রাশিয়ার বিরুদ্ধে গতিই সম্পদ তরুণ ইংল্যান্ডের | কাশীনাথ ভট্টাচার্য
বিশ্বকাপ জিতেছিল ১৯৬৬ সালে। নিজেদের দেশে। এবার তার ৫০ বর্ষপূর্তি। ইংল্যান্ড সেই কারণেই আরও উদ্দীপ্ত, ফ্রান্সে ইউরো শুরুর আগে! আর সেই জন্যই প্রস্তুতিতে খামতি না রাখতে গুপ্তচর লাগিয়েছিল ইংল্যান্ড! উইম্বলডনের প্রাক্তন কোচ টেরি বার্টনকে। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ছিলেন রাশিয়ায়। দেখছিলেন, রাশিয়ার কোন ফুটবলার কেমন খেলছেন। রিপোর্ট দিয়ে গিয়েছেন রয় হজসনকে, গত সপ্তাহেই। আর তাঁর দেওয়া রিপোর্ট নিয়েই আজ ইউরো-অভিযান শুরু করতে চলেছে ইংল্যান্ড, ওয়েন রুনির নেতৃত্বে।
রাশিয়ার দুর্বলতা ঠিক কোথায়? চোটের কারণে বিপর্যস্ত দল। লিওনিড স্লাটস্কির প্রশিক্ষণে ফাবিও কাপেলো জমানার ব্যর্থতা ছেড়ে গা-ঝাড়া দিয়ে উঠেছিল রাশিয়া। কিন্তু, অ্যালান ডিজাগোয়েভ, ইউরি ঝিরকভ ও ইগর ডেনিসভের চোট বাধ্য করেছে স্লাটস্কিকে, নিজের পরিকল্পনা পাল্টাতে। মাঝমাঠে বেরেজুটস্কি-ইগনাশেভিচ জুটির ওপর থাকছে রক্ষণকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার ভার, কিন্তু দুজনের মিলিত বয়স ৬৯! রাশিয়া এমনিতেই পিছিয়ে খেলতে অভ্যস্ত রক্ষণে। গতির অভাব তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। ইংল্যান্ড যেন এই দুর্বলতাই কাজে লাগায়, তেমনই নাকি রিপোর্ট পেশ করেছেন বার্টন।
ফলে, হজসনের দলে আজ সেই তরুণদের ভিড় হতে পারে, গতিই যাদের সম্পদ। যেমন রহিম স্টার্লিং। তাঁর সঙ্গে হ্যারি কেনের জুটি মাথাব্যথার কারণ রুশদের। আলি আর লাল্লানা প্রথম দলে থাকলে, হজসন নিশ্চিত হবেন, বল অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পৌঁছবে বিপক্ষের বক্সে। অধিনায়ক রুনি ফরোয়ার্ডে নন, খেলবেন পেছন থেকে, পাস বাড়াবেন গোলের, মাঝেমাঝে পৌঁছে যাবেন নিজেও। জেমস ভার্ডি সম্ভবত শুরু করবেন বেঞ্চেই।
ইংল্যান্ড এবার বেশ অনভিজ্ঞ তরুণদের দল। মাত্র চারজন আছেন ২০১২র ইউরো দল থেকে। রক্ষণে স্মলিং এবং ক্যাহিল দুজনেই এবারের ক্লাব মরসুমে বিশেষ ছন্দে ছিলেন না। তাঁদের ভরসা দিতে সামনে এরিক ডায়ার। কিন্তু, ইংল্যান্ডকে টেনে নিয়ে যেতে পারে তাদের মাঝমাঠ ও আক্রমণের তারুণ্য, সঙ্গে দুই উইংব্যাক ওয়াকার ও রোজ-এর দৌড়। বাছাইপর্বে সব ম্যাচ জিতে এবং প্রস্তুতি ম্যাচগুলোও জিতে আত্মবিশ্বাসের শীর্ষে থেকেই মার্সেই পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। স্বপ্ন, এবার অন্তত ফ্রান্সে ভাল খেলে নিজেদের প্রতিভার প্রতি সুবিচার!
No comments