ইনিয়েস্তা-মোরাতা নকআউটে নিয়ে গেলেন স্পেনকে
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
[caption id="attachment_165" align="alignleft" width="300"]
নকআউটে পৌঁছে যাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বসিত স্পেনের ফুটবলাররা। ছবি - টুইটার[/caption]
তিনি তখন ছোট। সবে এসেছেন লা মাসিয়ায়। অনুশীলনে ছোট্ট ছেলেটাকে দেখে কোচ পেপ গারদিওলা ডেকে নিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ছাত্রকে। সেই ছাত্র জাভি এরনান্দেজ। তাকে প্রথমে দেখে জোহান ক্রুয়েফ প্রিয় ছাত্র পেপকে ডেকে বলেছিলেন, ‘দেখে রাখো, তোমাকে রিটায়ার করিয়ে দেবে।’ আর, পেপ বলেছিলেন জাভিকে, ওই নতুন ছেলেকে দেখিয়ে, ‘দেখে রাখ, তোকে ার আমাকে দুজনকেই রিটাআর করিয়ে দেবে!’
সেই ছেলে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তিনি খেললে স্পেন খেলে। আজ নয়, বরাবরই। তিনি পাস দেন, গোল করে যান ক্লাবে লিওনেল মেসি, দেশে আলভারো মোরাতা। তিনি বল নিয়ে এগোলে কবিরা কলম তুলে রাখেন। আরও একটু ঝুঁকে বসেন নিজেদের আসনে। এই বোধহয় আবারও একটা মুহূর্ত তৈরি হল যা মনের মনিকোঠায় থেকে যাবে আজীবন। ইনিয়েস্তা থাকলে সবই সম্ভব!
যেমন হল তুরস্কের বিরুদ্ধে। ইনিয়েস্তা চললেন, স্পেনের গাড়ি চলল গড়গড়িয়ে। স্পেনের সমস্যা একটাই, গোল করার লোকের অভাব। মাঝমাঠ ভাল খেলে, রক্ষণ মাঝেমাঝে ডোবালেও মোটামুটি ধারাবাহিক। যেখানে অভাব, গোল করবেন কে? বাধ্য হয়ে দেল বস্ক-কে দল সাজাতে হয়েছিল এমনভাবে যা আসলে ‘স্ট্রাইকারলেস ওয়ান্ডার’! ‘ফলস নাইন’ মানে স্ট্রাইকারের পেছনে লুকোন একজন স্ট্রাইকার। দেল বস্কের তো কোনও আসল ‘নম্বর টেন’-ই ছিল না, যার পেছনে লুকিয়ে রাখতে পারতেন ‘ফলস নাইন’-কে! দাভিদ ভিয়ার অবসর, ফেরনান্দো তোরেসের ছন্দহীনতা, বস্ককে বাধ্য করেছিল ফাব্রেগাসকে স্ট্রাইকার ভাবতে!
এই ইউরোতে সেই সমস্যা নেই। আলভারো মোরাতা খেলতেন রেয়াল মাদ্রিদে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা ও গ্যারেথ বেল থাকায় সুযোগ পাবেন না জেনে চলে গিয়েছিলেন জুভেন্তাসে। জুভেন্তাস দ্বিমুকুট জিতেছে, মোরাতা গোল পেয়েছেন। যদিও তেমন বিরাট পরিসংখ্যান নয়, ৪৭ ম্যাচে ১২ গোল। কিন্তু, ভরসা রেখেছিলেন বস্ক। ফলে পেলেন যখন ইউরোয় তুরস্ককে ৩-০ হারানোর পথে দুটি গোল করলেন মোরাতা।
তুরস্ক প্রথম আধঘন্টা তেমন সুযোগ দেয়নি স্পেনকে। আর্দা তুরান অধিনায়ক তাঁদের, খেলেন বার্সেলোনায়। যেহেতু বিপক্ষ দলে তাঁর সতীর্থ অনেকেই, তুরানকে শুনতে হল দর্শকদের বিদ্রুপ। ইনিয়েস্তা যা শুনে স্তম্ভিত। ‘খুব খারাপ ব্যাপার। নিজের দলের অধিনায়ককে এমনভাবে বিদ্রুপ কি করতে পারে কেউ? ভাবতেই পারছি না’, বলেছেন। কী-ই বা করতে পারতেন তুরান আর! ইনিয়েস্তা ঠিকঠাক ছন্দে, স্পেনের দুই স্ট্রাইকার গোল পেয়েছেন, একা তুরান কী করবেন?
হ্যাটট্রিকের স্বপ্নে মজবুত দেখাচ্ছে স্পেনকে! ইউরোয় প্রথম দল হিসাবে তিন গোল দিল বস্কের স্পেন। চলে গেল নকআউটে। শেষ ম্যাচটা গ্রুপের সেরা প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। ড্র করতে পারলেই গ্রুপ শীর্ষে থাকতে পারবে স্পেন। ২০১২ ইউরোয় গোল করা নিয়ে প্রচুর সংশয় ছিল যখন, ফাইনালে ইতিলারি বিরুদ্ধে নিজেদের ছাপিয়ে গিয়েছিল স্পেন। চার গোল দিয়েছিল ইতালিকে। সেই ম্যাচেও কিন্তু সেরা ফুটবলারের নাম ছিল ইনিয়েস্তাই!
