ইউরোর ফাইনাল কি জার্মানি-পর্তুগাল?
কাশীনাথ ভট্টাচার্য

ইউরোর ফাইনাল কি জার্মানি-পর্তুগাল?
সিঁড়ি-ভাঙা অঙ্ক তো তেমনই বলছে!
নকআউট পর্ব শুরু হচ্ছে শনিবার। ১৬ দল, ৮ ম্যাচ প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। দুভাগে ভেঙে দু’দিক দিয়ে দু’টি দল উঠবে ফাইনালে। সূচি যা দেখাচ্ছে, এমন একটি দল ফাইনালে খেলবে যারা আগে কখনও ইউরো জেতেনি। অর্থাৎ, ইউরোয় এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা!
একদিকের আট দলের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলি যথাক্রমে সুইৎজারল্যান্ড-পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল, ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও হাঙ্গেরি-বেলজিয়াম। সূচি অনুসারে সুইৎজারল্যান্ড-পোল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল খেলবে ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচে বিজয়ীদের বিরুদ্ধে, কোয়ার্টার ফাইনালে। এই দিকের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও হাঙ্গেরি-বেলজিয়াম ম্যাচের জয়ীরা। এই আটটি দেশ কখনও জেতেনি ইউরো। সুতরাং, এই আট দেশের মধ্যে থেকে যে দেশ পৌঁছবে ফাইনালে, ইউরো জেতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেবেন কী করে?
দ্বিতীয় ভাগে সব চ্যাম্পিয়নরা একত্রিত। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের চার ম্যাচ জার্মানি-স্লোভাকিয়া, ইতালি-স্পেন, ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড-আইসল্যান্ড। জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্স – ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আগে। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে হয় ইতালি বা স্পেন বিদায় নেবেই, যেহেতু পরস্পরের মুখোমুখি। লড়াই তখন আরও উত্তেজক।
সিঁড়িভাঙা অঙ্কে যাওয়া যাক। সব প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই এমন সিঁড়িভাঙা অঙ্কের খেলায় মেতে থাকাই ফুটবলপ্রেমীদের কাজ। নিজেদের মতো করে ভেবে নিলে খুঁজে পাওয়া যায় ভাবী চ্যাম্পিয়নদের। বেশিরভাগ সময়ই এই হিসেব, যাধারণত যা খাতায়-কলমে, মেলে না শেষ পর্যন্ত। তবুও, অনাগত ভবিষ্যৎকে দেখার ইচ্ছে থাকেই মানুষের। তাতে জীবনখাতার প্রতি পাতায় অঙ্ক না-মিলল তো বয়েই গেল! ঠিক পথ ধরে এগোতে চাওয়ার এই ইচ্ছেটাই যে আসল! তাই, এক-এক করে এগোন যাক।
সুইৎজারল্যান্ড-পোল্যান্ড, তুল্যমূল্য শক্তির ম্যাচ। ফিফা র্যাঙ্কিং-এ ১৪ বনাম ২৭। কিন্তু সেই কারণেই পোল্যান্ড পিছিয়ে, বলা কঠিন। রবার্ট লেওয়ানডোস্কি আছেন পোল্যান্ডে। তারকাসমৃদ্ধ নয়, এই ম্যাচ মধ্যবিত্তদের। লেওয়ানডোস্কির জন্য পোল্যান্ডকে এগিয়ে রাখা যাক!
ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচ তো ধুন্ধুমার। লুকা মোদরিচের বিরুদ্ধে খেলবেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। রেয়াল মাদ্রিদের সতীর্থদের লড়াইয়ে পেপের নামটাও রাখা যাতেই পারে। স্পেনকে হারিয়েছে বলেই নয়, মোদরিচ এবং মান্দজুকিচকে ছাড়া স্পেনকে হারিয়েছে বলেই ক্রোয়েশিয়া উঠে এসেছে অন্যতম ফেভারিট হিসাবে। উল্টোদিকে নিজেকে ফিরে-পাওয়া রোনালদো ও তাঁর দলবল। জোড়া গোল পেয়ে ছন্দে ফিরে আসার জন্য রোনালদোর পর্তুগালকে ৫১-৪৯ এগিয়ে রাখতেই হচ্ছে।
ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যুদ্ধে তেমনই ওয়েলস এগিয়ে গ্যারেথ বেলের কারণে। বেলজিয়াম ইউরোপের সেরা ফুটবল-দেশ এই মুহূর্তে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে। এডেন হ্যাজার্ডরা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন বছর দুই আগে। প্রতিভাবান ফুটবলারদের দল, ইতালির কাছে হারলেও সামলে নিয়েছেন নিজেদের। অবশ্যই ফেভারিট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে।
অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ দু’টি, সূচির বাঁদিক থেকে – পোল্যান্ড-পর্তুগাল, ওয়েলস-বেলজিয়াম। একইভাবে সিঁড়ি ভেঙে এই দিক থেকে ধরে নেওয়া যায় সেমিফাইনাল হবে পর্তুগাল-বেলজিয়াম। সেখান থেকে দ্বিতীয়বার ইউরো ফাইনালে খেলার সুযোগ পেতেই পারেন রোনালদো!
