মেসির ভরসা ফিরে-পাওয়ার সেরা সুযোগ ইগাইনের! / কাশীনাথ ভট্টাচার্য
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল
জুভেন্তাস-রেয়াল মাদ্রিদ, আজ রাত ১২-১৫ সরাসরি
কাশীনাথ ভট্টাচার্য
লিওনেল মেসির ভরসা ফিরে পাওয়ার সেরা সুযোগ গোনজালো ইগাইনের সামনে!
আজ (শনিবার) রাতে কার্ডিফে চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল। আর ফাইনালে ইগাইন মানেই সহজতম গোলের সুযোগ হারানো! আর্জেন্তিনার জার্সিতে এখন প্রতিষ্ঠিত সত্য। বিশ্বকাপ ফাইনাল তো বটেই, পরের দুটি কোপা ফাইনালেও ইগাইন যে-সত্যে প্রমাণের সিলমোহর দিয়েছিলেন।
জুভেন্তাসের সামনে রেয়াল মাদ্রিদ, ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে। যেহেতু বিপক্ষে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো নামের এক পর্তুগিজ আছেন, যিনি আবার ক সময় সতীর্থ ছিলেন রেয়ালে ইগাইনের, তাঁকে ট্রফি জিততে না-দিতে যদি ইগাইনের গোলেই ফয়সালা হয়, দেশে ফিরে তাঁর ক্যাপ্টেন-কে টেলিফোন করতে পারবেন ইগাইন, বুক ফুলিয়ে! বলতে পারবেন, ‘এই দ্যাখো, রোনালদোকে এবার আর ট্রফি জিততে দিলাম না।’ পারলে, সেই ঘোলে মেসি হয়ত দুধের স্বাদ মেটাবেন খানিক। তাঁর বার্সেলোনা যে এবারও পারেনি ইউরোপীয় ফাইনালে পৌঁছতে!
দু-দলের সম্ভাব্য প্রথম একাদশ
জুভেন্তাস - বুফোঁ ; বরজাগলি, বোনুচ্চি, কিয়েলিনি, সান্দ্রো ; খেদিরা, পিয়ানিক ; আলভেস, দাইবালা, মান্দজুকিচ ; ইগাইন
রেয়াল মাদ্রিদ - নাভাস ; কার্ভাহাল, রামোস, ভারানে, মার্সেলো ; মোদরিচ, কাসেমিরো, ক্রুস, ইস্কো ; বেনজেমা, রোনালদো
অর্থাৎ, ফাইনালেও অশরীরী উপস্থিতি থাকছেই লিও মেসির!
থাকবে না-ই বা কেন?
এবার জিতলে রোনালদোর চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ খেতাব হবে। একবার জিতেছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে, দুবার জিতিয়েছেন রেয়াল মাদ্রিদকে। চতুর্থবার জিতলে ছুঁয়ে ফেলবেন মেসিকে, যাঁর ঝুলিতে আছে ইউরোপ-সেরার চার খেতাব। যদিও ২০০৬ ফাইনালে খেলেননি, সেই হিসাবে আসলে তো তিনটিই। রোনালদোর চারটি খেতাবই যেহেতু হবে তখন খেলে-পাওয়া, দাবি করতে পারবেন, এগিয়ে গিয়েছেন আরও।
আর, রেয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতলে রোনালদোর বালন দি’ওর পাওয়াই বা আটকাবে কে, আগামী জানুয়ারিতে? সেখানেও পাঁচবার পেয়ে ছুঁয়ে ফেলবেন তো সেই মেসিকেই!
