ডেভিস কাপ: ডবলসে সহজেই জিতে ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্লে অফে লিয়েন্ডাররা
ডেভিস কাপে সিঙ্গলস ও ডবলস মিলিয়ে ৯০ ম্যাচ জিতলেন লিয়েন্ডার! ডবলসে জিতলেন ৪২ ম্যাচ, হেরেছেন মাত্র ১১টি। ছুঁয়ে ফেললেন ইতালীয় নিকোলা পিয়েত্রানজেলির ডেভিস কাপে সর্বোচ্চ ৪২ ম্যাচ জেতার রেকর্ড।সঙ্গে সিঙ্গলসের ৪৮ জয়। ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে সফল ডেভিস কাপার, নিঃসন্দেহে!
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
[caption id="attachment_778" align="alignleft" width="300"]
ডেভিস কাপের ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্লে অফে পৌঁছে গেল ভারত, প্রত্যাশামতোই। দক্ষিণ কোরিয়া কোনও প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারল না ডবলসেও। শুক্রবার রামকুমার রমানাথন ও সাকেথ মাইনেনি সিঙ্গলস দুটি জিতে যাওয়ায়, মানসিক সুবিধা নিয়েই খেলতে নেমেছিলেন লিয়েন্ডার পেজ ও রোহন বোপান্না। ৬-৩, ৬-৪, ৬-৪, সরাসরি জিতে ৩-০ এগিয়ে টাই জিতে নিল ভারত। রবিবারের বাকি দুটি ফিরতি সিঙ্গলস এখন নিয়মরক্ষার।
রিও অলিম্পিকের আগে আর কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে জুটি বেঁধে খেলবেন না লিয়েন্ডার ও বোপান্না। তাই চন্ডিগড় ক্লাবের ঘাসের কোর্টে এই ম্যাচ নিয়ে উৎসাহ ছিল ভারতীয় টেনিসপ্রেমীদের। বিশেষ করে, শেষবার ডেভিস কাপে এই জুটি যেহেতু একেবারেই ভাল খেলতে না-পেরে আত্মসমর্পণ করেছিল চেক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে। কিন্তু, দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে দুজনেই ছন্দে ছিলেন। বোপান্নার সার্ভিস ফেরানো যেমন কঠিন ছিল, লিয়েন্ডারও নেটে যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ্য।
ঘাসের কোর্টে সার্ভিস বিরাট ভূমিকা নেয়। ভারতের নন-প্লেয়িং ক্যাপ্টেন আনন্দ অমৃতরাজ জানতেন, ঘাসের কোর্টে খেললে অসুবিধায় ফেলা যাবে দক্ষিণ কোরীয়দের। তাই চন্ডিগড়কে বেছে নেন। সঙ্গে আরও ভেবেছিলেন চন্ডিগড়ের গরম ও আর্দ্রতায় খেলতে গিয়ে কোরীয়রা সমস্যায় পড়বেন। হয়েওছিল ঠিক তা-ই। প্রথম দিন দুটি সিঙ্গলসেই কোরীয়রা বাধ্য হয়েছিলেন ম্যাচ ছেড়ে দিতে, যদিও দুটি ম্যাচই তাঁরা ছেড়ে দিয়েছিলেন শেষ গেমে এসে। ‘হোম অ্যাডভান্টেজ’ পুরোপুরিই কাজে লাগিয়েছেন আনন্দ অমৃতরাজ।
ডবলসে কোরীয়দের হয়ে খেলেছিলেন হোং চুং ও সিওং চান হোং। কিন্তু তৃতীয় সেটের আগে একবারও লিয়েন্ডার-বোপান্না জুটির সার্ভিস ভেঙে এগিয়ে যেতে পারেননি। প্রথম দুটি সেট জিতে যাওয়ার পর ভারতীয় জুটির খেলায় হয়ত একটু আত্মতুষ্টি এসেছিল। কিন্তু সার্ভিস হারানোর পরই তাঁরা ফিরে আসেন এবং ম্যাচ ও টাই জিতে নেন, মাত্র এক ঘন্টা ৪১ মিনিটে। ওয়ার্ল্ড গ্রুপের প্লে অফে ভারত খেলবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে। তবে কোন দেশের বিরুদ্ধে, এখনও নিশ্চিত নয়।
এই ম্যাচ জেতার পরে ডেভিস কাপে সিঙ্গলস ও ডবলস মিলিয়ে মোট ৯০ ম্যাচ জিতে গেলেন লিয়েন্ডার! ডবলসে জিতলেন ৪২ ম্যাচ, হেরেছেন মাত্র ১১টি। ছুঁয়ে ফেললেন ইতালীয় নিকোলা পিয়েত্রানজেলির ডেভিস কাপে সর্বোচ্চ ৪২ ম্যাচ জেতার রেকর্ড।সঙ্গে সিঙ্গলসের ৪৮-২২ রেকর্ড ধরে, মোট ৯০ ম্যাচে জয়। ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে সফল ডেভিস কাপার, নিঃসন্দেহে!
No comments