গতবারের বিজয়ীদের উড়িয়ে সেমিফাইনালে লাজংয়ের সামনে ইস্টবেঙ্গল
ইস্টবেঙ্গল ৩ অসম এসইবি ০
দং ৬, প্রহ্লাদ ১১, জনি লাম্বা ৬৮
শিবম দাস
বরদলুই ট্রফিতে গ্রুপের শেষ ম্যাচেও সহজেই জিতল ইস্টবেঙ্গল। প্রথম দুটি ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। কার্যত নিয়মরক্ষার ম্যাচে গতবারের বিজয়ী অসম স্টেট ইলেকট্রিসিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গল কোচ প্রথম একাদশের বেশ কয়েকজনকে বিশ্রামও দিলেন, নকআউটের কথা ভেবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই লালহলুদের দাপটের সামনে দাঁড়াতে পারেনি চারবারের বরদলুই ট্রফি জয়ী অসমের দল। ৬ মিনিটেই জিতেনের পাস থেকে ১-০ করেন দং। এই ম্যাচেও ইস্টবেঙ্গল কোচ দংকে তাঁর পছন্দের জায়গা দুই স্ট্রাইকারের পিছনে খেলান। ফলে গোলের সুযোগ তৈরি হল অনেক বেশি। ১২ মিনিটে দং-এর পাস থেকে ২-০ করেন জিতেন মুর্মু । এরপর, ১৭ মিনিটে বিপক্ষ দলের ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে মাথা ফাটে লালহলুদ গোলকিপার ব্যারেটোর। তাঁকে তড়িঘড়িই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মাথায় ১৫টি সেলাই করা হয়। রাতে অবশ্য হোটেলে ফিরে এসেছেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক।
মাঠে অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় খেলা প্রায় দশ মিনিট বন্ধ ছিল তখন। দু’গোলে এগিয়ে-থাকা দল প্রথমার্ধের বাকি সময়টুকুও দাপটেই খেলেছিল, গোলের রাস্তা যদিও খোলেনি। দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গল আরও আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর। দং-এর দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৬৮ মিনিটে ৪০ গজের দুরন্ত ভলি থেকে ৩-০ করেন ইস্টবেঙ্গল আকাদেমির জনি লাম্বা।
ধারাবাহিক ভাবে গোল করে চলা আত্মবিশ্বাসী জিতেন মুর্মু ফোনে জানালেন, ‘দল জিতেছে, ভাল লাগছে। আজকের গোলটা সমর্থকদের উৎসর্গ করলাম।’ মঙ্গলবার অনুশীলনে ছুটি দিয়েছেন কোচ রঞ্জন চৌধুরি। গোটা দল গুয়াহাটিতে ঘুরতে বেরবে।
সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সামনে লাজং এফসি। আয়োজকরা ঠিক করেছিলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর দুটি সেমিফাইনাল ও ৩০ সেপ্টেম্বর ফাইনাল হবে। যেহেতু এবার আইএসএল-এর উদ্বোধন গুয়াহাটিতে ১ অক্টোবর, তার আগে বরদলুই যেভাবেই হোক শেষ করতেই হবে। তাই ফাইনাল ৩০ সেপ্টেম্বরের পর হওয়া সম্ভব নয়। আবার, ২৯ তারিখ যদি জেতে ইস্টবেঙ্গল, পরের দিনই ফাইনাল খেলতে হবে। কলকাতা লিগ থেকে টানা খেলছেন ফুটবলাররা। ইস্টবেঙ্গল কর্তারা তাই ফাইনালের আগে একটা দিন বিশ্রাম চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন ২৮ সেপ্টেম্বর, বুধবার সেমিফাইনাল খেলার। আয়োজকরা অবশ্য এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
No comments