আসুন ডানদিকে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে একটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচে মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়, কারা এগিয়ে। জার্মানি-স্লোভাকিয়ায় জার্মানি, ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে আয়োজক ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড-আইসল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতবে ধরে নিতে বিশেষজ্ঞ হিসাবে বিরাট হওয়ার প্রয়োজন আছে কি? সমস্যা ইতালি-স্পেন ম্যাচ নিয়ে। দুটি দলই শেষ ম্যাচে হেরেছে। কিন্তু স্পেন জিততে চেয়ে হেরেছিল, ইতালি তেমন মাথাব্যথা না-করে। প্রতিযোগিতায় ইতালিকে বেশি সংঘবদ্ধ মনে হয়েছে প্রথম দুটি ম্যাচে। তাই এগিয়ে রাখা হল ইতালিকে।
কোয়র্টার ফাইনালে সম্ভাব্য দুটি ম্যাচ তখন, জার্মানি-ইতালি ও ফ্রান্স-ইংল্যান্ড। জার্মানি-ফ্রান্স সেমিফাইনাল থেকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।
ইউরোর ফাইনালে তা হলে মুখোমুখি জার্মানি-পর্তুগাল! মুলার বনাম রোনালদো!
ইউরোর ফাইনাল কি জার্মানি-পর্তুগাল?
সিঁড়ি-ভাঙা অঙ্ক তো তেমনই বলছে!
নকআউট পর্ব শুরু হচ্ছে শনিবার। ১৬ দল, ৮ ম্যাচ প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে। দুভাগে ভেঙে দু’দিক দিয়ে দু’টি দল উঠবে ফাইনালে। সূচি যা দেখাচ্ছে, এমন একটি দল ফাইনালে খেলবে যারা আগে কখনও ইউরো জেতেনি। অর্থাৎ, ইউরোয় এবার নতুন চ্যাম্পিয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা!
একদিকের আট দলের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলি যথাক্রমে সুইৎজারল্যান্ড-পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল, ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও হাঙ্গেরি-বেলজিয়াম। সূচি অনুসারে সুইৎজারল্যান্ড-পোল্যান্ড ম্যাচের জয়ী দল খেলবে ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচে বিজয়ীদের বিরুদ্ধে, কোয়ার্টার ফাইনালে। এই দিকের দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও হাঙ্গেরি-বেলজিয়াম ম্যাচের জয়ীরা। এই আটটি দেশ কখনও জেতেনি ইউরো। সুতরাং, এই আট দেশের মধ্যে থেকে যে দেশ পৌঁছবে ফাইনালে, ইউরো জেতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেবেন কী করে?
