রোসি হয়ে উঠতে পারবেন রোনালদো?
কাশীনাথ ভট্টাচার্য

ইতালির কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে পর্তুগাল!
বিরাশির বিশ্বকাপে এমনই হয়েছিল। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে গ্রুপ লিগে ইতালির সঙ্গে ছিল পোল্যান্ড, পেরু ও ক্যামেরুন। তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ। কিন্তু তিনটি ম্যাচই ড্র, গোল করেছিল মাত্র দুটি, তিন পয়েন্ট নিয়ে কোনও রকমে নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল ইতালি। এনজো বেয়ারজোতের দলকে তারপর আর রোখা যায়নি। আর্জেন্তিনা, ব্রাজিলকে হারিয়ে, সেমিফাইনালে পোল্যান্ড ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকেও হেলায় হারিয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে গিয়েছিল ইতালি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকে শুরু। সেমিফাইনালে আরও ২, ফাইনালে এর একটি, টানা মোট ৬ গোল করে সোনার বুট নিয়ে গিয়েছিলেন পাওলো রোসি।
ইউরোয় এবার পর্তুগালের অবস্থাও একই রকম। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচের শেষে দলের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর রোষানলে পড়েছিলেন আইসল্যান্ডের ফুটবলাররা। এমন ‘হীন-মানসিকতার’ ফুটবল দল আগে দেখেননি, বলেছিলেন রোনালদো। গ্রুপ পর্যায় শেষে দেখা গিয়েছে, আইসল্যান্ড দ্বিতীয় হয়েছে গ্রুপে আর রোনালদোর দল তৃতীয়! কুরুচিকর আক্রমণের ফল হাতেনাতে!
গ্রুপের শেষ ম্যাচে অবশ্য নিজেকে ফিরে পেয়েছেন রোনালদো। নকআউটে অন্য লড়াই, সবাই জানেন। টানা চারটি ইউরোয় গোল পাওয়া প্রথম ফুটবলারের মাথায় তাই এখন শুধুই নকআউট, স্বাভাবিক। তাঁর পেনাল্টি মিস, গোল লক্ষ্য করে ৩০ শটে গোল মাত্র একটি, অন্যটি হেড থেকে – এই সবই ভুলে যেতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না সমর্থকদের। ২০১২ ইউরোয় নিজে তিন গোল করে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন পর্তুগালকে। এবার আবার সুযোগ এসেছে, নিজেকে সেভাবেই মেলে ধরার। পর্তুগালকে ইউরোয় এগিয়ে নিয়ে যেতে রোসি হয়ে উঠতে হবে রোনালদোকেই!
কাজটা অবশ্য এখনও কঠিনই। প্রথম বাধা ক্রোয়েশিয়া। প্রতিযোগিতার শুরু থেকে যারা নিজেদের তুলে ধরেছে ‘ডার্ক হর্স’ হিসাবে। ১৪ ম্যাচ পর ইউরোতে হেরেছে গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, তাদের কাছে। তার থেকেও বড় ব্যাপার, স্পেনের বিরুদ্ধে খেলেননি দলের অন্যতম স্তম্ভ লুকা মোদরিচ এবং সেরা স্ট্রাইকার মান্দজুকিচ। উঠে এসেছেন ইভান পেরিসিচ। অধিনায়ক দারিও স্রনা এখনও দাপটেই খেলছেন। সঙ্গে মাঝমাঠে তাদের আর এক তারকা ইভান রাকিতিচ। ক্রোয়েশিয়াকে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে।
রেয়াল মাদ্রিদে রোনালদো-পেপের সতীর্থ মোদরিচ খেলতে পারবেন কিনা, ক্রোয়েশিয়ার কোচ আন্তে কাসিচের একমাত্র চিন্তা এখন। রেয়ালে মোদরিচ খেলেন বেশ খানিকটা নিচ থেকে, তৈরি করেন খেলা। ওপরে পেয়ে যান টোনি ক্রুসকে। এখানে, জাতীয় দলে, পাচ্ছেন রাকিতিচকে, আক্রমণে যাঁর অবদান স্বীকার করে বার্সেলোনাও। ক্রোয়েশিয়ার যাবতীয় স্বপ্ন এখন এই দুজনকে ঘিরেই। ফুটবলে তথাকথিত বড় শক্তির দেশ না হলেও, ক্রোয়েশিয়ার দুই মিডফিল্ডার রাজত্ব করছেন স্পেনের ফুটবলে, রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো দলে, এই ভাবনাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে ক্রোয়েশীয় ফুটবলারদের।
