• Breaking News

    কাশীনাথ ভট্টাচার্য / এমি মার্তিনেজ হয়ে শেষ মুহূর্তে খেতাবি লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলকে রেখে দিলেন প্রভসুখন

    গোল আর লাল কার্ড এডমন্ডের * ডিমি-কামিংস জুটিতে গোলশোধ

     

    ম্যাচের শুরুতে গ্যালারিতে ঝুলল এই টিফো 

    ফুটবলে সবচেয়ে প্রচলিত অভিশাপ, বল বিপক্ষের বার বা পোস্টে প্রথমেই লাগলে সেই দলের পক্ষে গোল পাওয়া দ্বিগুণ কঠিন। ইস্টবেঙ্গলের হলও তাই!

    ১৪ মিনিটে অ্যান্টন সোইবার্গের বাঁপায়ের শট বিশাল কাইথের বাঁদিকের পোস্টে লেগে ফিরেছিল। তারপর বিপিন সিং কাগজের পাতায় শিরোনাম হতে চেয়ে সোইবার্গকে বল দিলেন না। গোল মিস করে সেই যে ছন্দহীন হলেন, ম্যাচে আর সহজাত খেলায় ফিরতে পারলেন না বিপিন। আর পরে মিগেল ফেরিরা ঠিক সময়ে সোইবার্গকে পাস দিলেও সামনে শুয়ে-পড়া বিশালের হাতে বল জমা দিয়ে গেলেন ডেনমার্কের স্ট্রাইকার। প্রসঙ্গ আবারও উঠে এল, ডেনমার্ক থেকে ভারতে ফুটবল খেলতে এলে এমনই হতে হয়, বোধহয়!

     ইস্টবেঙ্গলের গোলের পর

    সেই কারণেই যে ম্যাচ জিতলে আইএসএল খেতাবের কাছাকাছি চলে যাওয়া সম্ভব, সেই ম্যাচে সুযোগ পেয়েও ঠিক সময়ে গোল করতে না-পারায় শেষ পর্যন্ত ১-১ ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে দু’টি দলই থেকে গেল খেতাবি লড়াইয়ে, যে ফয়সালা হবে লিগের শেষ দিন। এমবিএসজি ঘরের মাঠে খেলবে এসসি দিল্লির বিরুদ্ধে, আর ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে, ওই একই দিন, একই সময়ে। যদি দুই দলই জেতে, ২২ বছর পর জাতীয় স্তরের লিগ ইস্টবেঙ্গলের। দু-দলই পয়েন্ট হারালেও ইস্টবেঙ্গলের খেতাব। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল পয়েন্ট হারালে আর মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট জিতলে, ট্রফি আবারও মোহনবাগানেরই!

    সের্খিও লোবেরার দল অবশ্য ট্রফিতে নাম লিখিয়ে ফেলতে পারত রবিবারই। কিন্তু ম্যাচ জুড়ে বেশিরভাগ সময় বল একবারে হাতে নিতে ব্যর্থ গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল শেষ মুহূর্তে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ হয়ে গেলেন! কাতারে বিশ্বকাপ আর্জেন্তিনাকে দিতে কোলো মুয়ানির পা থেকে ওভাবেই বাঁচিয়ে এমিলিয়ানো টাইব্রেকারে নিয়ে গিয়েছিলেন ম্যাচ। রবিবার যুবভারতীতে প্রভসুখনের সেভ-ও তেমনই। তারপর মিনিট খানেকও খেলা হয়নি। জেমি ম্যাকলারেনের শট পা দিয়েই ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন।

    ৯০ মিনিটের ম্যাচ বেশ উপভোগ্য, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে। গোলর সন্ধানে দুই কোচই উৎসাহ দিয়েছিলেন খুলে খেলায়! অর্থাৎ, আক্রমণাত্মক মানসিকতায় প্রাধান্য ছিল যে-কারণে গোলের সুযোগ তৈরি হচ্ছিল বারবার। শুরু থেকেই আক্রমণে গিয়েছিল সবুজ-মেরুন। বল পজেশন রেখে খেলতে পছন্দ করেন লোবেরা। ম্যাচ শেষেও তাঁর দলের পায়েই বল ছিল ৬৭ শতাংশ সময়ে। ইস্টবেঙ্গল খেলায় ফিরতে চেয়েছিল প্রতি আক্রমণে। তবে লালহলুদ ফুটবলারদের পাসিংয়ে এত ভুল দৃষ্টিকটু। কাছের সতীর্থকেও পাস দিতে গিয়ে যেভাবে ভুল করছিলেন, আইএসএল-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে-থাকা ফুটবলারদের কাছে আশাতীত। দ্বিতীয়ার্ধে সেই মিসপাস অনেক কম। লোবেরা আবার দ্বিতীয়ার্ধে সর্বাত্মক আক্রমণে যেতে চেয়ে ডিফেন্ডারদের তুলে আক্রমণভাগের ফুটবলারদের নামালেন। ডিমি-কামিংস-ম্যাকলারেন-রোবিনিও - শেষে তো চারজনই মাঠে। আরও যা উল্লেখযোগ্য, দুটি গোলই পরিবর্তদের পায়ে।

