চাপ থাকলেও আমি পারব, বলছেন বাংলার অতনু
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
একটু উত্তেজনা ছিল। ছিল চরম টেনশন। জীবনের প্রথম অলিম্পিক যে!
২৪ বছরের বাঙালি আর্চার পরে বলেছেন, ‘শুরুতে চাপা টেনশনে ছিলাম। কী হবে, ভাবছিলাম। তার পর ভাবলাম, অনেকেই তো প্রথম বার অলিম্পিকে নামছে। ভালো পারফর্মও করছে। আমি পারব না কেন? সব চাপ মাথা থেকে সরিয়ে নেমে পড়লাম।’
বক্তার নাম অতনু দাস। ছেলেদের ব্যক্তিগত রিকার্ভের শেষ ১৬-তে পা দিয়ে যিনি হইচই ফেলে দিয়েছেন।
বেঙ্গালুরুতে ট্রায়ালে মঙ্গল সিং চাম্পিয়াকে হারিয়ে রিওর টিকিট পেয়েছিলেন বাংলার অতনু। যা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও ছিল। কেউ কেউ বলেছিলেন, অতনুর মতো অনভিজ্ঞ আর্চারকে না পাঠিয়ে চাম্পিয়ার মতো ফর্মে থাকা এবং অভিজ্ঞ অ্যাথলিটকে পাঠানো উচিত। রিওতে আর্চারির প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পা দিয়ে সমালোচকদের জবাবও দিলেন অতনু।
বাঙালি আর্চার ব্যক্তিগত ইভেন্টের প্রথম দিনই বুঝিয়ে দিয়েছেন, অভিজ্ঞতা না থাকতে পারে, তাঁর আছে আত্মবিশ্বাস। অধিকাংশ শটই ১০-এ দশ মেরেছেন। অতনু বলেছেন, ‘আমি নিজের উপর প্রত্যাশার চাপ রাখিনি। শুধু চেষ্টা করেছিলাম, প্রতিটা শট থেকে যেন ১০ পয়েন্ট তুলতে পারি।’
প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে নেপালের জিৎবাহাদুর মুক্তানকে স্ট্রেট সেটে উড়িয়ে দেন। দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে কিউবার আদ্রিয়ান পুনেটিসের বিরুদ্ধে একটু চাপে পড়েন। প্রথম দুটো সেটে ৪-০ এগিয়ে এগিয়ে গেলেও পরের দুটো সেটা আবার ৪-৪ করে ফেলেন কিউবার আর্চার। পঞ্চম সেটে বাজিমাত করেন অতনু।
বারো বছর আগে চমকে দিয়েছিলেন আথেন্সে এমনই চমকে দিয়েছিলেন এক ভারতীয় আর্চার। সত্যদেব প্রসাদ শেষ ১৬-তে পা দিলেও তার বেশি আর এগোতে পারেননি।
অতনুর বিশ্বাস, তিনি পারবেন। শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ কোরিয়ান আর্চার লি সাংইয়ুনের মুখে নামবেন বাংলার ছেলে। তার আগে বলেছেন, ‘অন্য রকম চাপের আর একটা ম্যাচ। কিন্তু পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, আমি করে দেখবই।’ সঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সুরে জুড়েছেন, ‘এক-একটা শট ধরে এগোতে চাই। আমি জানি, আমি পারবই।’
No comments