এমবিএসজি — ১ (মনবীর ৮৫)
চেন্নাইয়িন এফসি — ০
অমল দত্ত বারবার বলতেন, ফুটবলের নুন হল গোল। প্রয়াত কোচকে মনে পড়ার কারণ, সোমবার যুবভারতীতে মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট এবং চেন্নাইয়িন এফসি–র অজস্র সুযোগ নষ্ট। ৮৫ মিনিটে পরিবর্ত লিস্টন কোলাসোর ক্রস বুক দিয়ে জালে পাঠিয়ে একমাত্র গোল পেয়ে এমবিএসজি–কে তিন পয়েন্ট এনে দিলেন মনবীর সিং, এবারের আইএসএল-এ ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে। কিন্তু, ম্যাচজুড়ে থেকে গেল দুই দলের তরফেই প্রচুর গোলের সুযোগ হেলায় হারানোর ঘটনা।
সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল ক্লিফোর্ড মিরান্ডার চেন্নাইকে। প্রথমার্ধে যখন দাপট তাদের, ব্রাইসন, ইরফান, নিকোলারা কখনও ওড়ালেন, কখনও বিশাল কাইথকে সুযোগ দিলেন গোল বাঁচানোর। ৭৮ মিনিটে তো নিকোলার শট ফিরল ক্রসবারে ধাক্কা খেয়ে, বিশালের আঙুল ছুঁয়ে। মাঝমাঠে মাদি তালালের দুরন্ত পারফরম্যান্সও তাই বাঁচাতে পারল না, যুবভারতী থেকে শূন্যহাতেই ফিরতে হল চেন্নাইয়িনকে।
আয়ুষ ছেত্রি, তালাল ও নিকোলা স্তোইয়ানোভিচের মাঝমাঠের পায়েই ছিল নিয়ন্ত্রণ যেখানে চেন্নাইয়ের তিন আক্রমণভাগের ফুটবলার ইরফান ইয়াদওয়াদ, ব্রাইসন ফেরনানদেসের সঙ্গে ব্রাজিলীয় রামন দে আনদ্রাদে সৌসার দুর্দান্ত বোঝাপড়ায় মোহনবাগান রক্ষণ বারবারই পরাস্ত হচ্ছিল। অনিরুধ থাপাকে শুরুতে রাখেননি সুপার জায়েন্ট কোচ পানোস, পরিবর্তে মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক কাজের দায়িত্ব দিয়েছিলেন দীপক টাংরি ও সামির জেলিকোভিচকে, যাঁদের সামনে তিন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের ভূমিকায় ছিলেন মনবীর, দেইয়ান দ্রাজিচ ও লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে। সবাইকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন তালাল। বুদ্দিদীপ্ত পাস, শুটিং, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং ডিফেন্সচেরা পাসিংয়ে নিশ্চিতভাবেই নিজেকে চেনাচ্ছিলেন ফরাসি তালাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই পানোস পাল্টাতে শুরু করেন তাঁর মাঝমাঠ। ছাংতেকে তুলে আবদুল সামাদকে নামালেন, ৫৪ মিনিটে সামিরের জায়গায় থাপাকে এবং উইং থেকে আক্রমণে ওঠার জন্য বহুযুদ্ধের সৈনিক শুভাশিস বসুকেও। তাই দ্বিতীয়ার্ধে চেন্নাইয়িনের দাপট কমল। সামাদ–থাপার কিছু পাস এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটা পাসের গতিপথ আগেই বুঝতে পেরে আটকে দেওয়া ম্যাচের রাশ এনে দিয়েছিল সুপার জায়েন্টের পায়ে। মাঝেমাঝে অবশ্যই আক্রমণে গিয়েছিল চেন্নাই। কিন্তু ব্রাইসন–নিকোলাদের ক্রমাগত ব্যর্থতায় গোল অধরাই থেকে যায়। হ্যাঁ, মোট ২৫ বার বিপক্ষের গোল লক্ষ্য করে শট বা হেড ইত্যাদি করলেও একবারও জাল খুঁজে পাননি তাঁরা।
৮২ মিনিটে মাঠে এসেছিলেন লিস্টন কোলাসো। তিন মিনিটের মধ্যেই বাঁদিক থেকে তিনি মাপা ক্রস রাখলেন, আর তখনও পর্যন্ত চেন্নাইয়ের এমানুয়েল নিশ্ছিদ্র থাকলেও মনবীরকে আটকাতে পারলেন না। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই বলের উচ্চতা বুঝে পা বা মাথা দিয়ে গোলে বল পাঠানোর চেষ্টা না করে, বুকের টোকায় ঠেলে দেন গোলে। আর সেই গোলেই পরপর দ্বিতীয় ম্যাচে তিন পয়েন্ট এল মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের। পয়েন্ট তালিকায় ছয় থেকে পাঁচে উঠেও এল।
পানোসের সুবিধা, পরের দু’টি ম্যাচই ঘরের মাঠে যার প্রথমটি আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার, পাঞ্জাব এফসি–র বিরুদ্ধে। মাঝের এই চার দিনে তাঁর কাজ অবশ্য থেকে গেল একই — কী করে আরও গোল খুঁজে পাওয়া যায়!
এমবিএসজি: বিশাল কাইথ; মেহতাব সিং, রাহুল ভেকে (শুভাশিস বসু ৬৩), আলবের্তো রোদরিগেজ, টেকচ্যাম অভিষেক সিং; সামির জেলিকোভিচ (অনিরুধ থাপা ৫৪), দীপক টাংরি (অভিষেক সূর্যবংশী ৮২); মনবীর সিং, দেইয়ান দ্রাজিচ (লিস্টন কোলাসো ৮২), লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে (সাহাল আবদুল সামাদ ৪৫); লি এরউইন
রেফারি — শান্তন আগরওয়াল
