সিএসজেসি–আমার ট্রি খেলার জাদুঘর মন্দারমণিতে
রাইট স্পোর্টস ওয়েব ডেস্ক
কলকাতার ক্রীড়া সাংবাদিকদের উদ্যোগে অভিনব ‘খেলার জাদুঘর’ তৈরি হল মন্দারমণিতে। ‘আমার ট্রি’ গ্রুপের সহযোগিতায়, তাদের লাক্সারি রিসর্ট–এ। জাদুঘরের উদ্বোধনে হাজির ছিলেন জ্যোতির্ময়ী সিকদার, শান্তি মল্লিক ও সৌভিক চক্রবর্তী।
সিএসজেসি অর্থাৎ কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক তাঁবুর তরফে সভাপতি সুভেন রাহা জানালেন, ‘পরিকল্পনা হয়েছিল বছর দেড়েক আগে। গতবছর দীপা মালিক এসে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে গিয়েছিলেন। প্রস্তুতিতে সময় লেগেছে। মনে হয়েছিল, এমন উদ্যোগে সামিল হওয়াই যায়। তাই ‘আমার ট্রি’ গ্রুপের কর্ণঘার প্রবীর রায়চৌধুরির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। এখন সেই স্বপ্ন বাস্তব। সিএসজেসি–আমার ট্রি স্পোর্টস মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি এখন দর্শকদের অপেক্ষায়।’
১৯ মে, সোমবার বিকেলে ফিতে কেটে দ্বার উদ্ঘাটন করলেন জ্যোতির্ময়ী, শান্তি এবং সৌভিক। জাদুঘরের দরজা খুলতে দেখা গেল ভেতরের চার দেওয়ালে ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদদের সই করা জার্সি এবং ঘরের মাঝের শোকেস–এ তাঁদের ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম। রয়েছে ১৯৬২ সালে জাকার্তা এশিয়ান গেমসে ফুটবলে সোনাজয়ী চুনী গোস্বামীর ব্লেজার, ২০২২ বিশ্বজয়ী আর্জেন্তিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সই–করা টিশার্ট, মাউন্ট এভারেস্টের শিখরে পৌঁছনো প্রথম ভারতীয় মহিলা বাচেন্দ্রি পালের শার্ট, জাকার্তায় ১৯৯৮ এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী জ্যোতির্ময়ীর জার্সি, অলিম্পিয়ান দীপা কর্মকারের জার্সি ও কিংবদন্তি প্যারা–অ্যাথলিট দীপা মালিকের টুপি, অলিম্পিকে সোনাজয়ী গুরবক্স সিংয়ের হকিস্টিক, জার্সি এবং বিশেষ স্মারক, সুনীল গাভাসকারের সই–করা বিশেষ টুপি, মহেন্দ্র সিং ধোনি ও বীরেন্দর শেহবাগের জার্সি, ঋদ্ধিমান সাহার ব্যাটিং গ্লাভস, ল্যান্স ক্লুজনারের সই–সহ জার্সি, আন্দ্রে রাসেলের হেলমেট, আইপিএলজয়ী কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের সদস্যদের সবার সই করা জার্সি এবং ২০০৩ সালে আশিয়ানজয়ী ইস্টবেঙ্গল–কোচ সুভাষ ভৌমিকেরসেই প্রতিযোগিতার জার্সিও। বিশেষ আকর্ষণ দাবি করতে পারে ১৯৪২ সালে প্রথমবার কলকাতা লিগজয়ী ইস্টবেঙ্গলকে দেওয়া বিশেষ স্মারক। সঙ্গে, বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফুটবলার পেলের সই করা ছবি এবং দুই ভারতীয় ফুটবলার বিকাশ পাঁজি ও দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের জার্সিও। যত্নে সুসজ্জিত প্রতিটি স্মারক, ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে যা অবশ্য দ্রষ্টব্য।
সপ্তাহের প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে চারটে পর্যন্ত এই জাদুঘর খোলা থাকছে সাধারণ দর্শকের জন্য। টিকিটকাটতে হবে না কাউকেই, তবে, যেহেতু মন্দারমণিতে আমার ট্রি গ্রুপের লাক্সারি রিসর্টের মধ্যে এই জাদুঘর, বিশেষ অনুমতি নিয়ে আসতে হবে দর্শকদের।
কিন্তু কলকাতা ছেড়ে ১৬৫ কিলোমিটার দূরের এই মন্দারমণিতে কেন? সিএসজেসি সভাপতির প্রতিপ্রশ্ন, ‘কেন নয়? কেন সবই রাজধানী শহরে হবে, জেলায় কেন নয়? মনে হয়েছিল, জেলার মানুষেরও অধিকার থাকা উচিত।’ তাঁর এই যুক্তির সমর্থন পাওয়া গেল জ্যোতির্ময়ীর গলাতেও। ‘নদিয়া জেলার দেবগ্রাম থেকে উঠে এসেছিলাম। জানি জেলার মানুষ কতটা আগ্রহী খেলা নিয়ে।’
আমার ট্রি গ্রুপের তরফে প্রবীরের কথায়, ‘হয়ত অল্প কিছু সামগ্রী নিয়েই শুরু হল এই জাদুঘরের পথ–চলা। তবে, যত দিন যাবে, আরও বড় হবেই এই জাদুঘর। মানুষ উৎসাহী হয়েই দেখতে আসবেন, নিশ্চিত।’
ভারতের প্রায় সব বড় রাজ্যেই ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠন রয়েছে। তবে, কলকাতার ক্রীড়া সাংবাদিকরাই প্রথম, স্বপ্ন দেখে এবং উদ্যোগ নিয়ে যাঁরা মেদিনীপুর জেলা এবং বাংলাকে উপহার দিলেন খেলার জাদুঘর।



No comments