স্পেনীয়-যুদ্ধে ঘরের মাঠে হেরে শুরু ইস্টবেঙ্গলের । কাশীনাথ ভট্টাচার্য
ইস্টবেঙ্গল - ১ চেন্নাই
সিটি – ২
(এনরিকে ৫২) (সান্দ্রো
৪৫+২, নেস্তর ৮৭ পে )
![]() |
| সান্দ্রোর দুরন্ত ফ্রি কিকেই এগিয়ে গিয়েছিল চেন্নাই সিটি। ছবি - এআইএফএফ |
স্পেনীয় কোচের ভাবনা বনাম চার স্পেনীয় ফুটবলারের মাঠে
দুরন্ত পারফরম্যান্স। আই লিগে এই স্পেনীয় যুদ্ধে জিতে বাইরের ম্যাচ
থেকে তিন পয়েন্ট তুলে নিয়ে শীর্ষে-থাকা নিশ্চিত করেই আইজল যাচ্ছে চেন্নাই সিটি,
চার ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে। তৃতীয় এবং ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে হেরে তিন ম্যাচে ছয়
পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানেই থাকল ইস্টবেঙ্গল।
স্টপার রোবের্তো, দুই আক্রমণাত্মক
মিডফিল্ডার সান্দ্রো এবং নেস্তর খেসুস, ফরোয়ার্ডে পেদ্রো – চেন্নাই সিটির চার
স্পেনীয় নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাঠে। বিশেষত সান্দ্রো এবং পেদ্রো। প্রথমার্ধে এই দুজনের
যুগলবন্দিতে লালহলুদ রক্ষণে ত্রাহি ত্রাহি রব। ২৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল বক্সে নেস্তর
এবং পেদ্রোর পরপর চারটি ছোট ছোট পাসে স্পেনীয় তিকিতাকার ঝলক যা শেষ পর্যন্ত গোল না
হলেও মনে থেকে যায় ম্যাচের সবচেয়ে ভাল মুভ হিসাবেই। ওই একবারই নয়, ইস্টবেঙ্গল
রক্ষণকে বেশ কয়েকবার অসহায় মনে হয়েছিল তখন। পেদ্রো গোল পাননি, দুর্ভাগ্য।
প্রথমার্ধের তখন ইনজুরি টাইম। দিকা
ফাউল করলেন স্পেনীয় সান্দ্রোকে, বিপজ্জনক অঞ্চলে। ফ্রি কিক, ডানপায়ের বাঁকানো শট
দূরের পোস্টে রেখে গেলেন সান্দ্রো। চেন্নাই সিটি সাজঘরে ফিরল এগিয়ে থেকে।
বিরতির আগে ইস্টবেঙ্গল যতটা রক্ষণে
ব্যস্ত ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামল আক্রমণে ততটাই বাড়তি নজর দিতে চেয়ে। সমতা
ফেরানোর ঠিক আগের মিনিটেই গোল হতে পারত। পরিবর্ত সামাদ আলি মল্লিক ক্রস রেখেছিলেন
বক্সে। জবি জাস্টিন চেষ্টাও করেছিলেন সাইড ভলিতে, কিন্তু জাস্টিনের শটে শক্তি ছিল
না। চেন্নাই সিটির অনূর্ধ্ব২২ গোলরক্ষক কবীর তৌফিক ঝাঁপিয়ে বল বের করে দিয়েছিলেন।
পরের মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল। সুন্দর
মুভের ফসল। জাস্টিন এবার পাস দিয়েছিলেন
সুরাবুদ্দিনকে, বক্সের মধ্যে। সুরাবুদ্দিন ভেতরে রেখে যান, জনি আকোস্তার পা হয়ে
সেই বল গিয়েছিল বাঁদিকে একেবারে ফাঁকায় দাঁড়ানো এনরিকে এসকেদার পায়ে। অরক্ষিত গোলে
বল ঠেলতে ভুল করেননি স্পেনীয়। তাঁর তৃতীয়
গোল এবারের আই লিগে, বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে হাজির হাজার পঁচিশেক ইস্টবেঙ্গল সমর্থকের স্বস্তি।
দুই স্পেনীয়র অন্য লড়াইও দেখল
যুবভারতী। অজিতকুমার কামরাজের সঙ্গে এনরিকের খুচখাচ লাগছিলই। পরে ৬৯ মিনিটে রোবের্তো
ফাউল করলে উঠে গিয়ে সরাসরি আঘাত করেছিলেন এসকেদা। রেফারি ক্রিস্টাল জন হলুদ কার্ড
দেখান এনরিকে-কে।
৮৬ মিনিটে পেনাল্টি চেন্নাইয়ের।
সান্দ্রোর পাসে খুলে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল রক্ষণ। অনূর্ধ্ব২২ প্রবৃত্ত রাজু বল ধরতে
এগিয়ে গিয়েছিলেন, পেয়েও গিয়েছিলেন। বিপদ বুঝে রক্ষিত ডাগার এগিয়ে এসে শুয়ে পড়ে বল
বের করে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পা বলে না লেগে সরাসরি রাজুর পায়ে। সহজ সিদ্ধান্ত
পেনাল্টির। ডাগারকে উল্টো দিকে ফেলে নেস্তরের গোল।
পরপর দুটি ম্যাচ পাহাড়ে জিতে আশার
আলো জাগিয়েও ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে পড়ল ঘরের মাঠে রক্ষণের কারণে। বিশ্বকাপার জনি
আকোস্তা দলের একমাত্র গোলের অ্যাসিস্ট আর পরে আরও একবার কর্নারে ফাঁকায় হেড দেওয়ার
সুযোগ পেয়েও বাইরে পাঠানো ছাড়া, রক্ষণে ততটা নির্ভরতা দিতে পারেননি আর এক স্পেনীয়
বোর্খা গোমেজেকে সঙ্গে নিয়েও। আহত আল আমনার অনুপস্থিতি তো বটেই, ট্রফি জিততে
রক্ষণে বাড়তি নজর দিতেই হবে ইস্টবেঙ্গলের স্পেনীয় কোচ আলেখান্দ্রো গার্সিয়াকে,
নিশ্চিত।

No comments