মূলে কাশির ওষুধ! সম্ভবত ছাড় পাচ্ছেন সুব্রত
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
সেই সর্দি-কাশি! সেই কাশির ওষুধ!
সুব্রত পালের নমুনা-মূত্রে যা পাওয়া গিয়েছে নিষিদ্ধ ড্রাগ হিসাবে, আর কিছুই নয়, টারবুটালাইন। যা আসলে কাশি বন্ধ করার সব ধরনের সিরাপেই থাকে।
সমস্যা হল, ওয়াডা-র তালিকায় নিষিদ্ধ হিসাবে চিহ্নিত টারবুটালাইন। শুধু সেই সেই ক্ষেত্রেই ছাড় পাওয়া সম্ভব যদি তাকে ‘ইনহেল’ করা হয়, মানে নিঃশ্বাসের সমস্যা হলে যে ‘ইনহেলার’ ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে থাকে। অথবা, আগে থেকে জানিয়ে রাখা হলে।
প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের মার্চ মাসে উবের কাপের সময় ভারতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা অপর্ণা পোপটও ধরা পড়েছিলেন এই একই কারণে। ১৩বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মুম্বইয়ের অপর্ণার ধরা পাড়ার কারণ ছিল ‘ডি-কোল্ড’, যে ওষুধটি বাজারে খুবই প্রচলিত এখনও। সর্দি-কাশিতে হামেশা নিয়ে থাকেন ভারতীয়রা। ছ’মাসের জন্য নির্বাসনে পাঠানো হয়েছিল অপর্ণাকে। কিন্তু, অপর্ণাও বোঝাতে পেরেছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে যে, বাজার-চলতি ওষুধ খেয়ে সর্দি-কাশি থামাতে চেয়েই তাঁর ওই দুর্দশা হয়েছিল। তাই, পরে তাঁর শাস্তি অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল, তিন মাসের।
ভারতের অর্জুন পুরস্কারপ্রাপ্ত গোলরক্ষক সুব্রত নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন, ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ার খবর শুনে। কাম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার আগে মুম্বইতে তাঁর পরীক্ষা হয়েছিল। প্রথম নমুনা মূত্রে পাওয়া গিয়েছিল এই নিষিদ্ধ ওষুধের অস্তিত্ব। ফলে, দ্বিতীয় নমুনা মূত্র নেওয়া হবে এবং তাতেও ফলাফল ‘পজিটিভ’ এলে বছর চারেক নির্বাসিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল সুব্রতর।
সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার সূত্রের খবর, সুব্রত-র নমুনা-মূত্রে পাওয়া গিয়েছে টারবুটালাইন-এর অস্তিত্ব। এবং, সুব্রতও নাকি এআইএফএফ-কে বলেছেন, তিনি জানিয়েই রেখেছিলেন কাশির কারণে কাফ-সিরাপ নিচ্ছিলেন তখন। একই কথা জানানো হয়েছিল ডোপ পরীক্ষাকারী সংস্থাকেও।
এআইএফএফ সূত্রও নিশ্চিন্ত অনেকটাই এখন যে, আগে থেকে জানিয়ে এই ওষুধ নেওয়া হয়েছে যখন, সুব্রতর দ্বিতীয় নমুনা-মূত্র পরীক্ষার দরকার পড়বে না। এমনকি, জুন মাসে কিরঘিজস্তানের বিরুদ্ধে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের খেলায় অসুবিধা হবে না দলে রাখতেও। ডিএসকে শিবাজিয়ান্সের গোলরক্ষক, বাংলার সোদপুরের মিষ্টুর জন্য যা নিঃসন্দেহে ভাল খবর।
তবে, ডিএসকে শিবাজিয়ান্সের হয়ে আই লিগের শেষ ম্যাচে তিনকাঠির তলায় দাঁড়াতে পারবেন কিনা সুব্রত, নিশ্চিত নয়।
No comments