কাশীনাথ ভট্টাচার্য / তিন পেনাল্টি দিয়ে মহমেডানই সপ্তম স্বর্গে পৌঁছে দিল ইস্টবেঙ্গলকে!
![]() |
| জোড়া গোল আনোয়ারের। ছবি - এআইএফএফ |
ইস্টবেঙ্গল – ৭ (আনোয়ার ৬, ৭৯, এজেজারি পে. ১৪, পে. ৫৫, ক্রেসপো পে. ৩৮, বিষ্ণু ৭৫, নন্দকুমার ৯০+৫)
মহমেডান স্পোর্টিং - ০
এফএসডিএল চলে যাওয়া আর এআইএফএফ-এর হাতে পরিচালনভার আসার পর আইএসএল-এ সবচেয়ে বড় পরিবর্তন – ম্যাচের শুরুতে আর জাতীয় সঙ্গীত বাজছে না।
ক্লাব দলের কোনও
প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত অস্বস্তিকর এই প্রথা বন্ধ করার জন্য সাধুবাদ প্রাপ্য অবশ্যই
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের। প্রতিটি দলে অগণিত বিদেশি ফুটবলার থাকার পরও কোন
যুক্তিতে জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হত ম্যাচের শুরুতে, এফএসডিএল কখনও জানায়নি। জানানোর
মতো কোনও যুক্তি না-থাকায়। জাতীয়তাবাদের নব-প্রোপাগান্ডার যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে
যা করা হত রিলায়েন্স-এর ব্যবস্থাপনায়!
আরও পরিবর্তন, এবার
সিঙ্গল লিগ এবং ইস্টবেঙ্গলের ষষ্ঠ ম্যাচে তৃতীয় জয় যা আবার সর্বোচ্চ ব্যবধানে! ছয়
ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে উঠেও এল চতুর্থ স্থানে, সুনীল ছেত্রির বেঙ্গালুরু এফসি-কে
পঞ্চমে ঠেলে দিয়ে।
কলকাতা সুপার ডিভিশন
লিগে দু’বার ছ’গোলের ব্যবধানে মহমেডানকে হারিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল, জানালেন পরিসংখ্যান
নিয়ে কাজ করেন যিনি, প্রশান্ত গুপ্ত। ১৯৯৮ সালের ৬ অক্টোবর ৭-১ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল,
গোল দিয়েছিলেন বাসুদেব মণ্ডল (২) এবং মুসা, রেনেডি সিং, বাইচু্ং ভুটিয়া, ওপোকো এবং
বিজেন সিং। আর, ২০১২ সালে কলকাতা লিগেই ৬-০ জিতেছিল যেখানো চার গোল ছিল টোলগে
ওজবের, বাকি দুটি লেন এবং পেন-এর।
ইস্টবেঙ্গল এবার
পেরিয়ে গেল সেই দুই নজিরই, ৭-০ জিতে। শেষ এবং সপ্তম গোল নন্দকুমারের, বাঁপায়ে
দ্বিতীয় পোস্টে রাখলেন। আর ইস্টবেঙ্গল ছুঁয়ে ফেলল আইএসএল-এ সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের
রেকর্ড যা ছিল ঘরের মাঠে এফসি গোয়ার পক্ষে, মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে।
আর সেই কাজে দুর্দান্ত
সাহায্য অবনমনের দিকে জোর কদমে এগিয়ে যাওয়া মহমেডান-ডিফেন্সেরও! ৩৬ মিনিটে জোসেফ লালমুয়ানা লাল কার্ড দেখে দশজন করে
দিলেন দলকে। গোলরক্ষক পদম ছেত্রি প্রথম গোল বগলের তলা দিয়ে আনোয়ার আলিকে ইদের
উপহার দিলেন, চতুর্থ গোলের সময় পেনাল্টি বক্সে মিগেল ফেরিরার সামনে হাত ছড়িয়ে শুয়ে
পড়ে তৃতীয় পেনাল্টিটা দিয়ে দলকে দিলেন আরও পিছিয়ে।
গ্যালারিতে মহমেডান
সমর্থকরা আওয়াজ তুলেছিলেন ‘গলি গলিমে শোর হ্যায়, রেফারি চোর হ্যায়’। কিন্তু, এই
অভিযোগেও যৌক্তিকতা এতই কম, চূড়ান্ত হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই বলার থাকে
না। বক্সে পেছন থেকে আগুয়ান ফরোয়ার্ডের জার্সি টানলে পেনাল্টি এবং হলুদ কার্ড
না-দেখিয়ে কী করেই বা থাকতে পারেন রেফারি, সাধারণ অবস্থায়!
মোহনবাগান সুপার
জায়েন্টের কাছেও পাঁচ গোল খেয়েছিল মহমেডান (১-৫), কিন্তু খেলা এতটা একপেশে হয়নি।
ইস্টবেঙ্গল তো পয়েন্টে পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও গোলের সংখ্যায় পেরিয়ে গেল
এমবিএসজি-কে, ইউসেফ এজেজারিও সাত গোলে ছুঁয়ে ফেললেন জেমি ম্যাকলারেনকে।
বিদেশিহীন মহমেডানের
বিরুদ্ধে এই জয়ের পরও অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে উদ্বাহু হওয়ার বিশেষ কারণ থাকছে না।
আত্মবিশ্বাস বাড়বে অবশ্যই। কিন্তু, বহু সহজ গোল মাঠে ফেলে আসাটা তুলনায় অন্যান্য
বড় দলের বিরুদ্ধে কি আবারও ভোগাবে না অস্কার ব্রুজোনের দলকে?
আপাতত আন্তর্জাতিক ম্যাচের কারণে বিরতি। পরের ম্যাচ ১১ এপ্রিল, চেন্নাইয়িন এফসি-র বিরুদ্ধে, অ্যাওয়ে। আসল পরীক্ষা শুরু লালহলুদের!

No comments