হাফডজনে বরদলুই শুরু ইস্টবেঙ্গলের, গোল করে-করিয়ে ছন্দে দং
ইস্টবেঙ্গল ৬ বঙ্গবি ০
আদিলেজা ৬, দং ৩৪, ৬৭ (পেনাল্টি), প্রহ্লাদ ৪৭, জিতেন ৬৫, নিখিল ৮৯
শিবম দাস
জওহরলাল নেহরু 'ক্রিকেট' স্টেডিয়ামটা রাতারাতি বদলে গেছে ফুটবলের সবুজ গালিচায়। মাঠের একধারে তৈরি হয়েছে বিশাল মঞ্চ। ম্যাচের আগে সেখানে সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠান। টিকিটের মূল্য আকাশছোঁয়া। তবু গ্যালারিতে অতি উৎসাহী কিছু ফুটবলপ্রেমীর ভিড়। বহুদিন পর গুয়াহাটিতে উপস্থিত সেই গুটিকয়েক লালহলুদ সমর্থকই দেখলেন চেনা ইস্টবেঙ্গলকে। আর, দো দং-এর দাপুটে প্রত্যাবর্তন।
প্রতিপক্ষ সম্পর্কে কোনও ধারণা না থাকায় ঝুঁকি না নিয়ে সেরা দল সাজিয়েছিলেন রঞ্জন চৌধুরি। গোলে অভিজ্ঞ ব্যারেটো। মিনার্ভা স্পোর্টিং থেকে আসা অশরপ্রীতের পাশে ক্যালাম অ্যাঙ্গাস, সঙ্গে সামাদ ও দীপক সিং রক্ষণে। মাঝমাঠে দং, নিখিল পূজারী ও প্রহ্লাদের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন আকাদেমিতে মিজোরাম থেকে আসা কিমাকে। ওপরে জিতেন মুর্মুর সঙ্গী আদিলেজা। হতাশ করেননি কেউই।
শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলেন দং-প্রহ্লাদরা। লালহলুদের আক্রমণের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের বঙ্গবি অগ্রগামী। ম্যাচের ৬ মিনিটে দং-এর ফ্রি-কিক বঙ্গবি-র গোলকিপার বাঁচালে ফিরতি বলে ১-০ করেন আদিলেজা। ম্যাচের ২৫ মিনিটে দং-এর আরও একটি বাঁক-খাওয়ানো কর্নার প্রতিহত হয় বঙ্গবি-র গোলরক্ষকের সৌজন্যে। বহুদিন পর কোরিয়ান দং স্বমহিমায়, খেললেন পুরো মাঠ দাপিয়ে। ফল, দলের দ্বিতীয় গোল। দু’জন ডিফেন্ডারকে মুন্সিয়ানায় ছিটকে দিয়ে ২-০ করেছিলেন গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গলের বর্ষসেরা ফুটবলার।
দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল আরও আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর। ৪৯ মিনিটে দং- এর অসাধারণ পাস থেকে ৩-০ এগিয়ে দেন জিতেন মুর্মু। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশের দল। ৬২ মিনিটে প্রহ্লাদ ৪-০ ও ৬৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ৫-০ করেন দং। ম্যাচের শেষ লগ্নে নিখিল পূজারীর চমৎকার দক্ষতায় আরও একটি গোল।
পরপর দু'ম্যাচে গোল পেয়ে আত্মবিশ্বাসী আদিলেজা জানালেন, ‘দল জেতায় খুব ভাল লাগছে। নিজের পারফরম্যান্সেও খুশি। পরের ম্যাচেও এভাবে গোল করে দলকে জেতাতে চাই।’ দলের গোলকিপার-কোচ অভিজিৎ মন্ডল সতর্ক, ‘দং নিজের খেলায় ফিরে এসেছে। তবে দলকে আরও অনেক জায়গায় উন্নতি করতে হবে।’
বাংলাদেশের দল গতকাল রাতে পৌঁছেছে গুয়াহাটিতে। এমনিতেই ক্লান্ত ছিল। কিন্তু তাঁর দায় ফুটবলারদের চেয়েও বেশি কর্তাদের। প্রতিযোগিতায় প্রথম ম্যাচ খেলতে নামার আগে ন্যূন্যতম এক দিনও বিশ্রামের সময় পাবে না দল, এমনও হয় নাকি!
No comments