গোলমুখে চোপড়ার ব্যর্থতায় জিততে পারল না কেরল
কেরালা ব্লাস্টার্স ০ দিল্লি ডায়নামোস ০
আইএসএল মিডিয়া রিলিজ
[caption id="attachment_1921" align="alignleft" width="300"]
টানা দুটি ম্যাচে হারের পর অবশেষে পয়েন্ট পেল কেরালা ব্লাস্টার্স। ঘরের মাঠে পঞ্চান্ন হাজারের গ্যালারির সামনে। তিন পয়েন্টও পেতেই পারত যদি না ফরোয়ার্ডরা, বিশেষত মাইকেল চোপড়া, সুযোগ না হারাতেন। অন্যদিকে, হিরো ইন্ডিয়ান সুপার লিগের তৃতীয় মরসুমে দিল্লির দ্বিতীয় ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচেও অপরাজিত থাকলেন ইতালীয় জিয়ানলুকা জামব্রোতা।
ইংল্যান্ডে খেলেছিলেন মাইকেল। সেই কারণেই শচীন তেন্ডুলকারের দল তাঁকে ফিরিয়ে এনেছে, প্রথম মরসুমে ব্যর্থ হওয়ার পরও। কিন্তু ঘরের মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচে কেরালা ব্লাস্টার্স জিততে পারল না, অন্তত তিনটি সুযোগ মাইকেল চোপড়া নষ্ট করায়। শুরুতে ক্রসে পা লাগাতে পারেননি, দ্বিতীয়ার্ধে পারেননি হেড দিতে। দুবারই ফাঁকায় ছিলেন। আর একবার তো পেনাল্টি বক্সে বল নিয়ে এগোতে না-চেয়ে পেনাল্টি আদায় করতে গিয়ে হলুদ কার্ডও দেখলেন।
কিন্তু, এই তিনবারের চেয়েও সেরা সুযোগটা পেয়েছিলেন প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে। কেরল রক্ষণ থেকে লংবল এসেছিল। মাইকেল অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে এগিয়ে ছিলেন ঠিক সময়ে। বল পেয়েও গিয়েছিলেন পায়ে। সামনে শুধু স্পেনীয় গোলরক্ষক আন্তোনিও দোবলাস। তাঁর ডানদিক দিয়ে দূরের পোস্টে রাখতে চেয়েছিলেন মাইকেল। ডান হাত বাড়িয়ে সেই বল আটকে দেন দোবলাস। স্টিভ কোপেল নিশ্চয়ই গোল আশা করেছিলেন এমন সুযোগ থেকে। গোলের পরিবর্তে যা পেয়েছিলেন - তৃতীয় ম্যাচে প্রথম শট, তিনকাঠির ভেতর!
৫৩ মিনিটে উঠে আসতে হয়েছিল দিল্লির গোলরক্ষক দোবলাসকে। ফ্রি কিক থেকে বল ধরতে গিয়ে এই ম্যাচের সেরা ফুটবলার সন্দেশ ঝিঙ্গনের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন। মাঠে চিকিৎসার পরও অসুবিধা হচ্ছে দেখে ঝুঁকি নেওয়ার প্রশ্নই ছিল না। তবে চোট গুরুতর নয়। তাঁর পরিবর্ত সোরাম পোইরেইকে অবশ্য তেমন চাপে ফেলতে পারেনি কেরল, বাকি সময়ে। তিনটি ম্যাচ ধরেই তো কেরলের একমাত্র সমস্যা, গোলে বল রাখা!
মার্সেলিনিও জোড়া গোল করেছিলেন দিল্লির হয়ে প্রথম ম্যাচে। তাঁকে কড়া নজরে রাখলেন কেরলের ইংরেজ কোচ কোপেল, স্পেনীয় হোসুকে দায়িত্ব দিয়ে। একই সঙ্গে দিল্লির মাঝমাঠও তাঁকে প্রয়োজনীয় বলের জোগান দিতে না-পেরে কাজে লাগাতে পারল না। কিন্তু যতবার মার্সেলেনিও বল পায়ে পেয়েছিলেন, কেরল রক্ষণকে বিব্রত করেছিলেন। আবার, হোসুও যখন দেখেছিলেন মার্সেলিনিও বল পাচ্ছেন না বেশি, বারবার উঠছিলেন আক্রমণে। কিন্তু তাঁর সেই ক্রসগুলোরও সদ্ব্যবহার করতে পারেনি কেরল।
জামব্রোতার দিল্লি চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে ম্যাচে যেমন রক্ষণ ছেড়ে আক্রমণে যায়নি, দ্বিতীয় ম্যাচেও খেলল একই কৌশলে। রক্ষণে লোক বাড়াচ্ছিল অনায়াসে। আক্রমণে যাওয়ার জন্য নির্ভর করছিল রক্ষণ থেকে আসা লং বলের ওপর, প্রতি আক্রমণে তীব্র গতিতে উঠে এসে। কেরলের মতোই দিল্লিও অবশ্য সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি সন্দীপ নন্দী, কেরলের গোলরক্ষককে।
নবম ম্যাচে প্রথমবার কোনও গোল হল না, এবারের আইএসএল-এ। পাওয়া গেল প্রচুর ফাউল, ১৯টি। তিন ম্যাচে ১ পয়েন্ট কেরলের এখন। আর, ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ঘরের মাঠে ফিরছেন জামব্রোতা, আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে!
No comments