ঘরের মাঠে আবার হেরেই শুরু এটিকের । কাশীনাথ ভট্টাচার্য
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
এটিকে – ০ কেরালা
ব্লাস্টার্স – ২
(পোপ্লাতনিক
৭৬, স্তোইয়ানোভিচ ৮৬)
কলকাতা, ২৯ সেপ্টেম্বর:
চতুর্থ আইএসএল-এ গতবার ঘরের মাঠে বড়
হার দিয়েই শুরু করেছিল এটিকে। ১-৪ হেরেছিল পুনে সিটির কাছে, আরও এক ইংরেজ কোচ টেডি
শেরিংহ্যামের প্রশিক্ষণে। এবারও ইংরেজ কোচ এবং এবারও হার দিয়েই শুরু, মাঠে সৌরভ
গাঙ্গুলির উপস্থিতিতেই। শচীন তেন্ডুলকার এবার ছেড়ে দিয়েছেন তাঁর ২০ শতাংশ শেয়ার,
কেরালা ব্লাস্টার্স তাঁর হৃদয়ে থাকবে জানিয়ে। তাই কলকাতায় পঞ্চম আইএসএল-এর
উদ্বোধনী ম্যাচে সৌরভ-শচীনকে পাশাপাশি দেখা গেল না। কিন্তু স্পেনীয় কোচদের ছেড়ে
দিয়ে ইংরেজ হওয়ার চেষ্টায় কলকাতা এখনও নিজেদের গুছিয়ে নিতে ব্যর্থ। যে কারণে ম্যাচ শেষেও বহুক্ষণ ডাগআউটে বসে থাকতে দেখা গেল স্টিভ কোপেলকে, একা একাই।
উদ্বোধনী ম্যাচে দুই ইংরেজ কোচের কোপেল ছিলেন উইঙ্গার। কেরালা ব্লাস্টার্সের কোচ ডেভিড জেমস ছিলেন
গোলরক্ষক। উইঙ্গার হিসাবে কোপেলের খ্যাতি ছিল দ্রুতবেগে দৌড়নোর। কিন্তু তাঁর দল
দৌড়ল কম। গোলরক্ষক-কোচের দল আক্রমণে এল বেশি, গোলের সুযোগ তৈরি করল বেশি। শেষ
পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিয়েই ফিরল বিবেকান্ন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে, আগে যা কখনও
হয়নি।
আগে দশবারের দেখায় মাত্র একবারই
জিতেছিল কেরল। দুবার হেরেছিল এটিকে-র কাছে, ফাইনালে। কলকাতার বিরুদ্ধে কেরলের
দ্বিতীয় জয় এল মাতেই পোপ্লাতনিক এবং স্লাভিসা স্তোইয়ানোভিচের গোলে। পোপ্লাতনিকের
পড়ে-পাওয়া গোল, ৭৬ মিনিটে। শট নিয়েছিলেন স্তোইয়ানোভিচ। এটিকের ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার
জেরসন ভিয়েইরা ছিলেন সামনে। তাঁর বাড়ানো পায়ে লেগে বল উঠে পিছনে যায়। গোলরক্ষক
অরিন্দম ভট্টাচার্যের কাছে পৌঁছনোর আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন স্লোভেনীয় ফরোয়ার্ড
পোপ্লাতনিক। দেখেশুনে হেড করে রেখে যান জালে।
![]() |
| স্তোইয়ানোভিচের এই শট থেকেই দ্বিতীয় গোল। ছবি : আইএসএল |
সার্বীয় স্তোইয়ানোভিচের গোল ৮৬
মিনিটে। পেছন থেকে লং বল, এটিকে বক্সের বাইরে রিসিভ করেন, গায়ের ওপর জেরসনকে নিয়েই।
শেষে ছোট টার্ন, ঘুরে ডানপায়ের জোরালো শটে অরিন্দমকে পরাস্ত করেন সার্বীয় ফুটবলার।
৩৭ হাজার ২৫৩ জনের যুবভারতী তখন হতাশায় চুপ!
প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ তৈরি হয়েছিল
বারকয়েক। ম্যাচের সেরা পোপ্লাতনিক স্ট্রাইকার হিসাবে খেললেও কর্নার নেওয়ায়
বিশেষজ্ঞ। ১২ মিনিটে তাঁর কর্নারেই হেড দিয়েছিলেন নেমানিয়া পেসিচ যা লালমাঙ্গিহসাঙ্গা
রালতে হেড করে বাইরে পাঠিয়েছিলেন। আবদুল সামাদের ডানপায়ের জোরালো শট অরিন্দম
ঝাঁপিয়ে বাঁচিয়েছিলেন। কলকাতাও গোলের সুযোগ পেয়েছিল। বিশেষ করে জয়েশ রানে যে সুযোগ
মিস করেছিলেন, সচরাচর হয় না। মাইমৌনির কর্নার থেকে দূরের পোস্টে একেবারে ফাঁকায়
মাথায় পেয়েছিলেন জয়েশ। সামনে ফাঁকা গোল থাকা সত্ত্বেও জয়েশের হেড বাইরে গিয়েছিল।
তা ছাড়াও, মানুয়েল লানজারোতের বাঁক নেওয়া কর্নার কোনও রকমে ধীরজা সিংয়ের হাত ছুঁয়ে
বারে লেগে ফিরে এসেছিল। কিন্তু, আক্রমণাত্মক বেশি ছিল কেরলই।
কোপেলের দর্শন রক্ষণ আঁটোসাটো রেখে
আক্রমণে যাওয়া। যদিও কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, ফুটবলারদের
দক্ষতার ওপরই নির্ভর করে দলের খেলার ধরন। কালু উচে-কে শুরু থেকে পাননি তিনি,
নাইজেরীয় ফুটবলার আহত থাকায়। কিন্তু তিনি যাঁদের নিয়েছেন, কিংবা যাঁদের পেয়েছেন
বিদেশি হিসাবে, দুজন স্টপার – জন জনসন এবং জেরসন ভিয়েইরা। ব্রাজিলীয় ভিয়েইরা দুটি
গোলের সময়ই বলের সবচেয়ে কাছে-থাকা এটিকে ডিফেন্ডার। অধিনায়ক লানজারোতে স্পেনীয় এবং
দক্ষতার পরিচয় রেখেছিলেন ম্যাচে। গোলখরা কাটানোর জন্য এবেরতোন সানতোসকে এনেছিলেন,
যাঁর একটি দুর্দান্ত শট বারের ওপর দিয়ে যায়। বলবন্ত সিং একেবারেই মানিয়ে নিতে
পারেননি। পেছন থেকে তেমন বলও আসেনি, হয়ত সেটাও কারণ। কিন্তু কোপেলের দল আক্রমণে
নিষ্প্রভই থাকল, অন্তত প্রথম ৯০ মিনিটে।
অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপে ভারতের হয়ে
গতবছর তিনকাঠির তলায় ছিলেন ধীরজ সিং। তাঁকে আইএসএল-এ প্রথম ম্যাচেই সুযোগ দিলেন
ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপে খেলা গোলরক্ষক জেমস। আস্থার মর্যাদা দিয়েছেন ধীরজ,
প্রথম ম্যাচেই। ভারতীয় ফুটবলের জন্য যা নিঃসন্দেহে সুখবর।

No comments