রামোসের পেনাল্টি মিস, হেরে ইতালির মুখে স্পেন
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
ইউরোয় ৭৩৩ মিনিট পর গোল খেল স্পেন, ১৪ ম্যাচ পর হারল! আর, হেরে ইউরো জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্নে খেল বিরাট ধাক্কা। নকআউট রাউন্ডে ইনিয়েস্তাদের এখন খেলতে হবে ইতালির বিরুদ্ধে। ২০১২ ইউরো ফাইনালের পুনরাবৃত্তি। আর, হ্যাটট্রিকের স্বপ্নটাকে ধরে রাখতে হলে সেই ফাইনালের মতোই পারফরম্যান্স জরুরি এখন গত দুবারের চ্যাম্পিয়নদের। দুটি ম্যাচ জিতে গ্রুপের শীর্ষে থেকে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছিল স্পেন। ড্র করতে পারলেই নকআউটে যেত শীর্ষে থেকেই। কিন্তু, ইউরোয় আবারও শেষ পর্বে গোল। ক্রোয়েশিয়ার দ্বিতীয় গোল ৮৭ মিনিটে। তারপর গোল শোধ করার বিশেষ সুযোগও পায়নি স্পেন। যদিও তার বেশ খানিকক্ষণ আগে, ৭৩ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েছিল। সের্খিও রামোস, স্পেনের অধিনায়ক, নিজেই এগিয়ে যান পেনাল্টি নিতে। কিন্তু ক্রোয়েশীয় গোলরক্ষক রামোস শট নেওয়ার আগেই এগিয়ে পিছিয়ে যে চাপ তৈরি করেছিলেন, রেয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক সেই চাপে পড়ে সোজা গোলরক্ষকের দিকেই শট নেন যা সহজেই বাঁচিয়ে দেন। সেই সময় এগিয়ে গেলে খেলার ফল অন্যরকম হতেই পারত, ঠিক। কিন্তু, অস্বীকার করা যাবে না লুকো মদরিচকে ছাড়াই ক্রোয়েশীয়দের লড়াই। ম্যাচের প্রায় শুরুতে গোল খেয়েও প্রতি আক্রমণে যেতে ভয় পায়নি। স্পেনের রক্ষণকে বারবারই পরীক্ষার মুখে ফেলে দিয়েছিলেন রাকিতিচরা। বার্সেলোনার মিডফিল্ডারের একটি শট দাভিদ দে খেয়াকে পরাস্ত করে, বারে লেগে, পোস্টে লেগে, গোললাইনে পড়েও ফিরে এসেছিল! রাকিতিচের বিহ্বল চোখ বিশ্বাসই করতে পারছিল না যে, বল গোললাইন অতিক্রম করেনি। দে খেয়া অবশ্য আরও একবার প্রায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন স্পেনকে। বক্সের মধ্যে ছোট পাস খেলা তাঁর সহজাত নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে খেলেন যেখানে গোলরক্ষকদের এমন পাস খেলাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় না। একবার সেই চেষ্টা করতে গিয়েই বক্সের ঠিক বাইরে ক্রোয়েশীয় ফরোয়ার্ডের পায়ে বল তুলে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় যে গোলটি খেলেন তা-ও কাছের পোস্টে। বল তাঁকে পরাস্ত করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় থেকেই হাত তুলে পিকের দিকে নির্দেশ করে তাঁর স্টপারের ভুল ধরতে ব্যস্ত ছিলেন! দ্বিতীয় ম্যাচে তিন গোলের পর আবার স্পেন ব্যর্থ গোলের সুযোগ তৈরিতে। মোরাতা প্রথমে গোল করলেও পরের দিকে আর তেমন সুযোগ পাননি। সব মিলিয়ে, বেশ সমস্যায় পড়ল স্পেন। ইতালিকে আগেরবার ফাইনালে প্রায় দুরমুশ করে হারিয়েছিলেন ইনিয়েস্তারা। ম্যাচের সেরাও হয়েছিলেন ইনিয়েস্তাই। এবার কোন্তের প্রশিক্ষণে ইতালি আরও সংঘবদ্ধ, গতবারের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তৈরি হয়েই মাঠে নামবে। দেল বস্কের কপালে তাই বাড়তি ভাঁজ!
No comments