গুরুত্ববহীন ম্যাচ, পরে নামানোই উচিত মেসিকে | কাশীনাথ ভট্টাচার্য
শুরু থেকেই খেলবেন? নাকি, আবারও পরিবর্ত হিসাবে? অধিনায়ক লিওনেল মেসি সম্পর্কে আর্জেন্তিনার সমর্থকদের ভাবনা এখন এই দুটি প্রশ্ন ঘিরেই।
মোটামুটি সুস্থ। মাঠে নামার মতো অবস্থায় তো বটেই, হ্যাটট্রিক করার অবস্থায় আছেন মেসি, দেখিয়ে দিয়েছিলেন আগের ম্যাচে। আর্জেন্তিনার সুবিধা, দুটি ম্যাচই জিতেছে। চিলে-কে হারিয়েছে ২-১, পানামাকে ৫-০। ফলে, ৬ পয়েন্ট এবং গোল-পার্থক্যেও এগিয়ে সবার ওপরে থাকা নিশ্চিত প্রায়। প্রতিযোগিতায় দুটি ম্যাচই হেরে ছিটকে গিয়েছে বলিভিয়া। আর হারানোর কিছু নেই যেহেতু, মুক্তমনে ফুটবল খেলতে পারবে। আর্জেন্তিনার সামনে নকআউট। তাই, অতটা মুক্তমনে এই ম্যাচ নিয়েই শুধু ভাবতে পারছেন না কোচ জেরার্দো মার্তিনো।
যেমন, চোট-পাওয়া আনখেল দিমারিয়াকে খেলাবেন না তিনি। নকআউটে সুস্থ দিমারিয়ার থাকা বেশি জরুরি। একটা সুবিধে হয়েছে, মেহিকো সি গ্রুপের শীর্ষে থাকায়। আর্জেন্তিনা যদি ডি গ্রুপের শীর্ষেই থাকে, কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে। প্রতিযোগিতার অন্যতম ফেভারিট মেহিকোকে আপাতত এড়িয়ে যাওয়া যাবে তখন। আর সুস্থ দিমারিয়াকে পাওয়া যাবে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে। চিন্তার আরও একটি জায়গা মার্কোস রোখো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার প্রথম ম্যাচে চিলের বিরুদ্ধেই হলুদ কার্ড দেখেছিলেন। বলিভিয়ার বিরুদ্ধে আরও একটি কার্ড দেখলে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে রোখোকেও বিশ্রাম দেওয়ার ভাবনা রয়েছে মার্তিনোর।
মেসিকে নিয়ে সমস্যা একটাই, খেলার মতো অবস্থায় থাকলে খেলবেনই। তখন বসিয়ে রাখলে গোঁসা হয়। খেলতে নামিয় তুলে নিলেও। বার্সেলোনায় কোচ থাকাকালীন এই সমস্যা সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছিল কোচ পেপ গারদিওলাকে। পরে বলেওছিলেন পেপ, দলে থাকলে এবং সুস্থ থাকলে ওকে বসানোর কথা যেন কখনও না ভাবে কোচরা!
আর্জেন্তিনায় অবশ্য এখন ভিন্ন পরিস্থিতি। ব্রাজিল, উরুগুয়ের বিদায়ের পর দক্ষিণ আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের পতাকা তুলে ধরার কাজ প্রধানত মেসির আর্জেন্তিনার কাঁধে। ২০১৪য় বিশ্বকাপ এবং ২০১৫য় কোপা ফাইনালে ক্লান্তি এবং চোট ভুগিয়েছিল আলবিসেলেস্তে-দের। কেউ না জানুক সবথেকে ভাল জানেন মেসি নিজেই। তাই, এই তুলনামূলক অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মার্তিনো আবারও বেঞ্চে রেখেই শুরু করতে পারেন মেসিকে, যাতে নকআউট থেকে একেবারে তরতাজা মেজাজে খেলতে পারেন তাঁর অধিনায়ক।
বলিভিয়ার লা পাজ-এ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ফুটবল মাঠ, যেখানে খেলতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যায় সব দলেরই। কিন্তু, পাহাড়ের মাথা থেকে মাটিতে নেমে এলে বলিভিয়ার পারফরম্যান্সও নেমে আসে মাটিতেই। তাই এই দুই ম্যাচে হার। আর্জেন্তিনার কাছেও হারই প্রত্যাশিত। আরও যা দেখার, মেসি খেললে, বাতিস্তুতার দিকে আর কতটা এগিয়ে যেতে পারেন!
No comments