• Breaking News

    সৌরভের প্রত্যাঘাত, মূর্খের স্বর্গে বাস করছে রবি

    [caption id="attachment_435" align="alignleft" width="395"]সৌরভের প্রত্যাঘাত, মূর্খের স্বর্গে বাস করছে রবি সৌরভের প্রত্যাঘাত, মূর্খের স্বর্গে বাস করছে রবি[/caption]

    রাইট স্পোর্টস ডেস্ক


    প্রত্যাশিতই ছিল প্রত্যাঘাত! এলও। সৌরভ গাঙ্গুলি সরাসরিই জবাব দিলেন রবি শাস্ত্রীর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে এবং টিভি চ্যানেলে তোলা-অভিযোগের। রাখঢাক না-করেই জানালেন, ‘রবির মন্তব্যগুলো ব্যক্তিগত। যদি মনে করে থাকে সৌরভ গাঙ্গুলির জন্যই ভারতীয় ক্রিকেট দলের কোচের চাকরিটা হয়নি ওর, মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।’
    ভারতীয় দলের চিফ কোচের দায়িত্ব না-পেয়ে হতাশ মুম্বইকার শাস্ত্রী অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন সৌরভের দিকে। কোচ পদে প্রার্থী হিসাবে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল যখন, কেন সৌরভ ছিলেন না সেখানে, প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, প্রার্থী হিসাবে তাঁকে ‘অসম্মান’ করেছেন সৌরভ। সঙ্গে পরামর্শও দিতে ছাড়েননি মুম্বইকার। পরের বার এমন সভায় যেন ‘হাজির’ থাকে সৌরভ, বলেছিলেন একটি টেস্টে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক।
    সিএবি-সভাপতি সৌরভও জানিয়ে দিয়েছেন তাই, কী পরিস্থিতিতে এবং কেন সেই সভায় সেই সময় হাজির থাকতে পারেননি। তার আগে অবশ্য পাল্টা পরামর্শ দিয়েছেন শাস্ত্রীকেও। ‘যখন ভারতের মতো দেশে ক্রিকেট দলের কোচ নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলে, সত্যি সত্যিই যদি কেউ সেই কাজ পেতে চায়, কমিটির ডাকে সাড়া দিয়ে তাঁর উচিত কমিটির সদস্যদের সামনাসামনি এসে ইন্টারভিউ দেওয়া। ব্যাংককে ছুটি কাটাতে কাটাতে প্রেজেন্টেশন দেওয়া নয়! বিশেষ করে যখন ভারতবর্ষের সর্বকালের সেরা একজন ক্রিকেটার দু’ঘন্টার ওপর বসে কথা বলছিল।’
    প্রাথমিকভাবে শাস্ত্রীর মন্তব্য এড়িয়েই গিয়েছিলেন সৌরভ। ‘কয়েকটা কাগজে ওর মন্তব্যগুলো পড়ে খুব খারাপ লেগেছিল। একেবারেই ব্যক্তিগত আক্রমণ। খুবই খারাপ লেগেছিল এভাবে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলায়। সবচেয়ে বড়, যে মুখ খুলছে সে তো গত কুড়ি বছরে বিসিসিআইয়ের কোনও না কোনও কমিটিতে সবসময়ই ছিল। বছর দশেক আগে যখন কোচ বাছাই হয়েছিল, ছিল সেই কমিটিতেও। সবই জানে। আমি বিসিসিআই-কে জানিয়ে দিয়েছিলাম, সেই দিন আমার কী কী কাজ আছে। সিএবি-র সভাপতি। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিং ছিল। আর, ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ের নোটিশ দিতে হয় ১৪ দিন আগে। এই সভা ডাকা হয়েছিল দু’দিন আগে মাত্র। রবির সঙ্গে কথা বলার সময় ছিল বিকেল সোয়া চারটে থেকে। ওটা রবি নিজেও কনফার্ম করতে পারবে নিশ্চয়ই, ওর কাছে ইমেল গিয়েছিল। কিন্তু, ওর আগের প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পাঁচটা বেজে যায়। ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়ে সভাপতি হিসাবে আমার থাকা জরুরি। বেরিয়ে এসেছিলাম। পরে বোর্ডের সচিব অজয় শিরকে ফোন করেন এবং জানান যে, কমিটির বাকি সদস্যরা (শচীন তেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ ও কনভেনর সঞ্জয় জাগদালে) মিটিং চালিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। বলেছিলাম, কোনও অসুবিধেই নেই। এমন তো হয়েই থাকে বিশ্বজুড়ে, সর্বত্র।’
    নিজে আগ বাড়িয়ে কোনও সংবাদমাধ্যমের কাছে গিয়ে মুখ খোলেননি, পরিষ্কার মনে করিয়ে দিয়েছেন সৌরভ। শাস্ত্রীর ব্যবহারে অর্থাৎ ছুটি কাটাতে গিয়ে ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার প্রার্থী পদে ইন্টারভিউ দেওয়াকে কি ‘সিরিয়াসনেস’-এর অভাব বলে ধরেছিলেন সৌরভ, প্রশ্নে ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অধিনায়ক জানিয়েছেন, ‘সিরিয়াস ছিল, নাকি ছিল না, আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু অসম্মানের যে প্রসঙ্গ ও তুলেছে, বলতে পারি যে, রবির উচিত ছিল কমিটির মুখোমুখি হওয়া, এখানে উপস্থিত থাকা। তিন সদস্যের কমিটি আছে, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ মানুষরা আছেন যখন, একা সৌরভ গাঙ্গুলি কী করছে বা বলছে আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাই ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হয়ে খারাপই লেগেছিল।’
    অনিল কুম্বলেকে দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে সৌরভের মত, ‘ওর সাফল্য কামনা করি। ক্রিকেটার হিসাবে চ্যাম্পিয়ন ছিল। আমাদের মনে হয়েছে এই কাজের জন্য অনিলই যোগ্যতম। ভারতীয় ক্রিকেটকে ঠিক এগিয়ে নিয়ে যাবে।
    আর, প্রত্যাঘাতের মাধ্যমে বুঝিয়েও দিলেন ভারতের অন্যতম সেরা এবং বিতর্কিত প্রাক্তন অধিনায়ক যে, তাঁকে কিছু বললে, খেলোয়াড় জীবনেও যেমন করতেন, প্রশাসক জীবনেও ছেড়ে কথা বলবেন না!

    No comments