ত্রিপাঠির ব্যাটে পুনে তৃতীয় এখন!
কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১৫৫/৮ (মণীশ ৩৭, কলিন ৩৬, সূর্য অপরাজিত ৩০, ওয়াশিংটন ১৮/২ উনাড়কাট ২৮/২)
রাইজিং পুনে সুপারজায়েন্ট – (ত্রিপাঠি ৯৩, ওকস ১৮/৩)
পুনে ৪ উইকেটে জয়ী
ম্যাচের সেরা – রাহুল অজয় ত্রিপাঠি
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
পুনেতে ঘরোয়া ক্রিকেটে দু-দুবার তিনি ছ’বলে ছ’টি করে ছয় মেরেছেন! রান পাচ্ছিলেন নিয়মিত। ৩৩, ৩১, ৫৯, ৪৫, ৩৮, ৩৭ করেছিলেন আগে, নিজের প্রথম আইপিএল-এ। রাহুল অজয় ত্রিপাঠি তবুও তত আলোচিত ছিলেন না। দশলাখি ক্রিকেটার ইডেনে চলে এলেন, যাকে বলা হয়, পাদপ্রদীপের আলোয়। তাঁর ইনিংসে ভর করে রাইজিং পুনে সুপারজায়েন্ট ইডেনে জিতে গেল ৪ উইকেটে। উঠে এল আইপিএল তালিকায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে। নেট রান রেটে কলকাতা নাইট রাইডার্স একই পয়েন্ট পেয়েও থেকে গেল দ্বিতীয় স্থানে।
ত্রিপাঠি খেলেন মহারাষ্ট্রের হয়ে। মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন এবারই, প্রথমবার আইপিএল খেলতে পুনে-তে এসে। ১৩১ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর ইডেনের গ্যালারি ‘ধোনি ধোনি’ চিৎকারের পর মনে করা গিয়েছিল, দুজনেই হয়ত ম্যাচ শেষ করে আসবেন। কিন্তু, ধোনি টিকলেন না বেশিক্ষণ। অন্যপ্রান্তে ত্রিপাঠি একাই প্রায় খেয়ে নিলেন কুলদীপ যাদবকে। এক ওভারে পরপর তিনটি ছাক্কা, পরের ওভারে আরও একটি। বড় শট নেন অবলীলায়। বাংলার বিরুদ্ধে বিজয় হাজারে ট্রফিতে ৯৫ রানও করেছিলেন, এই মরসুমেই। শুরুর ঝড় শেষে ইনিংস টেনে নিয়ে যাওয়ার মুন্সিয়ানাও দেখাচ্ছিলেন। শেষে আউট ব্যক্তিগত ৯৩ রানে। ৫২ বলের ইনিংসে ৭ ছক্কা, ৯ বাউন্ডারি। তখন জিততে আর বাকি মাত্রই ৬ রান।
কলকাতায় এসে কলকাতা-মালিকের পুনে জিতল ৪ উইকেটে, ৪ বল বাকি থাকতে। স্কোর যদি বলে টেনশন তৈরি হয়েছিল, আদপে নয়। ত্রিপাঠি সেই সুযোগই দেননি! শুরুতে টানা দুটি ম্যাচ হেরেও পুনে এখন উঠে আসছে অন্যতম ফেভারিট হিসাবে।
কলকাতা ইনিংস অবশ্য শুরু থেকেই নড়বড়ে। সুনীল নারিনকে ইনিংসের শুরুতে নিয়ে আসার কারণ ছিল, চালিয়ে খেলে কম বলে বেশি রান করে যাবেন। প্রথম ওভারে ছ’টা বলই খেললেন তিনি, প্রথম পাঁচটা ব্যাটে-বলে হল না। ষষ্ঠ বলে বোলার জয়দেব উনাড়কাটকে দিয়ে গেলেন ফিরতি ক্যাচ। প্রতিযোগিতায় প্রথমবার ম্যাচের প্রথম ওভার উইকেট-মেডেন।
দ্বিতীয় উইকেট চতুর্থ ওভারের শেষ বলে। কেকেআর-এর ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসাবে হিট উইকেট হলেন শেলডন জ্যাকসন, আইপিএল-এর ইতিহাসে নবম। উইকেটে মাত্র ১৯। রবিন উথাপ্পার হ্যামস্ট্রিংয়ে টান। ফলে, রবিনের জায়গায় তিনে ব্যাটিং এবং উইকেটের পেছনে দাঁড়ানোর দু’টি সুযোগ একই সঙ্গে এসেছিল শেলডনের কাছে। ব্যাট হাতে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহারে ব্যর্থ। ৩৮৪ রান করেছিলেন যিনি প্রথম দশ ম্যাচে, বোধহয় তাঁর জায়গায় এসে সাফল্য পাওয়া কঠিন।
পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে ৩ উইকেটে ৪১। ততক্ষণে ১৯ বলে ২৪ করে আউট অধিনায়ক গৌতম গম্ভীরও। ওয়াশিংটন সুন্দরের অফস্টাম্পের বাইরের বল ডিপ মিড উইকেট বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে গিয়ে অজিঙ্ক রাহানের হাতে ধরা পড়ে। কলকাতার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান পাওয়ার প্লে-তে, এবারের আইপিএল-এ। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে করেছিল ৪০।
মাঝে ৪৮ রানের একটা জুটি। মণীশ পাণ্ডে ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের। ৩৭ করলেন মণাশ, ৩২ বলে। পাওয়ার প্লে-র ওভারগুলোর বাইরে ৩১৩ রান করে ফেললেন মণীশ, এই আইপিএল-এ যা সর্বোচ্চ, যে কোনও দলের যে কোনও ব্যাটসম্যানের পক্ষে। সুযোগ্য সহায়তা গ্র্যান্ডহোমের। ৩৬ রান, ১৯ বলে, দুটি ছক্কার সাহায্যে। তারপর ১৬ বলে অপরাজিত ৩০ সূর্যকুমার যাদবের। পুনের পক্ষে উনাড়কাট শুরু করেছিলেন উইকেট-মেডেন দিয়ে। শেষ ওভারে তিনিই দিলেন ২১ রান। কলকাতা পেল লড়াই করার রসদ। বোর্ডে ১৫৫। কিন্তু, কাজে এল না রাহুল ত্রিপাঠির ব্যাটিংয়ে।
তিন ম্যাচ বাকি কলকাতার। বেঙ্গালুরু ও পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে বাইরে, শেষ ম্যাচ ইডেনে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে। পরপর দুটি ম্যাচে হেরে একটু হলেও ছন্দহীন। তবে, আরও একটি ম্যাচ জিতলেই প্লে অফ মোটামুটি নিশ্চিত। উথাপ্পা ফিরলে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে পরের ম্যাচ থেকেই বাইরের মাঠে নামতে পারবেন গম্ভীররা, প্লে অফের লক্ষ্যে!
No comments