রেকর্ডের আলোতেও সংযত মেসি কোপার দিকে তাকিয়ে
সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার এটাই তো সময় মেসি
[caption id="attachment_248" align="alignleft" width="295"]
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
চ্যাম্পিয়ন যদি হন, রেকর্ড থাকবে প্রচুর। থাকবে বিস্তর আক্ষেপও!
সমালোচনার বিস্তৃত জালে জড়িয়ে থাকবেন ওই তারকা। লোকে আঙুল তুলে বলবে, দেখেছো নিজের বিশ্বের সেরা ফুটবলার ভাবে, আসল জায়গায় গিয়ে চূড়ান্ত ফ্লপ! দেশকে ট্রফি জেতাল কবে?
যে দিন বিরুদ্ধবাদীদের ঠেলে পোডিয়ামের এক ধাপ আগে দাঁড়িয়ে থাকবেন, সে দিনও হয়তো লোকে বলবে, আগে করে দেখাক!
লিওনেল মেসি সেই তারকা, যাঁর সাম্রাজ্যে সব আছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ব্যালন ডি’ওর। নেই শুধু নীল-সাদা পতাকা জড়ানো একটা ট্রফি। যা কখনও আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন এমএল টেন।
কোপার ফাইনাল ম্যাচে রেকর্ডের এভারেস্টে দাঁড়িয়েও মেসির রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা যেন বারবার ধরা পড়ছিল। যুরগেন ক্লিন্সম্যানের আমেরিকাকে ৪-০ উড়িয়ে দেওয়ার পরও। বাতিস্তুতার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটা টপকে গিয়েও। মনে হচ্ছিল, যেন নিজের ‘আমি’টাকে তিনি বারবার বোঝাচ্ছেন, উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার সময় এখন নয়। সময় নয় বাইরের দুনিয়া কী বলছে, তা নিয়ে ভাবার। দেশের জার্সিতে একটা ট্রফির স্বপ্ন দেখছো, অনেক দিন। আর একটা ম্যাচ। নিজেকে সামলাও লিও! খরাটা কাটাও, যে ভাবেই হোক!’
মার্কিন মিডিয়া আর জনতা যেন মোহিত হয়ে যাচ্ছে ম্যাচের পর ম্যাচ। মেসি এ সবে নেই। মেসি নিজে বলেছেন, ‘ট্রফিটা জেতার জন্য নিজেকে নিংড়ে দেব। এই সুযোগ মিস করতে চাই না কোনও ভাবে। আমার টিমমেটরাও আমার সঙ্গে তেতে রয়েছে, মুখিয়ে রয়েছে।’
এই ম্যাচে মেসি ঝলক ছাড়া আর কী-ই বা ছিল। সে যতই গোল করুন জোড়া গোল করুন হিগুয়েন। বা টিমের খাতা খুলুন লাভেজ্জি। সারা ম্যাচ জুড়ে ভেল্কি দেখিয়েছেন মেসি। আমেরিকা আসলে হারল লিওর কাছেই। ৩২ মিনিটে বাঁ পায়ের ইনসুইং ফ্রি কিক থেকে করা ২-০ টার অনেক আগেই শুরু হয়ে গিয়েছে ম্যাজিক। লাভেজ্জিকে দিয়ে ১-০ করানোর সময় থেকে। এই নিয়ে মরসুমে ন’নম্বর গোলটা করলেন ফ্রি কিক থেকে। বাতিগোলকে টপকে যাওয়ার পর মেসি বলেছেন, ‘রেকর্ডটা করতে পেরেছি আমার টিমমেটদের জন্য। তবে আমি তৃপ্ত।’
ট্রফি দিতে না পারার জন্য সমালোচনা চলে যাঁর, তিনি টানা তিন বার টিমকে ফাইনালে তুললেন। দু’বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপ, গত বছর কোপা আমেরিকা, এ বার কোপা সেন্টেনারিতে। চোট সারিয়ে মাঠে ফিরে যেন স্বপ্নের ছন্দে রয়েছেন মেসি। চারটে ম্যাচ খেলে ৫টা গোল, ৪টে করিয়েছেন। চার ম্যাচের মধ্যে আবার দুটো ম্যাচে নেমেছিলেন পরিবর্ত হিসেবে। তিন বার ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।
ম্যাচের পর মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা ইন্সটাগ্রামে বাচ্চাদের ঘুমোনোর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘বাবার গর্বিত একটা দিন দেখে বাচ্চা এখন শুতে গেল। আমরা তোমায় ভালোবাসি লিও!’
পরিবার, বার্সেলোনা, রেকর্ড, ভক্তকুল— সব থেকে সচেতন ভাবে দূরে বসে থাকা লোকটা তাকিয়ে রয়েছেন শুধু একটা ট্রফির দিকে। কিছু দিন আগে তাঁরই দেশোয়ালি কিংবদন্তি ‘মেসি নেতা নয়’টার জবাব দেওয়ার সেরা সময় তো এটাই। কোপা ফাইনালটা জেতার পর এত দিন চুপ থাকা মেসি হয়তো বলবেন, ‘দিয়েগো, তোমাকে দিলাম!’
No comments