রোনালদোর পর্তুগালে তারকা আছেন বেশ কয়েকজন। কিন্তু সমস্যা, দেশের হয়ে খেলার সময় কেউই আর তেমন ছন্দে থাকেন না! রক্ষণে রিকার্দো কার্ভালিও আছেন পেপের সঙ্গে। পেপের সমস্যা, অযথা মাথাগরম করে ফেলা। কখন কার্ড দেখবেন, কখন পেনাল্টি দিয়ে ফেলবেন, কেউ জানে না। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই লাল কার্ড দেখে পর্তুগালের সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছিলেন পেপে-ই। রিকার্দো কার্ভালিওর বয়স হয়েছে। সেই দাপট অদৃশ্য। চার গোল দিয়ে চার গোল খেয়েছে পর্তুগাল, দুই স্টপার সেই দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে পারেন না ঘাড় থেকে। হাঙ্গেরিও পরপর দুটি ফ্রি কিক থেকে গোল করে ফেলেছে, প্রায় একই জায়গা থেকে, একই ভঙ্গিতে। দুবারই পর্তুগিজ ফুটবলারদের পায়ে লেগে বল দিক পাল্টে ফেলায়। বাড়তি নজর দিতেই হবে সেট পিস আটকাতে। মোদরিচ এবং রাকিতিচ দুজনেই কিন্তু সেট পিস বিশেষজ্ঞ!
তবু, রোনালদোর ছন্দ হয়ত একটু হলেও এগিয়ে রাখবে পর্তুগালকে। আর একটি গোল করলেই রোনালদো ছুঁয়ে ফেলবেন ইউরোর মূলপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিশেল প্লাতিনিকে। প্লাতিনিরই দেশের মাটিতে এই রেকর্ড করতে নিশ্চিতভাবেই বাড়তি আগ্রহী হবেন রোনালদো!
ইতালির কথা মনে পড়িয়ে দিচ্ছে পর্তুগাল!
বিরাশির বিশ্বকাপে এমনই হয়েছিল। বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে গ্রুপ লিগে ইতালির সঙ্গে ছিল পোল্যান্ড, পেরু ও ক্যামেরুন। তুলনায় সহজ প্রতিপক্ষ। কিন্তু তিনটি ম্যাচই ড্র, গোল করেছিল মাত্র দুটি, তিন পয়েন্ট নিয়ে কোনও রকমে নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল ইতালি। এনজো বেয়ারজোতের দলকে তারপর আর রোখা যায়নি। আর্জেন্তিনা, ব্রাজিলকে হারিয়ে, সেমিফাইনালে পোল্যান্ড ও ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকেও হেলায় হারিয়ে বিশ্বকাপ নিয়ে গিয়েছিল ইতালি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকে শুরু। সেমিফাইনালে আরও ২, ফাইনালে এর একটি, টানা মোট ৬ গোল করে সোনার বুট নিয়ে গিয়েছিলেন পাওলো রোসি।
ইউরোয় এবার পর্তুগালের অবস্থাও একই রকম। তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট। প্রথম ম্যাচের শেষে দলের অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর রোষানলে পড়েছিলেন আইসল্যান্ডের ফুটবলাররা। এমন ‘হীন-মানসিকতার’ ফুটবল দল আগে দেখেননি, বলেছিলেন রোনালদো। গ্রুপ পর্যায় শেষে দেখা গিয়েছে, আইসল্যান্ড দ্বিতীয় হয়েছে গ্রুপে আর রোনালদোর দল তৃতীয়! কুরুচিকর আক্রমণের ফল হাতেনাতে!
গ্রুপের শেষ ম্যাচে অবশ্য নিজেকে ফিরে পেয়েছেন রোনালদো। নকআউটে অন্য লড়াই, সবাই জানেন। টানা চারটি ইউরোয় গোল পাওয়া প্রথম ফুটবলারের মাথায় তাই এখন শুধুই নকআউট, স্বাভাবিক। তাঁর পেনাল্টি মিস, গোল লক্ষ্য করে ৩০ শটে গোল মাত্র একটি, অন্যটি হেড থেকে – এই সবই ভুলে যেতে বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না সমর্থকদের। ২০১২ ইউরোয় নিজে তিন গোল করে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন পর্তুগালকে। এবার আবার সুযোগ এসেছে, নিজেকে সেভাবেই মেলে ধরার। পর্তুগালকে ইউরোয় এগিয়ে নিয়ে যেতে রোসি হয়ে উঠতে হবে রোনালদোকেই!
