বিদায় ব্রাজিল, ৩০ বছর পর ফিরল ‘হ্যান্ড অফ গড’!
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
[caption id="attachment_68" align="alignleft" width="300"]
সেই হাত-গোল যা ছিটকে দিল ব্রাজিলকে, শতবার্ষিকী কোপা থেকে। ছবি - টুইটার[/caption]
ইতিহাস লেখা হয়েছিল ২২ জুন, ১৯৮৬। মেহিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনা হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের ও তাঁর সহকারী বুলগারিয়ার বোদডান ডটচেভ, দেখতে পাননি। মারাদোনা পরে বলেছিলেন, গোলটা তাঁর হাত দিয়ে নয়, হয়েছিল ঈশ্বরের হাত দিয়ে। তাই সেই গোল কুখ্যাত হয় ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে!
ম্যাসাচুসেটস-এর জিলেট স্টেডিয়ামে একই রকম কুখ্যাত ইতিহাস লেখা হল আবার, ১৩ জুন, ২০১৬। সেই ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের ৩০ বছর পূর্তি যখন আর মাত্র ৯ দিন দূর! এবার গোল করলেন পেরুর রাউল রুইদিয়াজ, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। রেফারি উরুগুয়ের আন্দ্রেস কুনিয়া। সহকারী রেফারির সঙ্গে প্রায় মিনিট পাঁচেক কথা বলার পর শেষ পর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি। কিন্তু, টিভি রিপ্লে-তে পরিষ্কার, বলে হাত লাগিয়েছিলেন রুইদিয়াজ!
তিরিশ বছর আগের ম্যাচে মারাদোনা পরে আবার শতাব্দীর সেরা গোল করে ছিটকে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। এবার পেরুকে আর সেই পরিশ্রম করতে হয়নি। ৭৫ মিনিটের ওই গোল শোধ করতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে, তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে যেতে হল দুঙ্গার দলকে, শতবার্ষিকী কোপার গ্রুপ পর্যায় থেকেই। গ্রুপের সেরা দেশ হিসাবে নকআউটে গেল পেরু। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা খেলবে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে।
বিতর্কিত বিদায় নিঃসন্দেহে। কিন্তু, জিততেই হবে এমন ম্যাচে ব্রাজিল ওই ৭৫ মিনিটের আগে বা পরে গোল করার জন্য তেমন মরিয়া চেষ্টা করলই বা কোথায়! বারদুয়েক পেরুর গোলরক্ষক গাইয়েসে দুর্ভেদ্য হয়ে গোল করতে দেননি। ২৬ মিনিটে গাবিগোলের এবং ৯৩ মিনিটে এলিয়াসের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে। প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই যেমন ছন্নছাড়া ছিল ব্রাজিল, গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচেও একই রকম। তাগিদহীন, দায়সারা মানসিকতার প্রতিফলন খেলায়। ব্রাজিলসুলভ ছন্দ ছিল না একেবারেই। পেনাল্টির আবেদন দু-দলই করেছিল, উরুগুয়ের রেফারি কান দেননি। ফলে, ওই একটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল ব্রাজিলের। অবশ্য, এ-ও মনে রাখা জরুরি, প্রথম খেলায় ইকুয়েদরের সঙ্গত গোল বাতিল করে সেই ম্যাচের রেফারিই সুযোগ করে দিয়েছিলেন একটি পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে, দুঙ্গার দলকে।
কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি সফল উরুগুয়ে ও আর্জেন্তিনা, গত ১০০ বছরের ইতিহাসে। তাই শতবর্ষে ব্রাজিলের বিদায়কে অঘটন বলা মুশকিল। দুঙ্গার প্রশিক্ষণে ব্রাজিল হারিয়ে ফেলেছে সহজাত ছন্দ। ব্রাজিল এখন আর চিত্তাকর্ষক ফুটবল খেলে না, খেলে সাবধানী ফুটবল। বেশিরভাগ ফুটবলারকেই কম বয়সে ইউরোপে, বিশেষত ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন ফুটবলারদের এজেন্টরা। স্কিলনির্ভরতা থেকে মনোযোগ সরিয়ে কার্যকারিতার দিকে নজর বেশি দিতে গিয়ে হারিয়ে যায় সহজাত ব্রাজিলীয় ঘরানা। তার ওপর, কোচ জানতেনই, এই প্রতিযোগিতায় খারাপ ফল হলেও তাঁর চাকরি যাবে না, নিশ্চিত! ফলে, নিজেদের দেশে বিশ্বকাপের পর টানা দুবছর কোপাতেও ব্রাজিলের বিদায়, বেশ খারাপ ফুটবল খেলে।
হাইতিকে সাত গোল দিয়েছিল, ঠিক। কিন্তু, কোপা আমেরিকায় সব দল তো আর হাইতি নয়। একা নেইমারের পক্ষে অলিম্পিকে এই ব্রাজিলের হাল ফেরানো কঠিন শুধু নয়, প্রায় অসম্ভব!