দ্বিতীয় ভাগে সব চ্যাম্পিয়নরা একত্রিত। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের চার ম্যাচ জার্মানি-স্লোভাকিয়া, ইতালি-স্পেন, ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড-আইসল্যান্ড। জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্স – ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আগে। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছতে হয় ইতালি বা স্পেন বিদায় নেবেই, যেহেতু পরস্পরের মুখোমুখি। লড়াই তখন আরও উত্তেজক।
সিঁড়িভাঙা অঙ্কে যাওয়া যাক। সব প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই এমন সিঁড়িভাঙা অঙ্কের খেলায় মেতে থাকাই ফুটবলপ্রেমীদের কাজ। নিজেদের মতো করে ভেবে নিলে খুঁজে পাওয়া যায় ভাবী চ্যাম্পিয়নদের। বেশিরভাগ সময়ই এই হিসেব, যাধারণত যা খাতায়-কলমে, মেলে না শেষ পর্যন্ত। তবুও, অনাগত ভবিষ্যৎকে দেখার ইচ্ছে থাকেই মানুষের। তাতে জীবনখাতার প্রতি পাতায় অঙ্ক না-মিলল তো বয়েই গেল! ঠিক পথ ধরে এগোতে চাওয়ার এই ইচ্ছেটাই যে আসল! তাই, এক-এক করে এগোন যাক।
সুইৎজারল্যান্ড-পোল্যান্ড, তুল্যমূল্য শক্তির ম্যাচ। ফিফা র্যাঙ্কিং-এ ১৪ বনাম ২৭। কিন্তু সেই কারণেই পোল্যান্ড পিছিয়ে, বলা কঠিন। রবার্ট লেওয়ানডোস্কি আছেন পোল্যান্ডে। তারকাসমৃদ্ধ নয়, এই ম্যাচ মধ্যবিত্তদের। লেওয়ানডোস্কির জন্য পোল্যান্ডকে এগিয়ে রাখা যাক!
ক্রোয়েশিয়া-পর্তুগাল ম্যাচ তো ধুন্ধুমার। লুকা মোদরিচের বিরুদ্ধে খেলবেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। রেয়াল মাদ্রিদের সতীর্থদের লড়াইয়ে পেপের নামটাও রাখা যাতেই পারে। স্পেনকে হারিয়েছে বলেই নয়, মোদরিচ এবং মান্দজুকিচকে ছাড়া স্পেনকে হারিয়েছে বলেই ক্রোয়েশিয়া উঠে এসেছে অন্যতম ফেভারিট হিসাবে। উল্টোদিকে নিজেকে ফিরে-পাওয়া রোনালদো ও তাঁর দলবল। জোড়া গোল পেয়ে ছন্দে ফিরে আসার জন্য রোনালদোর পর্তুগালকে ৫১-৪৯ এগিয়ে রাখতেই হচ্ছে।
ওয়েলস-নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড যুদ্ধে তেমনই ওয়েলস এগিয়ে গ্যারেথ বেলের কারণে। বেলজিয়াম ইউরোপের সেরা ফুটবল-দেশ এই মুহূর্তে, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে। এডেন হ্যাজার্ডরা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন বছর দুই আগে। প্রতিভাবান ফুটবলারদের দল, ইতালির কাছে হারলেও সামলে নিয়েছেন নিজেদের। অবশ্যই ফেভারিট হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে।
অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ দু’টি, সূচির বাঁদিক থেকে – পোল্যান্ড-পর্তুগাল, ওয়েলস-বেলজিয়াম। একইভাবে সিঁড়ি ভেঙে এই দিক থেকে ধরে নেওয়া যায় সেমিফাইনাল হবে পর্তুগাল-বেলজিয়াম। সেখান থেকে দ্বিতীয়বার ইউরো ফাইনালে খেলার সুযোগ পেতেই পারেন রোনালদো!
আসুন ডানদিকে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে একটি ছাড়া বাকি সব ম্যাচে মোটামুটি ধরে নেওয়া যায়, কারা এগিয়ে। জার্মানি-স্লোভাকিয়ায় জার্মানি, ফ্রান্স-আয়ারল্যান্ড ম্যাচে আয়োজক ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড-আইসল্যান্ড ম্যাচে ইংল্যান্ড জিতবে ধরে নিতে বিশেষজ্ঞ হিসাবে বিরাট হওয়ার প্রয়োজন আছে কি? সমস্যা ইতালি-স্পেন ম্যাচ নিয়ে। দুটি দলই শেষ ম্যাচে হেরেছে। কিন্তু স্পেন জিততে চেয়ে হেরেছিল, ইতালি তেমন মাথাব্যথা না-করে। প্রতিযোগিতায় ইতালিকে বেশি সংঘবদ্ধ মনে হয়েছে প্রথম দুটি ম্যাচে। তাই এগিয়ে রাখা হল ইতালিকে।
কোয়র্টার ফাইনালে সম্ভাব্য দুটি ম্যাচ তখন, জার্মানি-ইতালি ও ফ্রান্স-ইংল্যান্ড। জার্মানি-ফ্রান্স সেমিফাইনাল থেকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।
ইউরোর ফাইনালে তা হলে মুখোমুখি জার্মানি-পর্তুগাল! মুলার বনাম রোনালদো!
No comments