কুটিনহোর হ্যাটট্রিকে তছনছ হাইতি । অভীক রায়
ব্রাজিল-৭ : হাইতি-১
(কুটিনহো ১৪’, ২৯’ ও ৯০’, অগাস্টো ৩৫’ ও ৮৬’, গ্যাব্রিয়েল ৫৯’, লুকাস ৬৭’) (মার্সেলিন ৭০’)
ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর ‘নতুন‘ ব্রাজিলকে নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁদের তৃপ্তি উপহার দিল দুঙ্গার টিম। কোপা সেন্টেনারিওতে হাইতি ৭-১ উড়িয়ে দিয়ে।
ঠিক এক মাস আগে, ৮ জুলাই ঘরের মাঠে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। দু’বছর আগে সেই বিপর্যয়ের রাত যেন এত দিনে ভুলতে পারল পেলে-জিকোর দেশের ফুটবল প্রেমী জনতা।
প্রথম সারির এক ঝাঁক ফুটবলার নেই টিমে। তবু ব্রাজিলকে তৃপ্তির সাগরে ভাসালেন এক ২৩ বছরের ফুটবলার। লিভারপুলের ফিলিপ কুটিনহো কোরেইয়া। হাইতির বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক করলেন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার কুটিনহো। ম্যাচের পর দুঙ্গা পর্যন্ত বলেছেন, ‘প্রতিপক্ষর কাছ থেকে দারুণ ভাবে সুবিধা আদায় করে নিতে পারে। প্রতিটা ট্রেনিংয়ে ও সিরিয়াস। প্রতিটা ম্যাচে ও শিখছে। মেলে ধরছে নিজেকে।’
ব্রাজিলের গোলের বন্যার শুরুটা করেছিলেন কুটিনহোই। ১৪ মিনিটে ফিলিপ লুইসের পাস থেকে ১-০। ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁর দ্বিতীয় গোল। তৃতীয় গোলটা ৯২ মিনিটে, শেষ বাঁশি বাজার আগের মুহূর্তে।
ব্রাজিলিয়ান মিডিও গত চার বছর খেলছেন লিভারপুলে। সব মিলিয়ে ২১টা গোল করেছেন তিনি। কিন্তু ব্রাজিলের হয়ে এই প্রথম হ্যাটট্রিক তাঁর। ১৬ ম্যাচ খেলে কুটিনহোর নামের পাশে ৩ গোল। টিমের সিনিয়র ফুটবলার উইলিয়ান বলেছেন, ‘ও হ্যাটট্রিক করল বলে নয়, আমরা ওর কোয়ালিটি জানি। ও আমাদের টিমে সেরা প্লেয়ারের এক জন।’
আর কুটিনহো?
তিনি উচ্ছ্বাসে ভাসছেন। হ্যাটট্রিকের রসায়ন কী? কুটিনহো বলছেন, ‘কোচ আমাকে স্বাধীন ভাবে খেলার সুযোগ দিয়েছেন বলেই নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারছি।’
ব্রাজিলের ৩-০ রেনাটো অগাস্টোর গোলে। দানি আলভেসের বাঁকা ক্রস থেকে হেডে। হাইতির বিরুদ্ধে ৪-০ করেন গ্যাব্রিয়েল বারবোসা। ইলিয়াস মেন্ডেসের পাস থেকে বাঁ পায়ের চমৎকার গোল ১৯ বছরের গ্যাব্রিয়েলের।
এর পর কার্যত ভেঙে পড়ে হাইতির ডিফেন্স। ৬৭ মিনিটে ৫-০ করেন লুকাস লিমা। অসংখ্য গোলের সুযোগ নষ্ট করেন গ্যাব্রিয়েল, কুটিনহোরা। না হলে গোলের ব্যবধান তখনই বেড়ে যায়। ৮৬ মিনিটে অগাস্টোর দ্বিতীয় গোল। ব্রাজিলের ছ’নম্বর। সপ্তম গোলটা এল কুটিনহোর হ্যাটট্রিক থেকে। সারা ম্যাচে এক বারই হাইতিকে মরিয়া দেখিয়েছে, ৭০ মিনিটে জেমস মার্সিলিনের গোলটার সময়।
হ্যাটট্রিক-বয় কুটিনহো তৃপ্ত টিমমেটদের সাহায্য পেয়ে। তাঁর কথায়, ‘আমার একটাই লক্ষ্য থাকে প্রতিটা ম্যাচে উন্নতি করা। সুযোগ পাচ্ছি। কাজে লাগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
No comments