কাজটা অবশ্য এখনও কঠিনই। প্রথম বাধা ক্রোয়েশিয়া। প্রতিযোগিতার শুরু থেকে যারা নিজেদের তুলে ধরেছে ‘ডার্ক হর্স’ হিসাবে। ১৪ ম্যাচ পর ইউরোতে হেরেছে গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন, তাদের কাছে। তার থেকেও বড় ব্যাপার, স্পেনের বিরুদ্ধে খেলেননি দলের অন্যতম স্তম্ভ লুকা মোদরিচ এবং সেরা স্ট্রাইকার মান্দজুকিচ। উঠে এসেছেন ইভান পেরিসিচ। অধিনায়ক দারিও স্রনা এখনও দাপটেই খেলছেন। সঙ্গে মাঝমাঠে তাদের আর এক তারকা ইভান রাকিতিচ। ক্রোয়েশিয়াকে অপ্রতিরোধ্য দেখাচ্ছে।
রেয়াল মাদ্রিদে রোনালদো-পেপের সতীর্থ মোদরিচ খেলতে পারবেন কিনা, ক্রোয়েশিয়ার কোচ আন্তে কাসিচের একমাত্র চিন্তা এখন। রেয়ালে মোদরিচ খেলেন বেশ খানিকটা নিচ থেকে, তৈরি করেন খেলা। ওপরে পেয়ে যান টোনি ক্রুসকে। এখানে, জাতীয় দলে, পাচ্ছেন রাকিতিচকে, আক্রমণে যাঁর অবদান স্বীকার করে বার্সেলোনাও। ক্রোয়েশিয়ার যাবতীয় স্বপ্ন এখন এই দুজনকে ঘিরেই। ফুটবলে তথাকথিত বড় শক্তির দেশ না হলেও, ক্রোয়েশিয়ার দুই মিডফিল্ডার রাজত্ব করছেন স্পেনের ফুটবলে, রেয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মতো দলে, এই ভাবনাই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে ক্রোয়েশীয় ফুটবলারদের।
রোনালদোর পর্তুগালে তারকা আছেন বেশ কয়েকজন। কিন্তু সমস্যা, দেশের হয়ে খেলার সময় কেউই আর তেমন ছন্দে থাকেন না! রক্ষণে রিকার্দো কার্ভালিও আছেন পেপের সঙ্গে। পেপের সমস্যা, অযথা মাথাগরম করে ফেলা। কখন কার্ড দেখবেন, কখন পেনাল্টি দিয়ে ফেলবেন, কেউ জানে না। বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই লাল কার্ড দেখে পর্তুগালের সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছিলেন পেপে-ই। রিকার্দো কার্ভালিওর বয়স হয়েছে। সেই দাপট অদৃশ্য। চার গোল দিয়ে চার গোল খেয়েছে পর্তুগাল, দুই স্টপার সেই দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলতে পারেন না ঘাড় থেকে। হাঙ্গেরিও পরপর দুটি ফ্রি কিক থেকে গোল করে ফেলেছে, প্রায় একই জায়গা থেকে, একই ভঙ্গিতে। দুবারই পর্তুগিজ ফুটবলারদের পায়ে লেগে বল দিক পাল্টে ফেলায়। বাড়তি নজর দিতেই হবে সেট পিস আটকাতে। মোদরিচ এবং রাকিতিচ দুজনেই কিন্তু সেট পিস বিশেষজ্ঞ!
তবু, রোনালদোর ছন্দ হয়ত একটু হলেও এগিয়ে রাখবে পর্তুগালকে। আর একটি গোল করলেই রোনালদো ছুঁয়ে ফেলবেন ইউরোর মূলপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিশেল প্লাতিনিকে। প্লাতিনিরই দেশের মাটিতে এই রেকর্ড করতে নিশ্চিতভাবেই বাড়তি আগ্রহী হবেন রোনালদো!
No comments