অবশ্য রোনালদোর এই বাড়া ভাতে ছাই ফেলার জন্য আর্জেন্তিনীয় ইগাইনের সঙ্গেই থাকবেন মেসির অভিন্নহৃদয় ব্রাজিলীয় বন্ধু দানি আলভেসও।
বার্সেলোনায় মেসিকে দিয়ে সবচেয়ে বেশি গোল ‘জাভিয়েস্তা’ করাননি, করিয়েছিলেন এই ব্রাজিলীয়। তাঁকে বার্সেলোনা এবার ছেড়ে দিয়েছিল। জুভেন্তাসে এসে তিনি আবারও ছন্দে। ইউরোপের ফাইনালে উঠে জানাতে ভোলেননি বার্সেলোনাকে কথা দিয়ে এসেছিলেন, ‘ভোগাবেন’! ভুগিয়েছেন, দু-পর্বের কোয়ার্টার ফাইনালে। বার্সেলোনা একটি গোলও করতে পারেনি। হেরেছিল ০-৩, নিজেদের মাঠেও ০-০। এবার, বার্সেলোনায় থাকাকালীন তাঁর সেরা শত্রু রোনালদোর সামনে আলভেস আবার।
আলভেস এমন রাইট ব্যাক যিনি খেলতে পছন্দ করেন রাইট উইঙ্গার হিসাবেই। আবার, মার্সেলো এমন লেফট ব্যাক যাঁর পাস থেকে বহু গোল করেন রোনালদো। আজ রাতের ফাইনাল তো এটাও দেখতে চাইবে, আলভেস কী করে মার্সেলো-রোনালদোর জোড়া ফলা সামলান! এসি মিলানে কাফু আর রেয়াল মাদ্রিদে রোবের্তো কার্লোস মুখোমুখি হলে যেমন হত, এখন আলভেস আর মার্সেলো মুখোমুখি হলেও ব্রাজিলের সমর্থকদের পাশাপাশি ফুটবল-উৎসাহীরাও আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন, দুর্দান্ত লড়াই দেখার আশায়।
তবে, সবচেয়ে বড় লড়াই অবশ্য অন্য। জিয়ানলুইগি বুফোঁর ঘরে আছে বিশ্বকাপ। ইতালির সব ট্রফি যার মধ্যে সিরি আ খেতাব ১১ বার। কিন্তু নেই ইউরোপীয় পর্যায়ে কোনও ট্রফিই!
ইউরো বা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেননি বুফোঁ। বর্ণময় ফুটবলার জীবনে তাই থেকে গিয়েছে ইউরোপীয়–আক্ষেপ। ২০১২ ইউরোর ফাইনালে উঠেছিল ইতালি। কিন্তু ইনিয়েস্তার নেতৃত্বে স্পেন সেবার ছারখার করে দিয়েছিল ইতালীয় রক্ষণ। আবার, ২০১৪–১৫ ফাইনালে পৌঁছেছিলেন চ্যাম্পিয়নস লিগের। লিওনেল মেসির কারণে খেতাব সেখানেও অধরা।
এবার তৃতীয় ইউরোপীয় ফাইনালে তাই বুফোঁ অন্তত একটা আক্ষেপ মেটাতে চান। দেশের হয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিটা পাওয়া হয়ত হবে না আর, ৩৯ বছর বয়সী গোলরক্ষকের। এখন সেরা ছন্দে আছেন, রাশিয়ায় ২০১৮ বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলতে আগ্রহী। কিন্তু ২০২০ ইউরো পর্যন্তও তিনি থাকবেন, একটু হলেও কঠিন। গোটা প্রতিযোগিতায় গোল খেয়েছেন মাত্র তিনটি। বরজাগলি-বোনুচি-কিয়েলিনির পেছনে বুফোঁ, এই রক্ষণ যে দুর্ভেদ্য প্রায়। ক্লাব ফুটবলে ইউরোপ–সেরার ট্রফিটা তাঁর চাই–ই এবার বুফোঁর!
কিন্তু চাইলেই কি পাওয়া যায়? উল্টোদিকে আছেন যে রোনালদো!
তাঁর ঘরে আবার বিশ্বকাপ নেই। কিন্তু, বাকি সব আছে। ইউরোপে দেশগত শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি গতবারই হাতে এসেছে, ফ্রান্সে গিয়ে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে। ক্লাবের হয়ে ইউরোপ–সেরার ক্ষেত্রে এবার চতুর্থ খেতাবের দৌড়ে।
পাঁচ বছর পর লা লিগা জিতে টগবগিয়ে ছুটছে জিনেদিন জিদানের রেয়াল। আর সেই ঘোড়ার লাগাম রোনালদোর হাতে। নতুন ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরুর পর কোনও ক্লাব পরপর দুবার জেতেনি। সেই রেকর্ডটাও যে ভাঙতেই হবে রোনালদোকেই। কারণ, এমন প্রথা ভাঙার জন্যই যে জন্ম হয় রোনালদোর মতো প্রতিভার।
সেরা গোলরক্ষক বনাম সেরা স্ট্রাইকার, কার্ডিফে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে ছাদ–ঢাকা মিলেনিয়াম স্টেডিয়ামে, আজ রাতে ধুন্ধুমার!
No comments