• Breaking News

    ১ গোলের সঙ্গে ২ অ্যাসিস্ট, মেসি ছুঁয়ে ফেললেন বাতিগোলকে! কাশীনাথ ভট্টাচার্য

    [caption id="attachment_177" align="alignleft" width="300"] মেসি। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে গোল করার ঠিক আগে মেসি। ছবি - টুইটার[/caption]

    আর্জেন্তিনা ৪ (ইগাইন ৯, ২৭, মেসি ৬০, লামেলা ৭১)
    ভেনেজুয়েলা ১ (রনদন ৬৯)


    চার ম্যাচে ১৪ গোল দিয়ে শতবার্ষিকী কোপার সেমিফাইনালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মুখমোমুখি আর্জেন্তিনা। অপ্রতিরোধ্য মনে হচ্ছে লিওনেল মেসির আর্জেন্তিনাকে!
    প্রতিযোগিতা শুরুর সময় দিয়েগো মারাদোনা বলেছিলেন, মেসি একেবারেই ভাল নেতা নন। পরপর তিন বছর তিনটি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে নিয়ে গেলেন সেই খারাপ নেতা-ই! ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল আর্জেন্তিনা, ২০১৫ কোপার ফাইনালেও। এবার আপাতত আয়োজকদের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল খেলবে ভারতীয় সময়ানুসারে ২২ জুন। মারাদোনা এবার কি মত বদলাবেন?
    ১৯৯৩-এর পর আর্জেন্তিনা আর কোনও কোপা জেতেনি। মারাদোনা নিজে জেতেননি কোপা একবারও। মেসির সামনে সেই সুযোগ আসতে পারে, যদি য়ুরগেন ক্লিন্সম্যানের আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে আবার উঠতে পারেন ফাইনালে। কিন্তু, তার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে যেভাবে ভেনেজুয়েলাকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্তিনা, সমর্থকরা বুক বাঁধতেই পারেন আশায়।
    এবারের কোপার শুরুতে আহত ছিলেন মেসি। প্রথম ম্যাচে খেলেননি। পরিবর্ত হিসাবে নামেন পানামার বিরুদ্ধে, ৬১ মিনিটে। নেমেই হ্যাটট্রিক! তৃতীয় ম্যাচে বলিভিয়ার বিরুদ্ধে মাঠে এসেছিলেন দ্বিতীয়ার্ধে। নকআউটের জন্য তৈরি থাকতে। এবার ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে তাই শুরু থেকেই মাঠে। আর ৯০ মিনিট শেষে তাঁর পারফরম্যান্স, চুম্বকে – ১ গোল, ২ গোলের পাস! প্রতিযোগিতায় মোট ৪ গোল, আপাতত সর্বোচ্চ। সঙ্গে, অ্যাসিস্ট তালিকাতেও সর্বোচ্চ। তা-ও আবার একটা ম্যাচ না-খেলে, তিন ম্যাচে মোট ১৬৫ মিনিট মাঠে থেকেই!
    গোনজালো ইগাইন আগের তিন ম্যাচে গোল পাননি। নাপোলির হয়ে রেকর্ড গোল করে আসার পর ইগাইনকে খেলাতেই হত। ম্যানেজার জেরার্দো মার্তিনোর ভাবনায় ভুল ছিল না। কিন্তু, ইগাইন গোল পাচ্ছিলেন না। আর্জেন্তিনার জার্সিতে এই এক অদ্ভুত সমস্যা দেখা দেয় ইগাইনের। বেশিরভাগ ম্যাচেই গোল পান না, একটি ম্যাচে আবার আগের সব ম্যাচের কথা ভুলিয়ে দেন। যেমন ভোলালেন ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে। নকআউট পর্যায়ের ম্যাচে শুরুতেই ৯ ও ২৭ মিনিটে দুটো গোলে চাপটা সম্পূর্ণ সরিয়ে দিলেন আর্জেন্তিনার ফুটবলারদের মাথা থেকে। গাইতানের পাস থেকে দলের তৃতীয় গোল মেসি করে ফেলার পরই তাঁকে তুলে নিতে চেয়েছিলেন মার্তিনো। কিন্তু রনদনের গোল, তার পরেই আর্জেন্তিনার আবার ৪-১ করে ফেলা লামেলার গোলে, ইগাইনকে এবার নিশ্চিন্তে তুলে নিয়ে মার্তিনো সুযোগ দিলেন কুন আগেরোকে। প্রতিযোগিতায় আগেরোর গোলসংখ্যা আর বাড়েনি, থেমে থাকল সেই একেই।
    প্রথমার্ধের শেষ দিকে বেশ চাপ বাড়িয়েছিল ভেনেজুয়েলা। ম্যাচে ওই সময়ই শুধু, মিনিট দশেকের একটা স্পেল। আর্জেন্তিনার গোলরক্ষক সের্খিও রোমেরো দুবার দুর্দান্ত ‘সেভ’ করলেন। দুবারই রনদনের প্রচেষ্টা, একবার শট, অন্যটা হেড। তারপর নিজেই পেনাল্টি দিলেন ভেনেজুয়েলাকে, বক্সের মধ্যে জোসেফ মার্তিনেজকে ফেলে দিয়ে। তবে, বল ধরতে গিয়ে মার্তিনেজের পায়ে লেগে যায় হাত, মার্তিনেজ পড়ে যান। তাই পেনাল্টি কিন্তু লাল কার্ড নয়। ৪৪ মিনিটে দুর্দান্ত সুযোগ তখন ভেনেজুয়েলার সামনে, বিরতির ঠিক আগে ১-২ করে ফেলার। লুইস সেইখাস অবশ্য প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। পানেনকা-পেনাল্টি নিতে চেয়েছিলেন সেইখাস। আলতো চিপ করে দিয়েছিলেন, সোজা। রোমেরো ঝাঁপাতে একটু দেরি করায় আর ঝাঁপানোর দরকারই পড়েনি। একেবারে সোজা হাতের মধ্যে পেয়ে যান। আর্জেন্তিনাকেও পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি আর!
    অধিনায়ক মেসি পেলেন দেশের জার্সিতে ৫৪তম গোল। ছুঁয়ে ফেললেন গাব্রিয়েল বাতিস্তুতাকে, দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে। এতদিন পর্যন্ত উইকিপিডিয়া বলছিল, বাতিস্তুতার গোলসংখ্যা ৫৬। পানামার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর জানা যায়, বাতিগোলের আলবিসেলেস্তে জার্সিতে গোলসংখ্যা নাকি আসলে ৫৪। তাই, মেসি এখন যুগ্ম সর্বোচ্চ। সেমিফাইনালে কি পারবেন একক সর্বোচ্চ হয়ে উঠতে?

    No comments