মরসুম-শেষে বিদায়, জানালেন এনরিকে
রাইট স্পোর্টস ডেস্ক
মরসুম শেষেই বিদায়। আর থাকবেন না বার্সেলোনার বেঞ্চে। জানিয়ে দিলেন কোচ লুইস এনরিকে।
বার্সেলোনায় গারদিওলা বনাম এনরিকে
| গারদিওলা | এনরিকে | |
| ম্যাচ | ২৪৭ | ১৬৪ |
| জয় | ১৭৯ | ১২৫ |
| ড্র | ৪৭ | ২১ |
| হার | ২১ | ১৮ |
| জয়ের শতাংশ | ৭২.৪৭ | ৭৬.২১ |
| ট্রফি | ১৪ | ৮ |
| লা লিগা | ৩ | ২ |
| চ্যাম্পিয়ন্স লিগ | ২ | ১ |
| ক্লাব বিশ্বকাপ | ২ | ১ |
| উয়েফা সুপার কাপ | ২ | ১ |
| কোপা দেল রে | ২ | ২ |
| স্পেনের সুপার কাপ | ৩ | ১ |
২০১৪-১৫ মরসুমে এসেছিলেন দায়িত্বে। বার্সেলোনার প্রাক্তন ফুটবলার এনরিকের প্রথম মরসুম স্বপ্নের মতোই। ত্রিমুকুট জিতেছিল বার্সেলোনা – লা লিগা, কোপা দেল রে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। পরের ২০১৫-১৬ মরসুমেও লা লিগা এবং কোপা দেল রে জিতেছিলেন। প্রথম মরসুমের শেষে দু-বছরের চুক্তি আরও এক বছর বাড়াতে রাজি হয়েছিলেন। এ-মরসুমেও বার্সেলোনা পৌঁছেছে কোপা দেল রে ফাইনালে। লা লিগার দৌড় থেকে এখনও ছিটকে যায়নি কিন্তু প্রায়-অসম্ভব ৫-০ জেতার লক্ষ্য সামনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফিরতি পর্বে।
মরসুম শেষ হতে যখন মাস তিনেক বাকি, এনরিক জানিয়ে দিয়েছেন, চলে যাবেন মরসুম শেষেই। ‘বিশ্রাম দরকার। ক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। আস্থা রেখেছিলেন আমার কাজে। তাই তিনটি স্মরণীয় মরসুম কাটাতে পেরেছি বার্সেলোনায়। এখনও মাস তিনেক বাকি আছে। মনে হচ্ছে, এই তিন মাসও দুর্দান্তই যাবে। ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সবসময়ই কঠিন। কিন্তু, অনেক ভেবে দেখলাম, এটাই ঠিক হবে, সব দিক দিয়েই।’
বার্সেলোনার কোচ হিসাবে এখন তাঁর পরিসংখ্যান – ১৬৪ ম্যাচে ১২৫ জয়, ২১ ড্র, ১৮ হার। জিতেছেন ৭৬.২ শতাংশ ম্যাচ। চার বছরে তাঁর সতীর্থ পেপ গারদিওলা ২৪৭ ম্যাচে জিতেছিলেন ১৭৯, ড্র ৪৭, হার ২১, জয়ের শতকরা হার ছিল ৭২.৪৭। গারদিওলা ১৪ ট্রফি জিতেছিলেন ওই চার বছরে। এনরিকে এই প্রায় তিন বছরে পেয়েছেন ৮ ট্রফি। দুবার করে লা লিগা এবং কোপা দেল রে-র সঙ্গে একবার করে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং স্পেনের সুপার কাপ।
যে-রাতে এনরিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, স্পোর্তিং খিহোন-কে ৬-১ দুরমুশ করে এবং লাস পালমাসের বিরুদ্ধে রেয়াল মাদ্রিদ ৩-৩ ড্র রাখায়, বার্সেলোনা লা লিগা দৌড়ে উঠে এসেছে শীর্ষে আবার। তবে, রেয়াল মাদ্রিদ একটি ম্যাচ কম খেলেছে বার্সেলোনার চেয়ে। আর, সামনের সপ্তাহেই আছে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ঘরের মাঠ কাম্প নু-তে সামনে পিএসজি, যাদের কাছে ০-৪ হেরেছিল বার্সেলোনা, যে-ম্যাচের পর থেকেই ‘এনরিকে হটাও’ দাবি জোরদার হয়েছিল স্পেনের, এমনকি কাতালুনিয়ার সংবাদমাধ্যমেও।
খেলার আগে হারতে নেই পেশাদার কোচদের। এনরিকেও তাই বলেছেন, ০-৪ ব্যবধান মুছে ইউরোপেও নাকি এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে বার্সেলোনার! ‘অসম্ভব একেবারেই নয়। তবে, ভাগ্যের একটু সাহায্য প্রয়োজন। সবাই সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করতে তৈরি।’ ইউরোপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ, এক্ষুনি ভাবতে রাজি নন বিদায়ী-কোচ।
খোসেপ বার্তোমিউও ধন্যবাদ জানিয়েছেন এনরিকে-কে। ‘বড় কোচ, আমাদের প্রচুর সাফল্য এনে দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞ। এমনকি, আরও সাফল্য এনে দিতেই পারেন, এই মরসুমেও। চলে যেতে চাইছেন। আমরা চাই এই বিচ্ছেদও যেন মধুরই হয়। ওঁর এই শেষ দিনগুলো আরও সুন্দর করে তুলতে ফুটবলাররাও বদ্ধপরিকর এখন।’
বার্সেলোনায় এনরিকের ছেড়ে যাওয়া আসনে কে? বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে দুজনের নাম ঘোরাফেরা করছে। বার্সেলোনার প্রাক্তন ফুটবলার রোনাল্ড কোয়েম্যান, যিনি সদস্য ছিলেন জোহান ক্রুয়েফের ‘ড্রিম টিম’-এর। আর, হোর্খে সাম্পাওলি। ব্রিটেনের কাগজগুলো আর্সেন ওয়েঙ্গারের নামও ভাসিয়ে দিয়েছে, নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখতে। আগামী মাস তিনেক, বা যত দিন বার্সেলোনা কোচের নাম চূড়ান্ত না জানাচ্ছে, চলবে জল্পনা!
No comments