[caption id="attachment_165" align="alignleft" width="300"]
তিনি তখন ছোট। সবে এসেছেন লা মাসিয়ায়। অনুশীলনে ছোট্ট ছেলেটাকে দেখে কোচ পেপ গারদিওলা ডেকে নিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ছাত্রকে। সেই ছাত্র জাভি এরনান্দেজ। তাকে প্রথমে দেখে জোহান ক্রুয়েফ প্রিয় ছাত্র পেপকে ডেকে বলেছিলেন, ‘দেখে রাখো, তোমাকে রিটায়ার করিয়ে দেবে।’ আর, পেপ বলেছিলেন জাভিকে, ওই নতুন ছেলেকে দেখিয়ে, ‘দেখে রাখ, তোকে ার আমাকে দুজনকেই রিটাআর করিয়ে দেবে!’
সেই ছেলে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা। তিনি খেললে স্পেন খেলে। আজ নয়, বরাবরই। তিনি পাস দেন, গোল করে যান ক্লাবে লিওনেল মেসি, দেশে আলভারো মোরাতা। তিনি বল নিয়ে এগোলে কবিরা কলম তুলে রাখেন। আরও একটু ঝুঁকে বসেন নিজেদের আসনে। এই বোধহয় আবারও একটা মুহূর্ত তৈরি হল যা মনের মনিকোঠায় থেকে যাবে আজীবন। ইনিয়েস্তা থাকলে সবই সম্ভব!
যেমন হল তুরস্কের বিরুদ্ধে। ইনিয়েস্তা চললেন, স্পেনের গাড়ি চলল গড়গড়িয়ে। স্পেনের সমস্যা একটাই, গোল করার লোকের অভাব। মাঝমাঠ ভাল খেলে, রক্ষণ মাঝেমাঝে ডোবালেও মোটামুটি ধারাবাহিক। যেখানে অভাব, গোল করবেন কে? বাধ্য হয়ে দেল বস্ক-কে দল সাজাতে হয়েছিল এমনভাবে যা আসলে ‘স্ট্রাইকারলেস ওয়ান্ডার’! ‘ফলস নাইন’ মানে স্ট্রাইকারের পেছনে লুকোন একজন স্ট্রাইকার। দেল বস্কের তো কোনও আসল ‘নম্বর টেন’-ই ছিল না, যার পেছনে লুকিয়ে রাখতে পারতেন ‘ফলস নাইন’-কে! দাভিদ ভিয়ার অবসর, ফেরনান্দো তোরেসের ছন্দহীনতা, বস্ককে বাধ্য করেছিল ফাব্রেগাসকে স্ট্রাইকার ভাবতে!
এই ইউরোতে সেই সমস্যা নেই। আলভারো মোরাতা খেলতেন রেয়াল মাদ্রিদে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, করিম বেনজেমা ও গ্যারেথ বেল থাকায় সুযোগ পাবেন না জেনে চলে গিয়েছিলেন জুভেন্তাসে। জুভেন্তাস দ্বিমুকুট জিতেছে, মোরাতা গোল পেয়েছেন। যদিও তেমন বিরাট পরিসংখ্যান নয়, ৪৭ ম্যাচে ১২ গোল। কিন্তু, ভরসা রেখেছিলেন বস্ক। ফলে পেলেন যখন ইউরোয় তুরস্ককে ৩-০ হারানোর পথে দুটি গোল করলেন মোরাতা।
তুরস্ক প্রথম আধঘন্টা তেমন সুযোগ দেয়নি স্পেনকে। আর্দা তুরান অধিনায়ক তাঁদের, খেলেন বার্সেলোনায়। যেহেতু বিপক্ষ দলে তাঁর সতীর্থ অনেকেই, তুরানকে শুনতে হল দর্শকদের বিদ্রুপ। ইনিয়েস্তা যা শুনে স্তম্ভিত। ‘খুব খারাপ ব্যাপার। নিজের দলের অধিনায়ককে এমনভাবে বিদ্রুপ কি করতে পারে কেউ? ভাবতেই পারছি না’, বলেছেন। কী-ই বা করতে পারতেন তুরান আর! ইনিয়েস্তা ঠিকঠাক ছন্দে, স্পেনের দুই স্ট্রাইকার গোল পেয়েছেন, একা তুরান কী করবেন?
হ্যাটট্রিকের স্বপ্নে মজবুত দেখাচ্ছে স্পেনকে! ইউরোয় প্রথম দল হিসাবে তিন গোল দিল বস্কের স্পেন। চলে গেল নকআউটে। শেষ ম্যাচটা গ্রুপের সেরা প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে। ড্র করতে পারলেই গ্রুপ শীর্ষে থাকতে পারবে স্পেন। ২০১২ ইউরোয় গোল করা নিয়ে প্রচুর সংশয় ছিল যখন, ফাইনালে ইতিলারি বিরুদ্ধে নিজেদের ছাপিয়ে গিয়েছিল স্পেন। চার গোল দিয়েছিল ইতালিকে। সেই ম্যাচেও কিন্তু সেরা ফুটবলারের নাম ছিল ইনিয়েস্তাই!
No comments