• Breaking News

    পিয়ারসনের গোলে সেমিফাইনালের দিকে কলকাতা

    এফসি  গোয়া ১     আতলেতিকো দে কলকাতা ২


    (মন্দার ৮০)      (বেলেনকোসো ২৮, পিয়ারসন ৯০)


    আইএসএল মিডিয়া রিলিজ

    [caption id="attachment_2620" align="alignleft" width="300"]পিয়ারসনের গোলের পর কলকাতার উচ্ছ্বাস। ছবি - আইএসএল পিয়ারসনের গোলের পর কলকাতার উচ্ছ্বাস। ছবি - আইএসএল[/caption]

    সেমিফাইনালের দিকে বড় পদক্ষেপ আতলেতিকো দে কলকাতার। ফতোরদায় এফসি গোয়াকে হারিয়ে ১২ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে হোসে মোলিনার দল এখন লিগ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে, মু্ম্বইয়ের পেছনে। আর, ঘরের মাঠেই প্লে অফে পৌঁছনোর স্বপ্ন প্রায় শেষ জিকোর গোয়ার।

    প্রথমার্ধ পুরোটাই কলকাতার। অন্য অ্যাওয়ে ম্যাচগুলোর মতো একই গল্প। কিন্তু যথারীতি একের বেশি গোল পেতে ব্যর্থ। সমীঘ দুতি আর ইয়াইন হিউম সুস্থ হলেও কোচ মোলিনা বোধহয় প্লে অফ মাথায় রেখেই আরও বিশ্রাম দিয়েছিলেন দুজনকে। সমস্যা খুব বেশি হয়েছিল এমনও নয়। কাট্টিমনি নিজের সেরা ছন্দে না থাকলে প্রথমার্ধেই একাধিক গোলে এগিয়ে যেতে পারত প্রথমবারের চ্যাম্পিয়নরা।

    প্রথম গোলে বিরাট অবদান অবিনাশ রুইদাসের। রবার্টের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়ার পর রবার্টের সেন্টার ফিরিয়ে দিয়েছিল গোয়ার রক্ষণ। কিন্তু বল গিয়ে পড়েছিল সোজা রুইদাসের বাঁ পায়ে। বাঁদিক থেকে নিখুঁত ক্রস রেখেছিলেন রুইদাস, স্পেনীয় বেলেনকোসোর মাথায়। জোরালো হেডে কাট্টিমনিকে পরাস্ত করেন বেলেনকোসো।

    ৩৩ মিনিটে আবারও রুইদাস নিখুঁত সেন্টার রেখেছিলেন মার্কি ফুটবলার পোস্তিগার জন্য। পর্তুগিজ ফুটবলার লাফিয়ে হেডও করেছিলেন। বল ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। কাট্টিমনি ৭ ও ১১ মিনিটে দুবার লারার শট বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেভ বোধহয় ৬১ মিনিটে যখন আবারও রুইদাসের গড়ানো সেন্টারে হাতের ছোঁয়ায় বেলেনকোসোর পায়ে যেতে দেননি কাট্টিমনি। নিশ্চিতভাবেই গোলের গন্ধ ছিল রুইদাসের পাঠানো বলে। তখন ২-০ হয়ে গেলে গোয়ার পক্ষে ফিরে আসাও মুশকিল হয়ে যেতে পারত। যেমন ৮৬ মিনিটে পিয়ারসনের শটও কাট্টিমনি বাঁচান, কিন্তু পিয়ারসনের শটে তেমন জোর ছিল না।

    জোড়া বদল এনেছিলেন জিকো, ৬৭ মিনিটে। মাঠে আসেন রবিন সিং ও রাজু গায়কোয়াড়, তিন ফরোয়ার্ডে চলে গিয়েছিল গতবারের রানার্স দল। আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ে গোয়ার। সমতা ফেরে ৮০ মিনিটে যখন মন্দারের বাঁপায়ের শট দেবজিৎকে পরাস্ত করে আশ্রয় নেয় জালে। সেই সময় গোয়া বারবার আক্রমণে এসেছিল, কলকাতাকে বাধ্য করেছিল রক্ষণে মন দিতে। তবে, সেই কারণেই গোয়ার রক্ষণে সৃষ্টি হচ্ছিল ফাঁক। কিছু করারও ছিল না গোয়ার। তিন পয়েন্ট পেতেই হত, সেমিফাইনালের দৌড়ে থাকতে। মরিয়া হয়ে আক্রমণে আসার খেসারত দিতে হল গোয়াকে, ইনজুরি টাইমে।

    চার মিনিটের ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটেই কলকাতাকে জেতানোর চেষ্টায় পরিবর্ত দুতি একাই এগিয়ে এসেছিলেন প্রতি আক্রমণে। বক্সে একা বেলেনকোসো দাঁড়িয়ে। কিন্তু চোট সারিয়ে ফিরে আসা দুতি নিজেই শট নিয়েছিলেন গোলে। যা বারে এবং পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তার পরের মিনিটেই জয়ের গোল। এবার দুতি আর ভুল করেননি। গোলের পাস দেন পিয়ারসনকে, যিনি কাট্টিমনির পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে পাঠিয়ে চার ম্যাচ পর কলকাতাকে এনে দিলেন তিন পয়েন্ট, যা সেমিফাইনালের দিকে অনেকটাই এগিয়ে দিল কলকাতাকে।

    ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সবার শেষেই থেকে গেল গোয়া। বাকি দুটি ম্যাচ জিতলেও সবচেয়ে বেশি ১৭ পয়েন্টে পৌঁছতে পারে, যা হয়ত যথেষ্ট হবে না গোয়ার পক্ষে। কারণ, দুটো ম্যাচ জেতার পাশাপাশি পুনে, কেরল, নর্থইস্ট, চেন্নাই – এই চার দলকেই বাকি ম্যাচগুলিতে হারতে হবে বা জিতলে চলবে না। খুবই জটিল সম্ভাবনা, এমনকি অঙ্কের খাতাতেও!

    No comments