অবসরের ২৪ বছর পরও নাকি মনোরঞ্জনই ফ্যাক্টর!
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
অবসর নিয়েছেন ১৯৯৩ সালে। তবু, ২০১৭ ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে নাকি তাঁর উপস্থিতিই ‘ফ্যাক্টর’!
মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের উপস্থিতিই ফেডারেশন কাপ সেমিফাইনালে নাকি ইস্টবেঙ্গলকে বাড়তি উদ্দীপ্ত করবে, দাবি করেছিল মোহনবাগান। কোচ সঞ্জয় সেনও বলেছিলেন তেমন। যা সাফ উড়িয়ে দিলেন লালহলুদ জনতার আদরের ‘মনা’। ‘আমি তো আর মাঠে নেমে খেলব না! খেলবে ফুটবলাররা। আর এই ম্যাচের জন্য আলাদা করেকাউকে উদ্দীপ্ত করতে হয় না। কারা এগিয়ে, কারাই বা পিছিয়ে, কিছুই মাথায় থাকে না। আসল হল সেই দিনের মাঠে পারফরম্যান্স। যারা ভাল খেলবে, বেশি ভাল খেলার তাগিদ দেখাবে, জিতবে, সহজ ব্যাপার।’
অনেকটা একই রকম কথা বলেছিলেন সঞ্জয় সেনও। তাঁর কাছ জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোটিং জীবনে এটাই কি সবচেয়ে দুর্বলতম ইস্টবেঙ্গল? যা মানেননি সঞ্জয়। ‘এত কিছু মনে রাখতে পারি না। কোন দল খেলেছিল, কী খেলেছিল, এত মনে রাখছি না। যা জানি, রবিবার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং এমন দলের বিরুদ্ধে যারা যথেষ্ট শক্তিশালী। গোলরক্ষক থেকে ফরোয়ার্ড, শক্তিশালী সব জায়গায়।’
তিন বিদেশি নিয়ে কটকে এসেছিল ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগান চারজনকেই নিয়ে। ইস্টবেঙ্গলের দুই বিদেশি ওয়েডসন ও প্লাজা খেলবেন। কিন্তু তৃতীয় এবং রক্ষণের অন্যতম ভরসা বুকেনিয়াকে নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা। চোট আছে তাঁর। শনিবার বিকেলেও ইস্টবেঙ্গল শিবির নিশ্চিত নয়, রবিবার খেলতে পারবেন কিনা। তিনি না খেললে কি বাড়তি সুবিধা সোনি নর্দে-দের? মোহনবাগানে চোট নিয়ে আপাতত কোনও সমস্যা নেই।
তবে, চার বনাম তিন, এই বিদেশি সংখ্যা নিয়েও অতি উৎসাহী হওয়ার কোনও কারণ খুঁজে পাননি মোহনবাগানের কোচ। ‘চারজনকে নিয়েও আমরা সমস্যায় পড়েছিলাম লাজংয়ের বিরুদ্ধে, ফেডারেশন কাপেই। আবার ইস্টবেঙ্গলও তিনজনকে নিয়ে একই সমস্যায় পড়েছিল চার্চিলের বিরুদ্ধে। তার মানে, স্বদেশিরাও একই রকম গুরুত্বপূর্ণ।’
নতুন ফরম্যাটে এবার ফেডারেশন কাপে নেওয়া হয়েছে আই লিগে সেরা আট দলকে। দুটি গ্রুপে ভাগ করে খেলা হয়েছে। সেমিফাইনালে পৌঁছেছে কিন্তু আই লিগে প্রথম চারে থাকা দলগুলিই। আই লিগে চ্যাম্পিয়ন আইজলের বিরুদ্ধে প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে বেঙ্গালুরু এফসি। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আই লিগে দ্বিতীয় মোহনবাগানের বিরুদ্ধে তৃতীয় ইস্টবেঙ্গল।
বাগান কোচ সেই জন্যই বলছিলেন, ‘বড় ম্যাচ বললেই তো আর হল না। আইজলকে কি ছোট করে দেখা সম্ভব? ওরা আই লিগ চ্যাম্পিয়ন। আর এখানে তো আই লিগে দ্বিতীয় আর তৃতীয় দলের মধ্যে খেলা যে দুটি দলের পয়েন্টে পার্থক্য ছিল মাত্র তিন। তাই কারা এগিয়ে, কারা পিছিয়ে, কাদের কেমন ফর্ম - এসব নিয়ে ভাবনার জায়গাই নেই। খেলা হবে মাঠে। এই ম্যাচে সবই ওখানে নির্ধারিত হয়, হবেও।’
আই লিগে এই ম্যাচে শিলিগুড়িতে ২-০ জিতে এগিয়ে গিয়েছিল মোহনবাগান। তারপর থেকে ইস্টবেঙ্গলে পরিবর্তন হয়েছে। কোচ মর্গ্যানের চাকরি গিয়েছে। রঞ্জন চৌধুরি সহকারি হিসাবে কাজ করছেন, প্রধান কোচ মৃদুল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দিন অনুশীলনে গিয়েই চোট পাওয়ায়। আর আছেন তিন প্রাক্তন, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, ভাসক্র গাঙ্গুলি ও তুষার রক্ষিত। যাদের মধ্যে মনোরঞজনকে দেখা যাচ্ছে টেকনিক্যাল এরিয়ায়, যা দেখে সঞ্জয় খুব খুশি। ‘মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুব্রত ভট্টাচার্যদের দেখেই তো আমাদের খেলতে আসা। এখানে এসে যে দিন ম্যানেজার্স মিটিং হয়েছিল, কথা হয়েছিল। শুভেচ্ছা জানিয়েছি, মনাদাও শুভেচ্ছা জানিয়েছে আমাকে। এমনই তো হবে। মাঠের লড়াই থাকবে, বাইরে কীসের লড়াই, কেন?’
ফেডারেশন কাপ মোহনবাগান জিতেছে ১৪বার। তুলনায় ৬ বার কম ইস্টবেঙ্গলের। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ৮ বার। তার মধ্যে ১৯৭৮-৭৯ এবং ১৯৮০-৮১, দুবার যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন দুই দল।
এবার অবশ্য আর যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ নেই। রবিবার কটকের বারবাটি স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে মুখোমুখি দুই দল। কোনও একটি দলই পারবে ফাইনালে উঠতে, ট্রফিজয়ের জন্য ঝাঁপাতে। সঞ্জয় সেনের মোহনবাগান, না মনোরঞ্জন-রঞ্জনের ইস্টবেঙ্গল?
জবাব রবিবার সন্ধে সাতটার ৯০ মিনিট বা ১২০ মিনিট খেলার পর!
No comments