১ বলে ২ রান, ধোনি পারলেন না জেতাতে!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ – ৬ উইকেটে ২৪৫
ভারত – ৪ উইকেটে ২৪৪
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ রানে জয়ী
ম্যাচের সেরা – এভিন লুইস ৪৯ বলে ১০০ (৫x৪, ৯x৬)
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
[caption id="attachment_1518" align="alignleft" width="300"]
শেষ ওভারে দরকার ছিল ৮ রান। উইকেটে মহেন্দ্র সিং ধোনি আছেন। আর কাউকে চাই নাকি? হাসতে হাসতে জিতবে ভারত, নিশ্চিত!
শেষ বলে ২ রান চাই। ‘স্ট্রাইক’ ধোনির। ২৪ বলে ৪৩ করে ব্যাট করছেন। বল হাতে ডোয়েন ব্র্যাভো তো কী? এক বলে দুই নেওয়া ধোনির কাছে কোনও ব্যাপার?
কৌশল করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। গতি থমকে দিল। ব্র্যাভো প্রচুর সময় নিলেন। বাউন্ডারি লাইন থেকে ডেকে ডেকে আনলেন ফিল্ডারদের, কথা বললেন অধিনায়কের সঙ্গে, ফিল্ডিং পাল্টালেন। শুরুতে ধোনি আর লোকেশ রাহুল খানিকক্ষণ কথা বলেছিলেন উইকেটে দাঁড়িয়ে। তারপর শুরু করেন ব্র্যাভো। পরীক্ষা নিচ্ছিলেন ধোনির স্লায়ুশক্তির!
শেষ পর্যন্ত তিনিই সফল! মানে, ডোয়েনকে ‘ব্র্যাভো ব্র্যাভো’ বললেন ক্যারিবিয়ানরা। কাজে এল তাঁর কৌশল। স্লোয়ার দিয়েছিলেন। ধোনি ভেবেছিলেন শর্ট থার্ডম্যানের মাথার ওপর দিয়ে তুলে দেবেন। তুলে দিলেনও, তবে মারলন স্যামুয়েলসের হাতে! সহজ ক্যাচ। এক রানের ব্যবধান থেকেই গেল। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে, ফ্লোরিডার সেন্ট্রাল ব্রোওয়ার্ড রিজিওনাল পার্কে ভারত আম্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করল ১ রানে হেরে।
শিখর ধাওয়ানকে না নিয়ে লোকেশ রাহুলকে প্রথম এগারয় রাখা নিয়ে সংশয় ছিল। তা হলে কি রাহুলও ওপেন করবেন রোহিত শর্মার সঙ্গে? কাজের সময় দেখা গেল, রাহুল আসছেন চারে। আইপিএল-এ যেখানে নেমে তিনি অধুনা ধুন্ধুমার করে চলেন। ভারতকে খেলায় ফেরালেন তিনিই। শতরান করলেন ৪৯ বলে, শেষ পর্যন্ত অপরাজিতও থেকে গেলেন ১১০ রানে। কিন্তু, তাঁর অমন দুর্দান্ত ইনিংসও মাঠে মারা গেল, দলের অধিনায়ক শেষ বলে অন্তত একরানও নিতে না-পারায়!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতে মুষড়ে পড়েছিল কি, ক্রিস গেইল খেলতে পারবেন না বলে? দুই ওপেনারের আচরণে অবশ্য মুষড়ে পড়ার বিন্দুমাত্র চিহ্ন ছিল না, ছিল মুষড়ে দেওয়ার, বিপক্ষকে! ৯.৩ ওভারে প্রথম উইকেট পড়ল জনসন চার্লসের। ৭৯ করে গেলেন তিনি, ৩৩ বলে (৬x৪, ৭x৬)। তাঁর কাছেই টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারতে হয়েছিল ধোনির ভারতকে। এবারও শুরুটা তাঁরই। দলের ১২৬-এর মধ্যে তাঁরই যে ছিল ৭৯!
মহম্মদ শামির ওই ধাক্কাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বাধ্য করবে খানিকটা গুটিয়ে যেতে, ভেবে নিয়ে পরের ওভারটা ধোনি করতে ডাকলেন তাঁর বেশ পছন্দের স্টুয়ার্ট বিনিকে। ব্যাট হাতে ২৬ বলে ৫১ রানে এভিন লুইস, নিজের দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি ম্যাচে। পরের সাত বল দেখল বলের ওড়াউড়ি, স্টেডিয়ামের বিভিন্ন প্রান্তে! প্রথম দুটি বল যথাক্রমে ডিপ মিড উইকেট আর বোলারের মাথার ওপর দিয়ে। বিনি হতচকিত, পরের বলটা ওয়াইড। লং অফ, কভার আর ডিপ ফাইন লেগের মাথার ওপর দিয়ে পরের তিনটি বল। পাঁচটি সরকারি বলে ৩০, ওয়াইডে এক, মোট ৩১ দিয়ে ফেলেছেন রজার বিনির ছেলে। শেষ বলে আবার ছয় হলে এক ওভারে কি ৩৭? বিনি এবার পারলেন, মানে ছয় দিলেন না আর! লং অনের মাথার ওপর দিয়ে তুলতে গিয়ে লুইস আকাশের দিকে তুলে দিয়েছিলেন। এক রান। ওভারে ৩২!
জনসন পারলে আমি পারব না কেন, ভাবনা থেকে লুইসের শতরান ৪৮ বলে (৫x৪, ৯x৬)। তারপরেই অবশ্য আউট। কিনউত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ততক্ষণে জয়ের গন্ধ পেয়ে গিয়েছে। ২০ ওভারে ২৪৫ তোলার পরও যদি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দল জিততে না-পারে, তাঁদের সমস্যা!
ভারত অবশ্য নৌকো ভিড়িয়েই ফেলেছিল পাড়ে, প্রায়। রোহিত দুর্দান্ত শুরু দিয়েছিলেন, রাহুল শেষ পর্যন্ত ছিলেন, ধোনিও নিজের মতো করেই ব্যাট করছিলেন টেনশনের লেশমাত্র ছিল না যেখানে। শুধু, ১ বলে ২ করতে হবে এই পরিস্থিতিতে ধোনি না-পারলে কী-ই বা করতে পারত ভারত, ১ রানে হারা ছাড়া!
No comments