    গোলখরা কেটেছিল ৮৫ মিনিটে। মিগেলের পাস ধরে ডানদিকের প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে এসে এডমন্ড লালরিনডিকা এগিয়ে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে, বিশালের ডানদিকের পোস্টে বল রেখে। গোল করে এডমন্ড জার্সি খুলে কর্নার-পোস্ট তুলে তার মাথায় জার্সি রেখে খালিগায়ে আলোকচিত্রীদের সামনে দুর্দান্ত ছবি দিলেন, ঠিক। কিন্তু, উৎসবটা বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে গেল! কারণ, পাঁচ মিনিটেই, ম্যাচের ৯০ মিনিটে ডিমি পেট্রাটোসের কর্নারে দুর্দান্ত ব্যাক হেডে সমতা ফিরিয়ে ছিলেন জেসন কামিংস, স্টপার আলবের্তো রোদরিগেজের জায়গায় যিনি মাঠে এসেছিলেন ৮০ মিনিটে। মোহনবাগানের সেই পুরনো জুটি খেতাবি লড়াই টিকিয়ে রাখল। আর এডমন্ড, সেই হতাশা ঢাকতে না পেরে সংযুক্ত সাত মিনিটের ছয় মিনিটে তাঁর বিরুদ্ধে ফাউল দেওয়ায় বলে শট মেরে দূরে পাঠানোর কারণে দ্বিতীয়বার হলুদ কার্ড দেখে মাঠের বাইরে!

    সমতা ফেরানোর পর কামিংস। ছবি - আইএসএল

    খলনায়ক বলা যাবে না এডমন্ডকে, পিভি বিষ্ণুর পরিবর্ত হিসাবে মাঠে এসেছিলেন যিনি ৬৩ মিনিটে।। কিন্তু, সে জন্যও প্রভসুখনের কাছে কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। ম্যাকলারেনের পা থেকে ওই বলটা না বাঁচালে হেরে গিয়ে রবিবারই খেতাবি লড়াই থেকে ছিটকে যেত ইস্টবেঙ্গল। আইএসএল-এ একাদশ বড় ম্যাচেও জয় পেল না ইস্টবেঙ্গল, দ্বিতীয় ড্র। ম্যাচের শুরুতে মোহনবাগান গ্যালারি থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া সেই টিফোর মতো যেখানে সদ্যপ্রয়াত টুটু বসুর সঙ্গে ছবি ছিল পল্টু দাসের, আর লেখা ছিল ইংরেজিতে – এ সেঞ্চুরি অফ রাইভ্যালরি বাউন্ড বাই রেসপেক্ট।

    উৎসব জরুরি, কাজ শেষে। ফুটবলে তো বটেই, যে কোনও খেলাতেই যা সুপ্রযুক্ত, শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই শেষ হয় না, কখনও।

    সুতরাং, আইএসএল এখন ২১ মে শেষবাঁশির অপেক্ষায়!


    এমবিএসজি – বিশাল কাইথ, শুভাশিস বসু, আলবের্তো রোদরিগেজ (জেসন কামিংস ৮০), টমাস অলড্রেড (রোবিনিও ৭৬), টেকচাম অভিষেক সিং, অনিরুধ থাপা, সাহাল আবদুল সামাদ (ডিমিট্রিওস পেট্রাটোস ৬৮), আপুইয়া (দীপক টাংরি ৮০), লিস্টন কোলাসো, জেমি ম্যাকলারেন, মনবীর সিং (মেহতাব সিং ৭৬)।

    ইস্টবেঙ্গল –  প্রভসুখন সিং গিল, মহম্মদ রাকিপ, আনোয়ার আলি, কেভিন সিবিলে, জয় গুপ্তা, জিকসন সিং, মিগেল ফিগেরা, বাসিম রশিদ, বিপিন সিং, অ্যান্টন সোইবার্গ, (ইউসেফ এজেজারি ৬৩), পিভি বিষ্ণু (এডমুন্ড লালরিনডিকা ৬৩)

    রেফারি – আর বেঙ্কটেশ

    1 comment:

    1. আশা করেছিলাম ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটা জিতবে, কিন্তু নিজেদের দোষে পয়েন্ট হারালোl

      ReplyDelete