চেন্নাইকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ দিল অযথা রক্ষণাত্মক কলকাতা
চেন্নাইয়িন এফসি ১ আতলেতিকো দে কলকাতা ১
(সুচ্চি ৭৭) (পোস্তিগা ৩৯)
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_2587" align="alignleft" width="300"]
জিতলে পয়েন্ট তালিকায় দিল্লি ডায়নামোসকে ধরে ফেলার সুযোগ ছিল। এক পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এলেও, এই ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য পরে পস্তাতে হতেই পারে আতলেতিকো দে কলকাতা-কে।
তৃতীয় হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের গ্রুপ পর্যায় যত শেষের দিকে এগোচ্ছে, তিন পয়েন্টের লক্ষ্যে আরও বেশি সাহসী হচ্ছে দলগুলো। কিন্তু, দুবারের দুই চ্যাম্পিয়নদের তেমন হতে দেখা গেল না। বিশেষ করে কলকাতাকে। কোচ দ্বিতীয়ার্ধে জোর দিয়েছিলেন রক্ষণে। এক গোলের ব্যবধান ধরে রাখতে। বাইরের মাঠে এগিয়ে গেলে রক্ষণে জোর দেওয়ার রীতি আছে ফুটবলে। তবে, যেভাবে কলকাতা গুটিয়ে গিয়েছিল, চেন্নাই তা বুঝতে পেরে আক্রমণে জোর বাড়ায়। তুলেও নেয় প্রয়োজনীয় এক পয়েন্ট। মাতেরাজ্জি খানিকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন ২২ মিনিটেই আহত জেজে-কে তুলে নিতে বাধ্য হওয়ায়। কিন্তু ডুডু-কে আবার মাঠে নামিয়ে তিন ফরোয়ার্ডে চলে যান। ড্যানিয়েলকে এনেছিলেন বাঁদিকের প্রান্তে যেখানে এসে বারবার বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন।
তিন মিনিটে হাভি লারার কর্নার থেকে বল পেয়ে গিয়েছিলেন রালতে। বক্সে তুলে দিয়েছিলেন বল আর পৌঁছেও গিয়েছিলেন পোস্তিগা। তাঁর হেড পোস্টে লেগে বাইরে যায়। গোল হলে এবারের আইএসএল-এ অন্যতম দ্রুত গোল হতেই পারত। দশ মিনিটে সুচ্চির পাস থেকে আক্রমণের সূচনা। জেজে বল পেয়ে এগিয়ে দিয়েছিলেন মুলডার-কে। তাঁর শট জোরালো হলেও সোজা দেবজিতের দিকেই। কলকাতার গোলরক্ষকের বাঁচাতে কোনও অসুবিধা হয়নি। ম্যাচের শুরুতে দুই দলের এই দুটি আক্রমণ দেখে মনে হয়েছিল, দুই চ্যাম্পিয়নের খেলা উত্তেজক হবে। শেষ পর্যন্ত যদিও ততটা হয়নি।
৩৯ মিনিটে কলকাতাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মার্কি পোস্তিগা। ক্রস রেখেছিলেন প্রীতম কোটাল। তবে তার আগে প্রীতমের পায়ে বল পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব লারার। প্রীতমের ক্রসে পোস্তিগার হেড পরাস্ত করেছিল করণজিৎকে। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে গোল করার অভ্যাস ধরে রেখেছিলেন পোস্তিগা। কোচ মোলিনা এই ম্যাচে হিউমকে নামাননি। গোল করার যাবতীয় দায়িত্ব তাই ছিল পোস্তিগারই, যা পর্তুগিজ ফুটবলার পালন করে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি উঠে গিয়েছিলেন। কোচের ভাবনা ছিল, রক্ষণে আরও জোর বাড়াতে ন্যাটো-কে মাঠে আনা।
অথচ, ন্যাটো মাঠে আসার পরই সেই গোল শোধ করেন চেন্নাইয়ের সুচ্চি। স্টিফেন পিয়ারসনের ভুলে। বল বাইরে যাচ্ছিল মাঠের। পিয়ারসন শেষ পর্যন্ত না দেখেই বলের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যান! সহজেই বল পেয়ে যান এলি সাবিয়া, যিনি তুলে দিয়েছিলেন বক্সে। সুচ্চি হেডে নিজের তৃতীয় গোল করলেন এবারের আইএসএল-এ। কলকাতার রক্ষণ অবশ্য দাবি করেছিল গোলের ঠিক আগে অর্নবের বিরুদ্ধে ফাউলের। রেফারি কান দেননি। ৯০ মিনিটে সুচ্চি আবারও সুযোগ পেয়েছিলেন। শট গোলে রাখতে পারলে তিন পয়েন্ট পেতেই পারত চেন্নাই। কিংবা, সমতা ফেরানোর আগে একবার সাইডনেটে বল না-মেরে তিনকাঠিতে রাখতে পারলেও। ম্যাচের নায়কের যে-সম্মান পেলেন, আরও যথাযথ হত তখন, নিশ্চিত।
১১ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল কলকাতা। আর, ১১ ম্যাচে ১৪ নিয়ে এখনও সেমিফাইনালে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখল চেন্নাইয়িন।
No comments