দেবজিতকে নিয়ে আর ভাবছেন না, জানিয়ে দিলেন কনস্টান্টাইন
কাশীনাথ ভট্টাচার্য ● শিলিগুড়ি
ভারতের গোলরক্ষক হিসাবে দেবজিৎ মজুমদারের ভবিষ্যৎ কি সঙ্কটে?
শিলিগুড়ি কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিলেন স্টিফেন কনস্টান্টাইন। ভারতের জাতীয় দলের কোচ কিন্তু পরিষ্কার বলেছেন, ‘দেবজিৎকে নিয়ে আমার কোনও ভাবনাই নেই। ওকে একবার ডাকা হয়েছিল শিবিরে। ও আসেনি। আমি কী করব তা হলে? ভেবে নিতে হচ্ছে যে, ও জাতীয় দলের হয়ে খেলার ব্যাপারে আদৌ আগ্রহী নয়!’
ঘটনা, দেবজিৎকে ডাকা হয়েছিল জাতীয় শিবিরে। দেবজিৎ যাননি কারণ মোহনবাগান তাঁকে যেতে দেয়নি, আই লিগে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায়। পরে স্টিফেন আর তাঁকে ডাকেননি। স্বাভাবিক। জাতীয় দলের ডাক পেয়েও যে ফুটবলার আসেননি, কী করেই বা তাঁর উৎসাহ আছে, ধরে নেবেন জাতীয় দলের কোচ?
ফলে, জাতীয় দলের দরজা চিরতরে বন্ধ না হলেও এই মুহূর্তে যে আর চট করে জাতীয় দলে ডাক পাচ্ছেন না দেবজিৎ, পরিষ্কার। সে তিনি আইএসএল-এর চ্যাম্পিয়ন দলে থাকুন বা আই লিগের খেতাবি লক্ষ্যেই থাকুন। মাঠে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্সও যথেষ্ট নজরকাড়া। তাঁর একটি দুর্দান্ত ‘সেভ’ মোহনবাগানকে একটি পয়েন্ট পেতে সাহায্য করল শিলিগুড়িতে।
দেবজিৎ নিজে অবশ্য সেই ‘সেভ’ সম্পর্কে জানালেন, ‘ওটাই তো গোলকিপারের কাজ।’ তাঁর কোচ সঞ্জয় সেনও বলেছিলেন, ‘গোলকিপারকে ওই জন্যই লাস্ট লাইন অব ডিফেন্স বলা হয়।’
ঠিক যেমন, বড় ম্যাচের সেরা রেহনেশও বলে গেলেন, ‘সোনির কর্নারটা গোলে যেতে দিইনি বলে বেশি ভাল লেগেছে। শেষ মুহূর্তে দেখতে পেয়েছিলাম। বলটা ভেতরে ঢুকে আসছিল। ঠিক সময় বের করে দিতে পেরেছি।’
গ্যালারিতে কনস্টান্টাইনের উপস্থিতি কি তাঁকে বাড়তি অনুপ্রাণিত করেছিল?
রেহনেশ পরিষ্কার বললেন, ‘জানতামই না, তিনি ছিলেন গ্যালারিতে। আপনাদের কাছেই জানলাম। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভাল খেলতে সবাই-ই চায়, আমিও চেয়েছি। তবে, শুধু এই ম্যাচে নয়, সব ম্যাচেই মাঠে নামি সেরাটা দিতে। কিন্তু কোনও কোনও সময় কিছু ভুল হয়ে যায় তবু। খেলার নিয়ম মেনেই।’
দুই গোলরক্ষকের লড়াইয়ে কারও দলই জেতেনি। কিন্তু, কনস্টান্টাইন কোচ থাকাকালীন দেবজিতের ভারতীয় দলের তিনকাঠির তলায় দাঁড়ানো নিয়ে যে ঘোর অনিশ্চয়তা, সন্দেহ নেই!
No comments