[caption id="attachment_68" align="alignleft" width="300"]
ইতিহাস লেখা হয়েছিল ২২ জুন, ১৯৮৬। মেহিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো মারাদোনা হাত দিয়ে গোল করেছিলেন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তিউনিসিয়ার রেফারি আলি বিন নাসের ও তাঁর সহকারী বুলগারিয়ার বোদডান ডটচেভ, দেখতে পাননি। মারাদোনা পরে বলেছিলেন, গোলটা তাঁর হাত দিয়ে নয়, হয়েছিল ঈশ্বরের হাত দিয়ে। তাই সেই গোল কুখ্যাত হয় ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে!
ম্যাসাচুসেটস-এর জিলেট স্টেডিয়ামে একই রকম কুখ্যাত ইতিহাস লেখা হল আবার, ১৩ জুন, ২০১৬। সেই ঐতিহাসিক ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলের ৩০ বছর পূর্তি যখন আর মাত্র ৯ দিন দূর! এবার গোল করলেন পেরুর রাউল রুইদিয়াজ, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে। রেফারি উরুগুয়ের আন্দ্রেস কুনিয়া। সহকারী রেফারির সঙ্গে প্রায় মিনিট পাঁচেক কথা বলার পর শেষ পর্যন্ত গোলের সিদ্ধান্ত জানান রেফারি। কিন্তু, টিভি রিপ্লে-তে পরিষ্কার, বলে হাত লাগিয়েছিলেন রুইদিয়াজ!
তিরিশ বছর আগের ম্যাচে মারাদোনা পরে আবার শতাব্দীর সেরা গোল করে ছিটকে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ডকে। এবার পেরুকে আর সেই পরিশ্রম করতে হয়নি। ৭৫ মিনিটের ওই গোল শোধ করতে পারেনি ব্রাজিল। ফলে, তিন ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে যেতে হল দুঙ্গার দলকে, শতবার্ষিকী কোপার গ্রুপ পর্যায় থেকেই। গ্রুপের সেরা দেশ হিসাবে নকআউটে গেল পেরু। কোয়ার্টার ফাইনালে তারা খেলবে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে।
বিতর্কিত বিদায় নিঃসন্দেহে। কিন্তু, জিততেই হবে এমন ম্যাচে ব্রাজিল ওই ৭৫ মিনিটের আগে বা পরে গোল করার জন্য তেমন মরিয়া চেষ্টা করলই বা কোথায়! বারদুয়েক পেরুর গোলরক্ষক গাইয়েসে দুর্ভেদ্য হয়ে গোল করতে দেননি। ২৬ মিনিটে গাবিগোলের এবং ৯৩ মিনিটে এলিয়াসের প্রচেষ্টা রুখে দিয়ে। প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই যেমন ছন্নছাড়া ছিল ব্রাজিল, গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচেও একই রকম। তাগিদহীন, দায়সারা মানসিকতার প্রতিফলন খেলায়। ব্রাজিলসুলভ ছন্দ ছিল না একেবারেই। পেনাল্টির আবেদন দু-দলই করেছিল, উরুগুয়ের রেফারি কান দেননি। ফলে, ওই একটি সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াল ব্রাজিলের। অবশ্য, এ-ও মনে রাখা জরুরি, প্রথম খেলায় ইকুয়েদরের সঙ্গত গোল বাতিল করে সেই ম্যাচের রেফারিই সুযোগ করে দিয়েছিলেন একটি পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে, দুঙ্গার দলকে।
কোপা আমেরিকায় ব্রাজিলের চেয়ে অনেক বেশি সফল উরুগুয়ে ও আর্জেন্তিনা, গত ১০০ বছরের ইতিহাসে। তাই শতবর্ষে ব্রাজিলের বিদায়কে অঘটন বলা মুশকিল। দুঙ্গার প্রশিক্ষণে ব্রাজিল হারিয়ে ফেলেছে সহজাত ছন্দ। ব্রাজিল এখন আর চিত্তাকর্ষক ফুটবল খেলে না, খেলে সাবধানী ফুটবল। বেশিরভাগ ফুটবলারকেই কম বয়সে ইউরোপে, বিশেষত ইংল্যান্ডে নিয়ে আসেন ফুটবলারদের এজেন্টরা। স্কিলনির্ভরতা থেকে মনোযোগ সরিয়ে কার্যকারিতার দিকে নজর বেশি দিতে গিয়ে হারিয়ে যায় সহজাত ব্রাজিলীয় ঘরানা। তার ওপর, কোচ জানতেনই, এই প্রতিযোগিতায় খারাপ ফল হলেও তাঁর চাকরি যাবে না, নিশ্চিত! ফলে, নিজেদের দেশে বিশ্বকাপের পর টানা দুবছর কোপাতেও ব্রাজিলের বিদায়, বেশ খারাপ ফুটবল খেলে।
হাইতিকে সাত গোল দিয়েছিল, ঠিক। কিন্তু, কোপা আমেরিকায় সব দল তো আর হাইতি নয়। একা নেইমারের পক্ষে অলিম্পিকে এই ব্রাজিলের হাল ফেরানো কঠিন শুধু নয়, প্রায় অসম্ভব!
No comments