন এফসি-র। শেষ করে দিলেন শৌভিক ঘোষ, ৯৬ মিনিটে গোল করে। নিকোলাস ভেলেজের কর্নারে ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে, বিনাবাধায় জোরালো হেডে গোল করে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি-কে শুধু একটি পয়েন্ট আর পঞ্চম স্থানই নয়, এনে দিলেন বাকি দুটি ম্যাচে লড়াইয়ের রসদও। জন আব্রাহামের দল যদি শেষ পর্যন্ত সেমিফাইনালে পৌঁছয়, শৌভিক ঘোষের এই গোল হয়ে থাকবে তার অন্যতম প্রধান কারণ।
চেন্নাইয়ের প্রথম গোলের সময় মেহরাজউদ্দিন উঠেছিলেন ওভারল্যাপে। কাছের পোস্টে বল রেখেছিলেন, ডুডুর হেডে গোল করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি। সুব্রত পালের কিছু করার ছিল না। ডুডুর দ্বিতীয় গোলের সময় সেন্টার এসেছিল জেরি লালরিনজুয়ালার। মুলডারের পাস থেকে বল পেয়ে জেরির সেন্টার, জোকোরাকে ছিটকে দিয়ে ডুডুর বাঁপায়ে গোল, বিরতির বাঁশি বাজার ঠিক আগে আবারও এগিয়ে দিয়েছিল চেন্নাইকে।
আর্জেন্তিনীয় নিকোলাস ভেলেজের প্রথম গোলের সময় চেন্নাই রক্ষণ হঠাৎই যেন দর্শক হয়ে পড়েছিল। বক্সের বাইরে থেকে বল ধরে এলি সাবিয়াকে সুযোগ না দিয়ে ভেতরে ঢুকে এসে শট নেন। রিসে এবং মেহরাজ বোঝার আগেই! ভেলেজের দ্বিতীয় গোলের শট সাবিয়ার পায়ের ফাঁক দিয়ে জোরালো মাটিঘেঁষা, করণজিতের কাছে সোজা চলে এসেছিল হঠাৎ, হাতে লেগে জালে যায়। সাবিয়ার পায়ে লেগেই বলটা এসেছিল ভেলেজের কাছে। সেই সাবিয়ার কারণেই হয়ত করণজিৎ বুঝতে পারেননি বল ওভাবে তাঁর কাছে চলে আসবে।
গুস্তাভো লাজারেত্তির অবস্থা সবচেয়ে ভাল, বলেছিলেন ভিনগাদা। একই সঙ্গে আবার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন যে, যদি দ্রুত মাঠে ফেরাতে গিয়ে কোনও সমস্যা হয়, বাকি মরশুমে আর পাবেন না হয়ত। মাঠে নামিয়েও সাত মিনিটের মধ্যেই গুস্তাভোকে তুলে নিতে বাধ্য হন ভিনগাদা। ১৩ মিনিটে রিসের দুর্দান্ত ফ্রি কিক দুরন্তভাবেই বাঁচিয়েছিলেন সুব্রত, কর্নারের বিনিময়ে। ম্যাচে তিনি দুটি গোল খেলেও কোনও গোলের ক্ষেত্রেই কিছু করার ছিল না। তবে, চোট পেয়ে তিনি বেরিয়ে যান ৭৭ মিনিটে আর তার চার মিনিট পরই চেন্নাইয়ের তৃতীয় গোল।
মেহরাজ বল বাড়িয়েছিলেন সদ্য মাঠে-আসা মেন্দিকে। শৌভিক তখন আটকাতে ব্যর্থ। মেন্দির ডান পায়ের নিচু ক্রস বক্সে। ডুডু আর তাঁর মার্কার মেইলসন একসঙ্গেই ঝাঁপিয়েছিলেন, পায়ে বল লাগাতে। তাদের পেছনেই ছিলেন নর্থইস্টের গোলরক্ষক রেহনেশও। রেহনেশের পায়ে লেগে মেইলসনের গায়ে লেগে বল গড়িয়ে গড়িয়ে গোলে ঢোকে, ডুডু দাবি করেন হ্যাটট্রিকের। আইএসএল-এর ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসাবে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা-ও যথেষ্ট হল না হয়ত, গতবারের চ্যাম্পিয়নদের সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে।
শেষপর্বে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে কিছু অপ্রীতিকর দৃশ্যের সাক্ষী থাকল চেন্নাই। বোঝাই যাচ্ছিল, কতটা মরিয়া দুই দলই, কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে। চেন্নাইয়ের দরকার ছিল জয়, নর্থইস্ট চেয়েছিল না-হারতে। ফলে তৃতীয়বার পিছিয়ে যাওয়ার পর নর্থইস্টের ভেলেজ, রোমারিক, চেন্নাইয়ের মেহরাজ, হাঙ্গাল হলুদ কার্ড দেখেন সেই সময়।
শৌভিকের গোলে নর্থইস্ট ইউনাইটেড উঠে এল ১৫ পয়েন্ট নিয়ে, পঞ্চম স্থানে। হাতে দুটি ম্যাচ যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এখন। আর গতবারের চ্যাম্পিয়নরা ১৩ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় সপ্তম। সর্বোচ্চ ১৮ হতে পারে শেষ ম্যাচ জিতল। অঙ্কের খাতায় সম্ভাবনা থাকলেও, বাস্তবে তা কি সম্ভব?
No comments